সেপ্টেম্বরে শুরু হবে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ

আগামী সেপ্টেম্বর থেকে চার লেনের পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হবে। সড়ক সেতুর পাশাপাশি একই সঙ্গে এক্সট্রা ডোজেজ রেলসেতুও থাকবে পদ্মা সেতুতে। এজন্য এটাকে দ্বিতল পদ্মা বহুমুখী সেতু বলে জানিয়েছেন সংশিস্নষ্টরা।

সেতুটি নির্মাণ হলে দেশের দড়্গিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৯ জেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। দড়্গিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য বহুল প্রতীড়্গিত ছিল এ সেতু। অন্যদিকে এশিয়ান হাইওয়ের জন্যও এ সেতু ব্যবহার করা সম্ভব হবে বলে ধারণা করছেন সংশিস্নষ্টরা। ২০১৩ সালের মধ্যে এ সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে। দ্রম্নত কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদার নিয়োগের সময় লোকবল ও যন্ত্রপাতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এ কারণে সেতুর ৩ দিক থেকে একই সঙ্গে কাজ শুরম্ন করা হবে। ৬ দশমিক ১৫ কি.মিটারের এ সেতুটি হবে দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সেতু। ২৩ দশমিক ৬ মিটার প্রস্থের সেতুটি ৪ লেনের। সেতু নির্মাণের টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। ইস্পাতনির্মিত চার লেনবিশিষ্ট সড়ক সেতুর নিচ দিয়ে হবে রেলসেতু। এ সেতুর প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৯৭০ কোটি টাকা (২ দশমিক ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। এ সেতু নির্মাণের জন্য বিশ্বব্যাংক ১২০ কোটি, এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক ৫৫ কোটি, জাইকা ৩০ কোটি, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক ১২ কোটি ও আবুধাবি উন্নয়ন ফান্ড ৩ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার আর্থিক সহায়তার প্রসত্মাব দিয়েছে। মুন্সীগঞ্জের মাওয়া এবং শরীয়তপুরের জাজিরা পয়েন্টে দেশের পদ্মা নদীর উপর দিয়ে দীর্ঘ এ সেতুটি নির্মিত হবে। এ সংক্রানত্ম ভৌত অবকাঠামো পর্যবেড়্গণের কাজ সর্বশেষ জোট সরকারের আমলেই শুরম্ন হয়েছিল। বিশেষ করে পদ্মার দু’তীরে ভূমির উচ্চতার বিষয়টি বিবেচনা করে সেতুর জন্য এ দুটি পয়েন্টকে নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ট্রাফিক সুবিধার পর্যাপ্ত ভূমি অধিগ্রহণে সুবিধাও ছিল এ দুটি পয়েন্টে। তাছাড়া, রেট অফ ইকোনমিক রিটার্নের বিষয়টিকে এখানে গুরম্নত্ব দেয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, রেট অফ ইকোনমিক রিটার্নটা ১৩ বছরের।

এদিকে পাটুরিয়া-গোয়ালন্দ পয়েন্টে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল) অনুমোদনের জন্য ইতিমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপড়্গের ষষ্ঠ প্রকল্প হিসেবে দ্বিতীয় সেতু ইতিমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদিত হয়েছে। এ সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ৬ কিলোমিটার। প্রস্থ ১৮ দশমিক ১ মিটার। দু’প্রানেত্ম সংযোগ সড়ক হবে ১৮ কি.মিটার। এটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার। এ প্রকল্পের অর্থের জন্য যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন চীন সফর করেছেন বলে সূত্র জানায়। তবে সেপ্টেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরম্ন করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, সেপ্টেম্বরে কাজ শুরম্ন হবে। এটা আমাদের টার্গেট। ঠিকাদার নিয়োগের বিষয়টি চূড়ানত্ম হবে। এরপর ছোটখাটো প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করতে আর বেশি দেরি হবে না।

তবে প্রথম পদ্মা সেতু সম্পন্ন হলে দড়্গিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৯টি জেলাসহ রাজধানী ও সারা দেশের সঙ্গে যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে। দেশের সর্ববৃহৎ পদ্মা সেতু এশিয়ান হাইওয়ে এএইচ-১ (এশিয়ান হাইওয়ে-১) এ অবস্থিত হওয়ায় দড়্গিণ এশিয়ায় অবস্থিত দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপস্নবিক পরিবর্তন আসবে। সেতু বিভাগের সমীড়্গা অনুযায়ী পদ্মা সেতু নির্মাণকাজ শেষ হলে প্রতিদিন এ সেতু দিয়ে দিনে ২১ হাজার ৩০০ যানবাহন যাতায়াত করতে পারবে। এছাড়া, ২০২৫ সাল নাগাদ এ সেতু দিয়ে ৪২ হাজারের মতো যান চলাচল করবে। উলেস্নখ্য, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ড়্গমতায় আসার পর থেকে পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ শুরম্ন হয়। এরপর চারদলীয় জোট সরকার ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এ সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই, অর্থ বরাদ্দ ও কয়েক দফা ফিজিবিলিটি পরীড়্গা-নিরীড়্গা হয়েছিল।

সুরেশ কুমার দাশ:

[ad#co-1]