মুন্সীগঞ্জে ছয় নারীসহ দেড় শ’ রোকন মাঠে, গোপন তৎপরতা

‘স্বাধীনের পরই বিচার হয়ে গেছে, অহন আবার কী?’
যুদ্ধাপরাধী বিচার প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে জামায়াতের রাজনীতি চাঙ্গা করতে মুন্সীগঞ্জে দেড় শ’ রোকন এখন মাঠে। তারা নিয়মিত গোপনে বা অন্য কাজের উছিলায় জনসমর্থন যোগাচ্ছে। এর মধ্যে ৬ নারী রোকন সদস্য রয়েছে। নারী রোকন সদস্যের নেতৃত্বে ২৫ জনের একটি মহিলা গ্রুপ জামায়াতের রাজনীতি প্রসারে নারী সদস্য বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে।

রোকনদের এই গণসংযোগের কথা স্বীকার করে পৌর জামায়াতের নায়েবে আমির এ্যাডভোকেট আবুল হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলবে এই রোকন দাওয়াত। তিনি মঙ্গলবার বিকালে কথোপকথনে দাবি করেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়ে গেছে স্বাধীনের পরপরই। তখনই যুদ্ধে যারা বিরোধিতা করেছেন তাদের হত্যা করা হয়।

এই জামায়াত নেতা বলেন, বিরাট মনের অধিকারী শেখ মুজিবুর রহমান। জাতির পিতা তিনি। যারা কিছু যুদ্ধাপরাধী ছিলেন তাদের তিনি (বঙ্গবন্ধু) ক্ষমা করে দিয়ে দেশ গঠনে কাজ করতে বলেন। তিনি প্রশ্ন করেন,”অপরাধীদের তো মেরেই ফেলেছে, শাস্তিও দিছে,অহন আবার কী?’

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়াকে ক্ষমতার জোরে অন্যায় চেষ্টা আখ্যা দিয়ে এ্যাডভোকেট আবুল হোসেন বলেন, ‘জামায়াতকে উদ্দেশ্যমূলক ভাবে ফাঁসাতেই জামায়াত বিরোধীরা আদালতের নামে ১০ কোটি টাকা খরচ কইরা হালায়,পারলে ফাঁসির দড়ি কিনা হালায়।’ গত নির্বাচনে জামায়াত কোন আসনেই জামানত হারায়নি, এমনকি নিজামী হারলেও এক লাখ ভোট পায় বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, যদি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হয় তবে তা জঘন্য ইতিহাস হয়ে থাকবে।

এদিকে গত শনিববার বেলা ১০টায় মুন্সীগঞ্জ শহর জামায়াতের নায়েবে আমির মোঃ আবুল হোসেন শহরের একটি ফাস্ট ফুড রেস্টুরেন্টে বসে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। গণসংযোগের অংশ হিসেবে এ মতবিনিময় করা হয়। দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি আব্দুল সালাম জানান, এই মতবিনিময়ে তিনিসহ মোট তিন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। আবুল হোসেন আরও জানান, বর্তমান প্রেক্ষাপটে কৌশলগত কারণে জামায়াত এভাবে জনসংযোগ করছে।

গত ২১ এপ্রিল মুন্সীগঞ্জে সহযোগী সদস্য সংগ্রহ ও গণসংযোগ কার্যক্রম শুরু করে জামায়াত। আগামী ৮ মে পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতের পৌর নায়েবে আমির। তিনি আরও জানান, সদস্য সংগ্রহ ও গণসংযোগে অংশ নিতে একাধিক গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে রোকন সদস্যদের। প্রতি গ্রুপে দু’জন করে কর্মী রয়েছে। আর এক একটি গ্রুপ দিনরাত মিলে ৩ ঘণ্টা সময় ধরে রাজনৈতিক তৎপরতা চালাবে।

যুদ্ধাপরাধী ও জামায়াত রাজনীতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে জেলার পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, জামায়াত নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে রয়েছে। তারা গোপনে কাজ চালাচ্ছে বলেও মন্তব্য পাওয়া গেছে জেলার একটি গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মীর কাছ থেকে। অথচ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিমিয়সহ সদস্য সংগ্রহ ও গণসংযোগ চালানোর মতো রাজনৈতিক কর্মতৎপরতায় তথ্য নেই ঐ গোয়েন্দা সংস্থার কাছে। এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মোঃ সফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানান, তিনি জানেন না জামায়াতের এই তৎপরতার কথা।

[ad#co-1]

One Response

Write a Comment»
  1. Munshiganj er manus sara Bangladeshay ekto betikrami.Tara kono din dharmo bayboshaeedayr samarthon karbay na.