জাতীয় চার নেতাকে শেখ হাসিনাই হত্যা করিয়েছেন

শাহ মোয়াজ্জেমের আবিষ্কার
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সম্পর্কে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেছেন, আমাদের নেতা বঙ্গবন্ধুর লাশ পড়ে আছে সিঁড়ির ওপর। এমতাবস্থায় আমি শপথ না নিলে আমার ছেলের বউ বিধবা হতো, আমার মেয়ে পিতৃহারা হতো। বঙ্গবন্ধুর লাশ যারা সিঁড়িতে ফেলে রাখতে পারে, তারা আমার মতো শাহ মোয়াজ্জেমকে কি করতে পারে তা বলার দরকার হয় না। তিনি বলেন, অনেকেই বলেন, বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর আমাদের বঙ্গভবনে দেখা গেছে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, আমাদের বঙ্গভবনে দেখা যাবে না তো দেখা যাবে কি ঢাকা ক্লাবে। চার নেতা হত্যাকাণ্ডে নিজের এবং ওবায়দুর রহমানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, মামলার কোন সাক্ষীই আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়নি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির সাবেক মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমানের ৭১তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শাহ মোয়াজ্জেম তাঁর বক্তব্যে জাতীয় চার নেতাকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই হত্যা করিয়েছে_ এমন ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, চার নেতার একজনও যদি বেঁচে থাকতো তা হলে এই মহিলা কি প্রধানমন্ত্রী হতে পারত? না, পারত না। সে কারনেই পথের বাধা দূর করতে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, জেলখানা খালেদ মোশাররফের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কাজেই কোথায় বসে কারা এসব ঘটিয়েছে তা ভেবে দেখা দরকার।

শাহ মোয়াজ্জেম আরও বলেন, শেখ হাসিনাকে আমিই ইডেন কলেজের ভিপি বানিয়েছিলাম। তাঁর স্বামীকেও আমিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের ভিপি বানিয়েছিলাম। আর সেই তাঁকে (শেখ হাসিনা) নেত্রী মানতে হবে ভারতের নির্দেশে, আমি তা মানব না। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন অভিমুখে বিএনপির মিছিল নির্বাচন কমিশনে না গিয়ে বাংলামোটরে থেমে যাওয়ার সমালোচনা করে শাহ মোয়াজ্জেম বলেন, মিছিল বাংলামোটর কেন, নির্বাচন কমিশনেই যাওয়া উচিত ছিল। বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কেউ বাধা দিল না, অথচ আপনারা বাংলামোটর থেকেই চলে আসলেন, এটা তো ঠিক না। টেন্ডার নিজেদের লোকজনকে দেয়ার জন্যই বর্তমান সরকার বিদ্যুতের কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। স্বাধীনতার কোন অনুষ্ঠানে তাঁকে ডাকা হয় না অভিযোগ করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

‘গণতন্ত্রের সিংহপুরুষ কে এম ওবায়দুর রহমান স্মৃতি সংসদ’ আয়োজিত এ আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন সংসদের সভাপতি টি এম গিয়াস উদ্দিন আহমদ। আলোচনায় অংশ নেন ওবায়দুর রহমানের কন্যা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী শ্যামা ওবায়েদ, আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার আজম খান প্রমুখ।

[ad#co-1]

2 Responses

Write a Comment»
  1. Sha Moazzem Hossain Ek Jon Nity Vrashttoo Lok.Tiny Sayk Hashinar janno Ki Karaychayn Ta Balaychen.Kintu Banga Bandhu Sayk Majibur Rahaman Tar Janno Ki Karaychilen Ta Balayn Nee.

  2. জেল খানা খালেদ মোশারফের নিয়ন্ত্রনে ছিল । শাহ মোয়াজ্জেমের এরকম দাবি ভিত্তিহীন। নুরুজ্জামান মানিকের বই থেকে সঠিক তথ্য জানা যাবে এই ব্যপারে। শেষ বয়সে তিনি বিভ্রান্ত ছড়াচচছেন। যা কাম্য নয়। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করেনি আপনার মিথ্যাকে ক্ষমা করবে না জনাব শাহ ।