মুন্সীগঞ্জের চরে ২শ’ হেক্টর জমিতে বোরোর বাম্পার ফলন

লাঠিয়ালদের আনাগোনা
লৌহজং উপজেলার পদ্মার চরে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। জমিতে পাকা ধানের ছড়া দেখে কৃষকের মুখে এখন হাসির অন্ত নেই। কিন্তু সেই হাসি ম্লান করে দিতে বসেছে একটি প্রভাবশালী লাঠিয়াল বাহিনী। তারা এলাকায় ভূমিদসু্য বলেও পরিচিত। সরকারী জমিতে ধানের আবাদ করলেও ধানের বাম্পার ফলন দেখে মহলটি এখন এসব জমির মালিকানা দাবি করে কৃষকের কাছে জমির ধানের বর্গা অংশ দাবি করছে। মহলটি একটি সিন্ডিকেট চক্রের মাধ্যমে এখন এসব জমির ফসলের ভাগ আদায়ে নানা তৎপরতা শুরম্ন করেছে। আর এ কারণেই এখন কৃষকের মুখের হাসি মস্নান হয়ে চোখের কোণে জমেছে অশ্রম্নর আভা। এলাকার সচেতন মহল বলছে, সরকার ইচ্ছে করলে এসব ভূমিদসু্যকে প্রতিরোধ করে সরকারী জমিতে উৎপাদিত কৃষকের ফসল হতে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করতে পারে।

লৌহজং উপজেলার গাঁওদিয়া থেকে জসলদিয়া পর্যনত্ম পদ্মার বুকে জেগে ওঠা প্রায় ২শ’ হেক্টর জমিতে এ বছর বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। হেক্টরপ্রতি সাড়ে ৪ থেকে ৫ টন ধান উৎপাদন হবে বলে আশা করছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। এ হিসেবে পদ্মার এ চরে ৯শ’ থেকে এক হাজার টন ধান উৎপাদন হবে। উৎপাদিত ধানের পুরোটায় ঘরে তুলতে পারবেন এমনটাই আশা করেছিলেন চরাঞ্চলের কৃষক। কিন্তু পাকা ধান কাটার এই মৌসুমে এসে কৃষকের মাথায় হাত পড়েছে। জমি নিজেদের দাবি করে কৃষকের নিকট তাদের জমির বর্গা ধান দাবি করছে। আর উৎপাদিত ধানের বর্গা অংশ না দিলে এসব কৃষকের জমির সব ধান কেটে নিয়ে যাবে বলে হুমকিধমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সাইন হাটি, ব্রাহ্মণগাঁও তেইটিয়া মৌজার কৃষক আজিজ আকন, জলিল ফকির, সেকান্দর মুন্সী, শুক্কুর ব্যাপারী। চরের শত শত কৃষকের অভিযোগ, প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ১৫-২০ জনের কয়েকটি দল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃষকদের নিকট জমির মালিকানা দাবি করে উৎপাদিত ধানের বর্গা অংশ দিতে নানান রকম ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।

লৌহজং উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, লৌহজং পদ্মার বুকে জেগে ওঠা চরের সব জমি সরকারের। কিন্তু বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে জমিতে কৃষি কাজের জন্য সরকার ডিসিআরের মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে এ সব জমি এক বছরের জন্য লিজ দিয়ে আসছিল।