‘নৃত্যশিল্প সংস্কৃতির মূল স্তম্ভ’

পৃথিবীর সব দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব নৃত্যদিবস। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে নানা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা ও শিল্পকলা একাডেমী। বিশ্ব নৃত্যদিবস ও নৃত্যের নানা প্রসঙ্গ নিয়ে নৃত্যশিল্পী সংস্থার সভাপতি লায়লা হাসানের সঙ্গে কথা বলেছেন বাবুল হৃদয়

আজ বিশ্ব নৃত্য দিবস। এ দিবসটি কীভাবে উদযাপন করছেন?
সকাল ৭টায় শিল্পকলা একাডেমীর চিত্রশালা প্লাজায় মঙ্গল নৃত্য দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হবে। সকাল ১১টায় থাকবে শোভাযাত্রা। সন্ধ্যায় শিল্পকলার মূল মিলনায়তনে ঢাকার বাইরে থেকে আসা শিল্পীদের অংশগ্রহণে নৃত্য পরিবেশনা হবে। এছাড়া আমরা নৃত্যে বিশেষ অবদানের জন্য নৃত্যশিল্পী রাহিজা খানম ঝুনুকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করবো। আজীবন সম্মাননা পাবেন প্রবীণ নৃত্যশিল্পী আবুল কাশেম।

এ নিয়ে রাজধানীর বাইরের নৃত্যশিল্পীদের কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
এক কথায় বলা যায়, খুবই সাড়া পাচ্ছি। ঢাকার বাইরে ২৫ এপ্রিল থেকে অনুষ্ঠান শুরু করেছিলাম। ফরিদপুর, বগুড়া, সিলেট, খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও রাজশাহীতে বিশ্ব নৃত্য দিবসকে ঘিরে নৃত্য উৎসব ইতিমধ্যে পালিত হয়েছে। নৃত্যের প্রতি সেখানকার ছেলেমেয়েদের আগ্রহ দেখে আমি সত্যিই অভিভূত হয়েছি। নৃত্য বিষয়ে অনেক মেধাবী ছেলেমেয়ে খুঁজে পেয়েছি। তাদের আগ্রহ দেখে মনে হয়েছে, ভবিষ্যতে নৃত্যশিল্পের স্বর্ণযুগ আসবে।

এবার প্রতিবন্ধী ও হিজড়া সম্প্রদায়ের লোকেরাও নাকি নৃত্য পরিবেশন করবেন?
প্রথমবারের মতো আমরা প্রতিবন্ধী ও হিজড়াদের নৃত্য পরিবেশনার সুযোগ করে দিয়েছি। মানবাধিকার থেকে তারা বঞ্চিত থাকবে কেন? এটা মাথায় রেখে তাদের বিনোদনের এই সুযোগ করে দেয়া।

ঘনঘটা করে এ অনুষ্ঠান পালনের মূল উদ্দেশ্য কী?
নৃত্য হলো সব শিল্পের জননী। নৃত্যে যারা ভালো, সংস্কৃতির সব শাখায় তাদের সুন্দর বিচরণ থাকবে। সংস্কৃতি হলো জাতির মেরুদ-। নৃত্য হলো তার অন্যতম বাহন। বলতে পারেন, নৃত্যশিল্প সংস্কৃতির মূল স্তম্ভ। এ যুগের ছেলেমেয়েরা যাতে অপসংস্কৃতির পথে যেতে না পারে, তার জন্য এবং ড্রাগ, মদসহ নানা অপকর্মের পথ থেকে সরে গিয়ে বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি তরুণদের উৎসাহী করতেই আমাদের এই উদ্যোগ। এছাড়া আমি মনে করি সারাদেশের নৃত্যশিল্পীদের মধ্যে মেলবন্ধন ঘটাবে এ উৎসব।

পাঠ্যক্রমে নৃত্যকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সরকারের কোনো সাড়া পাচ্ছেন?
সরকার এ বিষয়ে খুবই সচেতনতার পরিচয় দিচ্ছে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে নৃত্যকে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে গেছে। কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও নৃত্যকলা বিভাগ চালু হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃত্যকলা নামে স্বতন্ত্র বিভাগ খোলার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

[ad#co-1]