গজারিয়া গণহত্যা দিবস আজ

আজ গজারিয়া গণহত্যা দিবস। ১৯৭১-এর এই দিনে গজারিয়ায় পাক হানাদার বাহিনীর লোমহর্ষক নরকীয় হত্যাযজ্ঞে শহীদ হন প্রায় ৩০০ ছাত্র, মুক্তিযোদ্ধা ও বুদ্ধিজীবী। তাই এই দিনের কথা গজারিয়াবাসী আজও ভুলেননি।

’৭১-এর ২৫ মার্চ রাজধানী ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশে পাকসেনারা ইতিহাসের ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে। সেদিন সারাদেশের মতো গজারিয়ার মুক্তিযোদ্ধারা পাকসেনাদের সঙ্গে বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। গজারিয়াকে হানাদারমুক্ত করে ১৪ ডিসেম্বর।

’৭১-এর ৯ মে গজারিয়াবাসীর ওপর চলে গণহত্যা। এদিন প্রায় ১১০ জন ছাত্র, মুক্তিযোদ্ধা ও বুদ্ধিজীবীকে গজারিয়া সোনালি মার্কেটের কাছে রাস্তার ওপর দাঁড় করে হত্যা করা হয়। ৯ মে নীরব-নিস্তব্ধ রাতের মৌনতা শেষে ভোরের সূর্য ওঠার সময় পাকসেনাদের মর্টার ও কামানের আওয়াজ এলাকাবাসীকে আতঙ্কগ্রস্ত করে তোলে। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ে প্রায় ৩৬০ জন এলাকাবাসী শহীদ হন পাকসেনাদের হাতে। ১১০ জনকে সারিবদ্ধভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল সকাল ৬টায়, সঙ্গে সঙ্গেই এ হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ে। সেদিন শহীদদের আত্মীয়-স্বজনের কান্নায় বাতাসে ভারি করে তুলেছিল।

শহীদদের ১০/১২ জন করে এক কবরে মাটি দেয়া হয়। পাকসেনারা সেদিন হত্যা করেও ক্ষান্ত হয়নি। এরপর চলে গ্রামবাসীদের ওপর নির্যাতন, নারী ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ এবং লাখ লাখ টাকার সম্পদ লুণ্ঠন। সেদিন গোসার চর, গজারিয়া, বাঁশগাঁও, সোনারকান্দি, বালুচর, প্রধানের চর গ্রামের এ হত্যাযজ্ঞের ভীতসন্ত্রস্ত নারী-শিশু-আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা প্রাণভয়ে পালাতে থাকে ফুরদি নদীর পূর্ব পাড়ে।

পরদিন ১০ মে গজারিয়ার মুক্তিপাগল জনতা ও মুক্তিযোদ্ধারা শক্তিশালী ক্যাম্প গঠন করেন সোনালি মার্কেটে। থানার প্রতিটি স্থানে শুরু হয় যুদ্ধ আর প্রতিরোধ সংগ্রাম। একটানা ৮ মাস যুদ্ধ করে শত্রুমুক্ত হয় গজারিয়া। তাই প্রতি বছর ৯ মে গজারিয়াবাসী এ দিবসটি পালনে নানা কর্মসূচি নেয়। এবারও নিয়েছে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, সেই গণহত্যার বধ্যভূমিতে আজও গড়ে ওঠেনি কোনো স্মৃতিচিহ্ন।

আমার দেশ

——————————————————————-

গজারিয়া গণহত্যা দিবস আজ

মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল ॥ “এমন নির্মম মানব হত্যা যারা চালাইছে তাদের কী বিচার হবে না? আর এই বিচারের জন্য সরকার যে উদ্যোগ নিচ্ছে তাতে বাধা দিচ্ছে করা? সেই দোসরদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে।” এই দাবি শহীদ পরিবারের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ আহমেদের। ‘৭১-এর ৯ মে গজারিয়ার গণহত্যার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখন সময়ের দাবি।

এই গণহত্যায় স্বজন হারিয়েছেন রেজিয়া বেগম (৬০)। পাকি বাহিনীর হামলায় রেজিয়া বেগমের স্বামী বাড়ির পাশের পাটক্ষেতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানেই স্বামীর পরিবারের ৭ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। এই গোসাইরচর গ্রামে ৫৮ জনসহ এই দেশীয় দোসরদের সহযোগিতায় একই দিনে আশপাশের গ্রামের নিরীহ ৩৬০ বাঙালীকে হত্যা করে লুটপাটসহ নানা নারকীয় তা-ব চালায় পাক হানাদার বাহিনী।

কিন্তু সেই দোসর রাজাকারদের পরিবার এখন ধনকুবের । আর শহীদ পরিবারের সদস্যরা নানা কষ্টে ধুঁকে ধুঁকে মরছে। পাশর্্ববতর্ী নয়াকান্দিগ্রামে এই ঘটনায় শহীদ ইদ্রিস আলী দর্জির বিধবা স্ত্রী রাবিয়া বেগমের কান্না দিন দিন বেড়েই চলেছে। তারা মৃতু্যর আগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দেখতে চান।

জারিয়া, নয়নগর, বালুরচর, সোনারকান্দি, কাজীপুরা, বাঁশগাঁও, ফুলদী, প্রধানেরচর এসব গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে ‘৭১-এর পাকি বাহিনীর নারকীয়তার নানা তা-ব।

গোসাইরচর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল খালেক আরও জানান, এই গণহত্যার আগে গজারিয়া হাই স্কুলে ৫৪ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে একটি সভা হয়। এই খবর শুনেই গজারিয়া গ্রামের রাজাকারর খোকা চৌধুরী, সাম চৌধুরী, গফুর চৌধুরী এই গণহত্যায় মদদ দিয়ে পাকি বাহিনীকে নিয়ে আসে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঘর চিনিয়ে দিয়েছে ফালু নামের এক রাজাকার। আর প্রথমে হামলা হয় তাঁর বাড়িতে। তাঁর ভাই মোয়াজ্জেমসহ পরিবারের ৭ জনকে হত্যা করে।

এই উপলক্ষে গজারিয়ায় আজ রবিবার শহীদদের স্মরণে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি থাকছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা।

জনকন্ঠ

[ad#co-1]