মুন্সীগঞ্জ ইসলামিক ফাউন্ডেশন দখল

মুন্সীগঞ্জ ইসলামিক ফাউন্ডেশন দখল হয়ে গেছে। জাতীয় ফাউন্ডেশনের মাস্টার ট্রেইনার সরওয়ার হোসাইন গং-এর নিয়ন্ত্রণে এখন মুন্সীগঞ্জ ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক শামীম মো. আফজালকে ম্যানেজ করে মুন্সীগঞ্জ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক আবদুলস্নাহ আল মাসউদকে বদলি করিয়ে সরওয়ার গং এখন মুন্সীগঞ্জ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একচ্ছত্র অধিপতি। সরওয়ারের নানা রকম বিতর্কিত ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে বাধা দেয়ায় তাকে বদলি করে সরিয়ে দেয়া হয়। ওদিকে নানা কুকর্ম ও লাম্পট্যের বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেলে শহর সংলগ্ন নয়াগাঁও জামে মসজিদের মুসল্লিরা মাস্টার ট্রেইনার ইমাম সরওয়ার হোসাইনের পেছনে নামাজ আদায় করতে না চাইলে প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে জোর করে ইমামতি করতে চায়। গত ১৬ই এপ্রিল পুলিশ নিয়ে সরওয়ার নয়াগাঁও জামে মসজিদে জোরপূর্বক প্রবেশ করে ইমামতি করার জন্য। এ সময় মসজিদ কমিটিসহ এলাকার শতভাগ মুসল্লি ইমাম সরওয়ারকে অপমান-অপদস্থ করে মসজিদ থেকে বের করে দেয়। পরে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় ইমাম সরওয়ার পালিয়ে রক্ষা পায়। মুসল্লিরা মসজিদে তালা ঝুলিয়ে দিলে পণ্ড হয়ে যায় জুম্মার নামাজ। এ নিয়ে ১৭ই এপ্রিল রাত ৮টায় মসজিদ কমিটির সঙ্গে সাবেক জেলা প্রশাসক মো. মোশারফ হোসেন এক মতবিনিময় সভা করেন। সভায় হুইপের নির্দেশে জেলা প্রশাসক মসজিদ কমিটির সদস্যদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়ে বলেন, সরওয়ার হোসাইনই ওই মসজিদে ইমামতি করবে। কেউ আপত্তি বা বাধা দিতে পারবে না। ডিসি’র এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয় মসজিদ কমিটির উপস্থিত সদস্যরা। এ উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে পরদিন ১৮ই এপ্রিল মসজিদ কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি হাজী জহুর উদ্দিন দেওয়ান মুন্সীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে ১৯শে এপ্রিল দাঙ্গা পুলিশ নিয়ে ইমাম সরওয়ার আসর নামাজ আদায়ে মসজিদে প্রবেশ করেন। এ সময় মুসল্লিরা নামাজ বয়কট করে মসজিদ সংলগ্ন রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে। নামাজ শেষে সরওয়ার পুলিশের সহযোগিতায় মসজিদ ত্যাগ করে। একই দিন মসজিদ কমিটি এক জরুরি সভা করেন। পরিস্থিতি ক্রমাগত অবনতির আশঙ্কায় এবং এলাকার শতভাগ মুসল্লি বিতর্কিত ওই ইমামের পেছনে কোন মতেই নামাজ আদায়ে রাজি না হওয়ায় ডিসি’র সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে ২৩শে এপ্রিল ইমামকে বিদায় করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের এ সিদ্ধান্ত জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে অবগত করা হয়। খবর পেয়ে এর আগেই ইমাম সরওয়ার মসজিদে যাওয়া বন্ধ করে দেন। এরপর ২৩শে এপ্রিল সকালে মসজিদকে পাপমুক্ত করতে এলাকার মুসল্লিরা গরুর দুধ দিয়ে মসজিদ পরিষ্কার করেন। ওদিকে মুন্সীগঞ্জ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক জিয়াউল হক শামীমও জিম্মি হয়ে রয়েছেন সরওয়ার বাহিনীর কাছে।

ইতিমধ্যে মুন্সীগঞ্জ ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে নিজের দখলে নিয়েছেন। তার নানা রকম অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতে গিয়ে মুন্সীগঞ্জ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মাসউদকে বদলি হয়ে যেতে হয়েছে। গত ১৯শে এপ্রিলের মধ্যে দিনাজপুরের বিরামপুর ইসলামিক মিশনে যোগদান না করলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত করা হবে বলে বদলির আদেশে বলা হয়। তাকে বদলি করা হলেও তিনি মুন্সীগঞ্জ ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে রিলিজ নেননি এমন কি নতুন কর্মস্থলে যোগদানও করেননি।

[ad#co-1]