মুন্সীগঞ্জে কোল্ড স্টোরেজে আলুতে পচন : কৃষকের মাথায় হাত

মুন্সীগঞ্জে বিদ্যুতের অভাবে সিরাজ কোল্ড স্টোরেজের পচে যাওয়া আলু
আলুর দাম কম, কোল্ড স্টোরেজের ভাড়া বৃদ্ধি, সংরক্ষণে জায়গার অভাবের পর এবার কোল্ড স্টোরেজসহ ঘরে-বাইরে কৃষকের আলুতে পচন ধরেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে মুন্সীগঞ্জে বিভিন্ন কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষিত আলুতে পচন দেখা দেয়। ছাড়া কৃষকের ঘরের মেঝেতে, মাঠের মধ্যে মাচা বানিয়ে ও জমিতে রাখা আলুতেও পচন ধরেছে। জেলার চরাঞ্চলের বেশির ভাগ কৃষকের পক্ষে কোল্ড স্টোরেজে জায়গার অভাবে আলু সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। তাই কৃষকরা নিজ জমিতে, ঘরের মেঝেতে, ঘরের বাইরে মাচা তৈরি করে আলু সংরক্ষণ করেন। গত সপ্তাহে বৃষ্টি হলে জমিতে পানি জমে আলু নিয়ে বিপাকে পড়েন কৃষকরা। জমিতে ও বাইরে মাচায় সংরক্ষিত আলুতে পচন দেখা দেয়। এ ছাড়া কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষিত আলুতেও বিদ্যুতের অভাব, বিভ্রাট ও পর্যাপ্ত ব্যবস্খাপনা না থাকায় পচন দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গল ও বুধবার জেলার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার আলদীবাজারের সিরাজ কোল্ড স্টোরেজে হাজার হাজার মণ আলু পচে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। সেখানকার কৃষকরা জানান, মালিকপক্ষের অব্যবস্খাপনা ও দায়িত্বহীনতার দরুন দু’দিনে এখানে প্রায় তিন শতাধিক বস্তা আলু পচে নষ্ট হয়েছে। আলুর বাম্পার ফলনের পর একদফায় উৎপাদিত আলুর ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হয় কৃষক। এরপর কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণের জায়গার অভাব ও সংরক্ষণের ভাড়া বাড়ানো হলে কৃষকের মুখের হাসি উড়ে যায়। আর এবার কোল্ড স্টোরেজের ভেতর রাখা আলুতে পচন ধরায় কৃষকের মাথায় হাত। সিরাজ কোল্ড স্টোরেজে আলু পচার কারণ হিসেবে বিদ্যুৎকে দায়ী করেছেন মালিকপক্ষ। তবে ২৪ ঘন্টা কোল্ড স্টোরেজ সচল রাখার প্রতিশ্রুতি কৃষকদের দেয়া হলেও অনেকের নেই নিজস্ব জেনারেটর। আবার তা থাকলেও বেশির ভাগ সময় ওইগুলো বিকলই থাকে। কখনো তেল খরচ বাঁচাতে সচল জেনারেটরও বìধ করে রাখে কর্তৃপক্ষ। তার খেসারত গুনতে হয় কৃষকদের।

জেলার আলদীবাজারের সিরাজ কোল্ড স্টোরেজে আলুতে পচন দেখা দিলে সেই আলু সরানো হয় তড়িঘড়ি করে।

এ বছর মুন্সীগঞ্জে ৩৬ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে প্রায় পৌনে ১২ লাখ টন আলু উৎপন্ন হয়। গত মৌসুমে জেলায় ১০ লাখ ৬৭ হাজার ৬৭০ টন আলু উৎপাদন হয়েছিল। জেলায় সাড়ে ৪ লাখ ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ৭১টি হিমাগারের মধ্যে ৫৯টি হিমাগার চালু রয়েছে। আলু উত্তোলন মৌসুমের শুরুতে হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করতে গিয়ে কৃষকরা পড়েছেন মহাবিপদে।

সিরাজ কোল্ড স্টোরেজের ম্যানেজার হাবিবুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, তীব্র লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ সরবরাহে মারাত্মক বিঘí ঘটায় কোল্ড স্টোরেজের চারটি হাওয়া দেয়ার মেশিন বিকল হয়ে গেছে। এতে মেশিন বিকল থাকায় পর্যাপ্ত হাওয়া দেয়া যায়নি সংরক্ষিত আলুতে। তবে কিছু আলুর ক্ষতি হয়েছে সত্যি। কিন্তু খুব বেশি হয়নি।

গোলাম মন্জুরে মাওলা অপু লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ)

[ad#co-1]