ইয়াজউদ্দিন ফখরুদ্দীন মইনউদ্দিন মাসুদউদ্দিনের মৃত্যুদণ্ড চান ব্যানা হুদা

সংবিধান লঙ্ঘন করার অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমেদ, সাবেক সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ এবং জেনারেল মাসুদউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা।

রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ন্যাশনাল ইয়ুথ ফোরাম আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি এ দাবি জানান। এছাড়াও ব্যারিস্টার নাজমুল বলেন, যেসব সমস্যা নিয়ে আন্দোলন কর্মসূচী দেয়া হয়েছে কাল এসব সমস্যা নাও থাকতে পারে। কিন্তু আমাদের ইস্যু ধরে রাখতে হবে। কারণ ইসু্য ফুরিয়ে গেলে আন্দোলন শেষ হয়ে যাবে।
একই দিন বিএনপির আরেক প্রভাবশালী নেতা, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এমপি এক সংবাদ সম্মেলনে ফখরুদ্দীন-মইন উ আহমেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ওপর গণতদন্ত কমিশন গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন।

রাজধানীর মতিঝিলের নিজ কার্যালয়ে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, জরুরী অবস্থার সময় দেশের অর্থনৈতিক-সামাজিক-রাজনৈতিক যে ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণ করে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে আর কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে সাহস না পায়। তিনি বলেন, ফখরুদ্দীন, মইন উ আহমেদ, মাসুদ চৌধুরী, মতিন ও বারী ছাড়াও আর কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকলে গণতদন্ত কমিশন গঠনের মাধ্যমে তাঁদের প্রকাশ্য বিচারের ব্যবস্থা করা হবে।

মওদুদ বলেন, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধান ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে শহর-বন্দর থেকে গ্রাম পর্যন্ত হাজার হাজার ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে দেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে। দুর্নীতি দমনের নামে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও রাজনীতিবিদদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে। খালেদা জিয়াকে এক বছর কারাগারে রেখেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিষ দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে। আমরা অপেক্ষা করেছিলাম বর্তমান সরকার এদের বিচার করবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত এ সরকার বিচারের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।

মওদুদ বলেন, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সাবেক বিচারপতি, আইন বিশেষজ্ঞ. সাংবাদিকসহ সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের সমন্বয়ে গঠিত হবে তদন্ত কমিশন। জেলা পর্যায়েও এর কমিটি গঠন করা হবে বলে জানান মওদুদ।

বিকেলে ‘দেশের স্বার্থ রক্ষায় দেশনেত্রীর কর্মসূচী : দেশপ্রেমিকদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনাসভায় ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বলেন, ইয়াজউদ্দিন, ফখরুদ্দীন, জেনারেল মইন, জেনারেল মাসুদ সংবিধান লঙ্ঘন করে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করেছিলেন। সংবিধান লঙ্ঘন হচ্ছে সর্বোচ্চ আইন লঙ্ঘন করা। আর সর্বোচ্চ আইন লঙ্ঘনের শাস্তি ও হবে সর্বোচ্চ। এ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। কাজেই আমি মনে করি ইয়াজউদ্দিন, ফখরুদ্দীন, মইন এবং মাসুদের মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত।

হরতাল কর্মসূচী সরকার উৎখাত বা সরকার পতনের জন্য নয়, উল্লেখ করে নাজমুল হুদা বলেন, ২৭ জুনের হরতাল সরকারের প্রতি সতর্ক সঙ্কেত। জনগণের যেসব সমস্যা সমাধানের দাবিতে হরতাল দেয়া হয়েছে সরকার সেসব সমস্যার সমাধান করলে হরতাল এমনিতেই গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, আজ গ্যাস সমস্যা আছে, কাল নাও থাকতে পারে। বিদ্যুত সমস্যা আছে, কাল তা নাও থাকতে পারে। বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ হচ্ছে, কাল তা নাও হতে পারে। কিন্তু আমাদের ইসু্য ধরে রাখতে হবে। ইস্যু শেষ হয়ে গেলে আন্দোলন শেষ হয়ে যাবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি শফিউল আলম প্রধান ইতিহাস কালিমামুক্ত করতে জিয়া হত্যার বিচার দাবি করেন।

ফোরামের উপদেষ্টা ডা. রফিক চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা অংশ নেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আব্দুল লতিফ নেজামী, এ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম প্রমুখ।

[ad#co-1]