ভাই কলা খাবেন ?

কলা খাবেন? ফাইন ঘটক! আই হেড সালাম। পৃথিবীতে কে আগে আসছে, মুরগি না ডিম। কোথাও বের হলেই ভক্তদের কাছ থেকে নিজের দেয়া এমন সব নাটকের সংলাপ প্রতিনিয়তই শুনতে হয় অভিনেতা আবদুল কাদেরকে। অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজের মধ্যে থাকলেও স্বস্তি নেই তার। ভক্তরা তাকে দেখলেই বলতে থাকেন এসব কথা। তবে এ জন্য মোটেও দুঃখ পান না তিনি। করেন না বিরক্তিবোধও। কারণ ভক্তরা তাকে ভালোবাসেন বলেই তার নাটকের সংলাপ মনে রাখেন এবং তাকে সামনে পেয়ে একটু আনন্দ করতে চান। এটাই অভিনয়ের স্বার্থকতা। জানালেন আবদুল কাদের। বললেন, জীবনে অনেক নাটকে অভিনয় করেছি। নাটকে আমার যে চরিত্রগুলো থাকে। সেগুলো সবই হাসির। তাই আমাকে আমার ভক্তরা মনে রাখেন। এতে বিন্দুমাত্র বিরক্ত হই না আমি। কারণ ভক্তরা যদি আমাকে মনেই না রাখতো তাহলে অভিনয়ের কোনো মজা থাকতো না। অনেক সময় দেখা যায় গুরত্বপূর্ণ কোনো কাজে গেলাম, সেখানেও মানুষ আমাকে দেখে মজা করছে। আমি মনে করি এটা আমার প্রতি তাদের ভালোবাসা।

এমন অনেক ঘটনা রয়েছে। এর মধ্যে ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকের কলা খাওয়ার ঘটনাটি ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয়। এ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে নানা ঘটনাও ঘটেছে। একবার আমার এক আত্মীয় গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রোগী প্রায় মারা যাওয়ার মতো অবস্থা। খবর পেয়ে আমি তাকে দেখতে গেলাম। আমাকে দেখে হাসপাতালের নার্স প্লেটে করে কলা নিয়ে এসেছেন। এসেই প্লেটটি আমার মুখের সামনে ধরে বলছে, ভাই কলা খাবেন? আমি তখন কাঁদবো না হাসবো। কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না। আবার কিছু না বললেও সমস্যা। তাই আমি মেয়েটিকে বলালম, না এখন কলা খাবো না।

হুমায়ূন আহমেদর পরিচালনায় ‘নক্ষত্রের রাত’ নাটকে আমি ছিলাম দুলাভাই। শ্বশুর বাড়িতে গেলেই শালা-শালিরা আমাকে ছালাম করতো। আমি বলতাম আই হেড সালাম। আবার টাকাও দিতাম। এরপর কোথাও গেলেই মানুষ আমাকে ছালাম করতো। একদিন এক মার্কেটে গিয়েছিলাম। হঠাৎ দু’টি মেয়ে এসে আমার পায়ে ধরে ছালাম করে আমার দিকে হাত পেতে রইলো। বললো, দুলাভাই টাকা দেন। আমিতো অবাক! কিছু না বুঝে উঠার আগেই পকেট থেকে টাকা বের করলাম। এরপর ওরা বললো না ভাই, টাকা লাগবে না। আমি আমার বান্ধবীদের সঙ্গে বাজি ধরেছি আপনাকে সালাম করবো। আবার কোথাও গেলেই মানুষ বলতো, এই যে ভাই ফাইন ঘটক। আমাকে একটা ভালো মেয়ে দেখে দেন না। চলার পথে প্রতিনিয়তই আমার এমন ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়। অনেক কষ্টের মধ্যে থাকলেও দেখা যায় মানুষ সামনে এসে মজা করছে। এটাও হয়তো অনেকের ভাগ্যে জুটেনি। আমি এতে বিন্দু মাত্র কষ্ট পাই না বরং বিষয়টি এনজয় করি। কারণ তাদের ভালোবাসাই আমাকে এতোদূর নিয়ে এসেছে।

দিনের শেষে

[ad#co-1]