ভাতিজির সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের কারণে খুন হন ব্যবসায়ী বাবু

বাবুর মরদেহ
ভাতিজির সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের কারণে খুন হয়েছেন কাপড় ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান বাবু। বাবুর দুই চাচাত ভাই ও ভাতিজা এ হত্যাকা- ঘটিয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বাবুর ভাতিজা ঘাতক চক্রের অন্যতম সদস্য রাজু চাঞ্চল্যকর এ তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এ হত্যাকা- ছিল পরিকল্পিত।

উল্লেখ্য, ২৬ এপ্রিল রাতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে মালিবাগ এলাকায় নিহত হন কাপড় ব্যবসায়ী বাবু। রাজু পুলিশকে জানান, তার ছোট বোন নূপুরের সঙ্গে চাচা বাবুর অবৈধ সম্পর্ক ছিল। বাবু নূপুরকে নিয়ে একবার পালিয়ে যান। তারা বেশ কিছুদিন কক্সবাজারে অবস্থান করেন। নূপুরের বাবা মোবাইল কাদির মেয়েকে বাবুর কবল থেকে উদ্ধার করে অন্য ছেলের সঙ্গে তার বিয়ে দেন। কিন্তু তারপরও নূপুর ও বাবুর সম্পর্কের অবসান হয়নি। নূপুর প্রায়ই ছুটে যেত চাচা বাবুর কাছে। এতে আরো ক্ষিপ্ত হন নূপুরের পরিবারের লোকজন। তখন বাবুর দুই চাচাত ভাই মোবাইল কাদির, মাসুদ রানা লরেন্স ও ভাতিজা রাজু তাকে হত্যা করতে পরিকল্পনা করে। এ হত্যাকা-ের পর মোবাইল কাদিরচক্র বাবুর বাবাকে প্রলোভন দেখিয়ে তার পুরনো শত্রু মতিঝিলের আলোচিত শিল্পপতি আলহাজ আবদুল কাদির হত্যা মামলার বাদী হাজী ইউসুফ চেয়ারম্যান, তার ভাই আবুল হোসেন ও ব্যবসায়ী আবুল বাসারকে মামলার আসামি করে।

জানা গেছে, ২০০১ সালের ১৭ অক্টোবর দিন-দুপুরে নয়াপল্টন এলাকার নিজ অফিসে খুন হন ব্যবসায়ী আলহাজ আবদুল কাদির। মোবাইল কাদির এ হত্যাকা- ঘটায়। এ ঘটনার পর নিহত মওলানা কাদিরের ভাই হাজী ইউসুফ একটি মামলা করেন। কিন্তু মামলার এজাহারে কোনো আসামির নাম ছিল না। ওই সময় মামলাটি ‘গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলা’ হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গঠিত মনিটরিং সেলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তদন্তকালে ডিবি জানতে পারে মোবাইল কাদির ও নিহত মওলানা কাদিরের বাড়ি বিক্রমপুরের শ্রীনগর থানায়। এলাকার মামার বাজারের মালিকানা ও স্থানীয় একটি স্কুলের কমিটি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষ মোবাইল কাদির ও তার ভাই মাসুদ রানা লরেন্স মওলানা কাদিরকে খুন করে। ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকে মোবাইল কাদির। ২০০৪ সালের ২৯ জানুয়ারি মামলার রায় দেন আদালত। মোবাইল কাদির, মাসুদ রানা লরেন্সসহ সাতজনের ফাঁসি ও চারজনের জাবজ্জীবন কারাদ- হয়। রায়ের পর ফাঁসির আসামি মোবাইল কাদির নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ না করেই পলাতক অবস্থায় হাইকোর্টে আপিল করে। হাইকোর্ট প্রধান আসামি মোবাইল কাদিরসহ তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সাজা দেন। পরে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ ২১ মার্চ এক রায়ে মোবাইল কাদির ও আবদুর রাজ্জাককে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন এবং দুজনের পুনরায় ফাঁসির রায় বহাল করেন। এরপরই প্রতিশোধ নিতে মোবাইল কাদির কৌশলে চাচাত ভাই বাবুকে হত্যা করে হাজী ইউসুফ চেয়ারম্যান, আবুল বাশার ও আবুল হোসেনকে আসামি করে।

তদন্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন হাওলাদার জানান, রাজু তার চাচা বাবুকে খুনের পরিকল্পনা ও হত্যাকা-ের ব্যাপারে অনেক তথ্য জানিয়েছে। হত্যাকা- সফল করতে পাঁচজন অংশ নেয়। এদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। শিগগির তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

[ad#co-1]