‘শিল্পীদের স্বার্থ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখবে এলসিএস’

গীতিকবি, সুরস্রষ্টা ও কণ্ঠশিল্পীদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য গঠিত হয়েছে এলসিএস গিল্ড। প্রতিষ্ঠানের সভাপতি সুরকার, সংগীত পরিচালক আলাউদ্দিন আলী। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রবিউল ইসলাম জীবন, ছবি তুলেছেন রিফাত

‘এলসিএস [লিরিসিস্ট, কম্পোজার, সিঙ্গার] গিল্ড’ সম্পর্কে বলুন।

গীতিকবি, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী_এই তিনজনের সমন্বয়ে একটি গানের সৃষ্টি হয়। তিনজন একটা পরিবারের মতো। গান শুনে শ্রোতা যখন মুগ্ধ হন, তখন আমরা তৃপ্তি পাই। কিন্তু এখানে অর্থকড়িরও একটা ব্যাপার আছে; পারিশ্রমিকের ব্যাপার আছে। আমরা হয়তো বিভিন্ন কম্পানির কাছ থেকে এককালীন কিছু টাকা পাই। মেধাস্বত্ব আইন অনুসারে এ তিনজনই এর বিভিন্ন লাভের অংশীদার। কিন্তু আমরা আমাদের প্রাপ্য ঠিকমতো বুঝে পাচ্ছি না। প্রাপ্য বুঝে পাওয়ার জন্য একত্র হয়েছি। পাশাপাশি নিজেদের ব্যক্তিগত সুখ, দুঃখ এবং নানাবিধ অসুবিধা নিয়েও এলসিএস গিল্ড কাজ করবে। মোট কথা, শিল্পীদের সব ধরনের স্বার্থ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখবে এই গিল্ড। এ জন্য আমরা সরকার, মিডিয়াসহ সবার সহযোগিতা চাই।

অতীতেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল; কিছুই তো হয়নি।

অনেকবারই অনেক সংগঠন হয়েছে। সেগুলোয় হয়তো নেতৃত্বের অভাব ছিল। আর সেগুলোর বেশির ভাগই ছিল সামাজিক প্রতিষ্ঠান। এখানে স্বার্থের একটা ব্যাপার আছে। আমাদের নেতৃত্বে যাঁরা আছেন, আমি তাঁদের ওপর ভীষণ আস্থাশীল। এখানে যাঁরা আছেন, সবাই দেশের গুণী শিল্পী। নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। আমি আশাবাদী, এঁদের সঙ্গে এ সংগঠনের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করতে পারব। সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করলে আমরা সফল হব।

অনেক আগেই তো এলসিএস গিল্ড গঠন করতে পারতেন।

নানা কারণে এত দিন হয়ে ওঠেনি। এখন অনেকটা দেয়ালে পিঠ ঠেকার মতো অবস্থা। আমাদের সম্পত্তি অনুমতি ছাড়া বিভিন্ন জায়গায় বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এটাকে প্রতিহত করা এবং নিজেদের উপযুক্ত পাওনাটা বুঝে পাওয়ার জন্যই আমাদের সংগঠিত হওয়া। প্রায় পাঁচ মাস আগে আমরা এ পরিকল্পনা নিই। প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জন করেছি।

সংগঠনের পরিধি কেমন?

আমাদের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যসংখ্যা প্রায় এক শ। সাবিনা ইয়াসমীন থেকে হালের মিলা পর্যন্ত আমাদের সদস্য। কিছু শিল্পী বাদে প্রায় সব শিল্পীই আমাদের সঙ্গে আছেন। যাঁরা সদস্য হননি, আশা করি, ভবিষ্যতে তাঁরাও হয়ে যাবেন। ধীরে ধীরে আমরা যন্ত্রশিল্পী, শব্দগ্রাহকসহ সংগীতের সঙ্গে আরো যাঁরা জড়িত, তাঁদেরও ডাকব।

নবীনদের সংখ্যা কম মনে হয়েছে।

হাবিব, বালামসহ নবীন কয়েকজন শিল্পীর নিজস্ব আইনজীবী আছেন। তাই তাঁরা এখানে আসছেন। আমরা বরং নবীনদের দেখেই স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়গুলো শিখছি।

এর ফল নিয়ে আপনার ব্যক্তিগত মতামত কী?

মেধাস্বত্ব আইন পৃথিবীজুড়ে স্বীকৃত একটি আইন, যা পৃথিবীর সব দেশেই যথাযথভাবে সম্মানসহ পালন করা হয়। বাংলাদেশ পৃথিবীর বাইরের কোনো দেশ নয়। আশা করি, এ আইনের মাধ্যমে আমরাও আমাদের উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারব।

অনেকে বলেন, শিল্পীদের মধ্যেই একতা নেই।

আমরা জানি, ‘দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো।’ এ কথা মাথায় রেখেই আমরা আমাদের কার্যকরী কমিটি গঠন করেছি। শিল্পী নামে কিছু অশিল্পীও আছেন। তাঁদের প্রতি আমাদের সজাগ দৃষ্টি আছে। তাই বলে তাঁদের সংগীত-সমাজচ্যুত করতে চাই না। আমার বিশ্বাস, এই একতা ভাঙার কোনো উপায় নেই।

প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোর যে সংগঠন আছে, তারা কি এ বিষয়ে জানে?

তাদের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক। অ্যালবাম বাজারজাত করা ছাড়া অন্য বিষয়ে তাদের সঙ্গে আমাদের আইনগত কোনো সম্পর্ক নেই। বৃহৎ কোনো স্বার্থ বা কর্মকাণ্ডে প্রয়োজন হলে আইন অনুযায়ী এবং সম্মানের সঙ্গে তাদের আমরা ডাকব।

কী কী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন?

বেতার-টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে স্থগিত হয়ে যাওয়া, রয়্যালটি ফিরিয়ে আনা, শুদ্ধ ও সুস্থ সংগীত প্রচার ও প্রসার, দুস্থ শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানো, এলসিএল গিল্ড পরিবারের সদস্যদের সন্তানদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করা, সংগীত স্কুল প্রতিষ্ঠা, নিজেদের আবাসন ব্যবস্থা_এ বিষয়গুলো আপাতত বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা করেছি আমরা।

এলসিএস গিল্ডের সদস্যরা তো এসএসএলইতেও ছিলেন।

এলসিএসের প্রায় সদস্যই এসএসএলইর সদস্য ছিলেন। তাদের সঙ্গে আমাদের যে চুক্তি হয়েছিল, তা তারা রক্ষা করেনি। তাই নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য সরে এসেছি।

আপনার সংসার কেমন চলছে?

তিন মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে আমার সংসার। তিন মেয়ে_আজমেরী আলী, আফরিন আলী ও আলিফ আলাউদ্দিন। সবাই বিবাহিত। ছেলে শওকত আলী রানা একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে কাজ করে।

নতুন কী কাজ করছেন?

সাত-আটটি চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করছি। পাশাপাশি এলসিএস নিয়ে এখন খুব ব্যস্ত।

আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। কেমন অনুভূতি?

এগুলোই আমার সংগীত জীবনের অর্জন, সার্থকতা। গীতিকার, সুরকার দুটোতেই আমি এ পুরস্কার জিতেছি। সারা দিন গান নিয়েই পড়ে থাকি।

বিস্তারিত

[ad#co-1]