দেখো রোমানার বাহার!

রোমানা মিডিয়ায় এসেছেন সেই ছোটবেলায়। বর্তমানে একাধারে তিনি একজন সফল মডেল, টিভি ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। আগামীকাল মুক্তি পাবে তাঁর নতুন ছবি ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’। তাঁকে নিয়ে লিখছেন দীপ কুমার। ছবি আশীষ সেনগুপ্ত
।মা-বাবার আদুরে মেয়ে রোমানা। ছোটবেলায় ভালোবাসতেন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে সাজাতে। কপালে টিপ, চোখে কাজল পরে থাকতে তাঁর খুব ভালো লাগত। আরো ভালো লাগত টিভিতে বিজ্ঞাপন দেখতে। বিজ্ঞাপন শুরু হলে চোখের পলক যেন আর পড়তে চাইত না। মা-বাবা দুজনেই ব্যাপারটি লক্ষ করলেন। বুঝলেন তাঁদের মেয়ে অন্যদের চেয়ে একটু আলাদা। অবশ্য মা-বাবা তখনো জানতেন না সত্যি একদিন মেয়ে অভিনেত্রী হবে।

শোবিজে প্রায় ২০ বছর হলো রোমানার। ক্লাস ওয়ানে পড়ার সময় করেছিলেন বেলি কেডসের বিজ্ঞাপন, আর আগামীকাল মুক্তি পাচ্ছে তাঁর ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’। রোমানা বলেন, ‘আমি শিশুশিল্পী হিসেবে বিজ্ঞাপনে কাজ শুরু করেছিলাম_তবে এরোমেটিক সাবানের বিজ্ঞাপনই আমাকে জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে।’
রোমানা ছোট পর্দা নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না। সব সময় ভাবতেন কখন ড্রয়িংরুম ছাড়িয়ে দর্শককে বাইরে নিয়ে যাওয়া যায়, ঠিক এ সময় তৌকীর আহমেদ তাঁর ‘জয়যাত্রা’র কাজ শুরু করার কথা ভাবছেন। তৌকীরই তাঁকে প্রথম প্রস্তাব দিলেন। সুযোগ হাতছাড়া না করে সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেলেন। “তৌকীর ভাই সম্পর্কে আমার দুলাভাই হন। ভাবলাম, শুরুটা তাঁর সঙ্গে করলে কোনো ভুলভ্রান্তি হলেও শুধরে নিতে পারব। তা ছাড়া স্ক্রিপ্টটাও লোভনীয়। আমি দুলাভাইকে বলে নিলাম, ‘দেখেন, এত দিন কাজ করেছি টিভি ক্যামেরায়। থার্টি ফাইভের কিছুই জানি না, ভুল হলে মারবেন, কিন্তু বকাঝকা করতে পারবেন না। তাহলে ইউনিটেই কাঁদব।’ দুলাভাই শুধু হাসলেন। অবশেষে ‘জয়যাত্রা’ করলাম। আমার চরিত্র এবং অভিনয় গুণীজনদের ভালো লাগল। পি এ কাজল এ ছবি দেখেই আমাকে তাঁর ‘এক টাকার বউ’ ছবিতে নিলেন।”

রোমানাকে ভাগ্যবতীই বলা যায়। তাঁর প্রথম বাণিজ্যিক ছবিই ব্যবসাসফল। এ ছবিটি অন্য দিক থেকেও রেকর্ডধারী। বাংলাদেশে একসঙ্গে ৮০টি প্রেক্ষাগৃহে রিলিজ পাওয়া ছবি এটিই। তা ছাড়া ছবি মুক্তির দিন? “আমি একদম হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় যায় অবস্থা। চারদিক কেমন অন্ধকার অন্ধকার লাগছিল। আমার স্বামী অবশ্য আমাকে সাহস দিচ্ছিলেন। যেন ছবিটি আমার সন্তান_আমি মা আর ও বাবা। একসময় বলল, ‘তুমি টেনশন করো না। আমি হল থেকে আসছি।’ খানিকপর এসে বলল, হল ভর্তি মানুষ, যেন জোয়ার বইছে, সে নিজেও টিকিট পায়নি। শুনে সাহস ফিরে পেতে শুরু করলাম।”

বাস্তবেও রোমানার স্বামী সবদিক থেকে তাঁকে সাহস দেন। তিনিই রোমানার বেস্ট ফ্রেন্ড। তা ছাড়া মা-বাবা তো আছেনই। পারিবারিক বন্ধনটা খুব শক্ত। যার কারণে একইসঙ্গে বিজ্ঞাপন, নাটক ও সিনেমার এত কাজ করা সম্ভব। তবে এখন ছোট পর্দার কাজ একেবারে কমিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দিন তো মাত্র ২৪ ঘণ্টা। ফিল্মে সময় দিতে দিতেই তা চলে যায়। তা ছাড়া ফিল্মে আউটডোরে যেতে হয়, সে ক্ষেত্রে নাটকে শিডিউল মেলানো সম্ভব হয় না।’ রোমানা অবসর সময়ে ভালোবাসেন ঘুমাতে। তবে রান্নার প্রতিও তাঁর ভালোবাসার কমতি নেই। সবচেয়ে ভালো রাঁধেন গুড়ের পায়েস। তাঁর আরেকটি গুণও আছে। বিক্রমপুরের এ মেয়ে বাংলাদেশের যেকোনো আঞ্চলিক ভাষা শুনলেই বলে দিতে পারেন সেটি কোন অঞ্চলের ভাষা। তিনি নিজের মুক্তি পাওয়া সাতটি ছবিই পর্দায় দেখেছেন। ইচ্ছে আছে ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’ দেখার। এ ছবিটি তাঁর কাছে একটু অন্য রকম। তিনি বলেন, ‘আমার আগের ছবিগুলোর চেয়ে এ ছবির চরিত্রটি সম্পূর্ণ আলাদা। জানিনা দর্শকরা কিভাবে নেবেন। ভালো হোক আর খারাপ হোক, সেটা আমার ক্যারিয়ারে অবশ্যই প্রভাব ফেলবে।’ রোমানা নিজের অভিনয় নিয়ে এখনো সন্তুষ্ট নন। প্রতিনিয়ত নিজেকে ভেঙে গড়ার চেষ্টায় আছেন তিনি। নায়িকা নয়, অভিনেত্রী হওয়াই তাঁর লক্ষ্য।

[ad#co-1]