মইন-ফখরুর রেহাই নেই: খালেদা

বিএনপি আবার ক্ষমতায় এলে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান ফখরুদ্দীন আহমদ ও সাবেক সেনা প্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদের বিচার করার ঘোষণা দিয়েছেন খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার রাতে গুলশানের দলীয় প্রধানের কার্যালয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “এই সরকার না করলেও একদিন না একদিন ফখরুদ্দীন ও মইনুদ্দীনের অবৈধ সরকারের বিচার করা হবে। তারা যে প্রান্তেই থাকুক না কেনো, দেশে এনে বিচার করা হবে। ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকারটি দেশের মানুষ ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তাদের কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।”

বর্তমান সরকার সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে ক্ষমতায় এসেছে বলেই ফখরুদ্দীন ও মইনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মঙ্গলবার বিএনপি সমর্থক স্যাটেলাইট টিভি স্টেশন চ্যানেল ওয়ান বন্ধের কড়া সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, খোঁড়া অজুহাত দেখিয়ে এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চ্যানেলটি মানুষ বেশি দেখে বলেই সরকার তা বন্ধ করেছে।

তিনি বলেন, “একবার তারা চিন্তাও করলো না ওই প্রতিষ্ঠানটির ৪০০ মানুষের ভাগ্যের কথা। আজ তারা বেকার হয়ে গেছেন।”

অবিলম্বে টিভি স্টেশনটি চালুর দাবিও জানান বিএনপি চেয়ারপারসন।

টেলিযোগাযোগ নীতি ভাঙার অভিযোগে সরকার মঙ্গলবার স্টেশনটি বন্ধ করে দেয়।

বিএনপির ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মহানগর (উত্তর) শাখার নতুন কমিটির নেতা-কর্মীরা দেখা করতে এলে খালেদা তাদেরকে সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহবান জানান।

সরকারের সমালোচনা করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ”এই সরকারের প্রতি দেশের মানুষের যেমন আস্থা নেই তেমনি বিদেশীদেরও আস্থা কমে যাচ্ছে। বিভাগীয় সমাবেশ শেষে অবশ্যই আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে। আওয়ামী লীগ কী জিনিস তা নতুন প্রজন্মকে বোঝাতে আমরা কর্মসূচি দিতে সময় নিচ্ছি।”

মহানগর ছাত্রদল উত্তরের সভাপতি কামাল আনোয়ার আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক আবুল মনসুর খানের নেতৃত্বে কয়েক’শ নেতা-কর্মী তাদের অভিভাবক সংগঠনের নেত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। খালেদা জিয়াকে তারা ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানায়।

ভোলা-৩ আসনের উপনির্বাচনের ঘোষিত ফলাফল ‘মানি না’ জানিয়ে তিনি বলেন, ”ভোলায় কোনো নির্বাচন হয়নি। নির্বাচন কমিশন ভোলায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই কমিশন বির্তকিত। সম্মান থাকলে এই কমিশনের পদত্যাগ করে চলে যাওয়া উচিত।”

তার দাবি , সুষ্ঠু নির্বাচন হলে হাফিজউদ্দিন আহমেদ বিজয়ী হতেন।

বিদ্যুৎ নিয়ে সরকার মিথ্যাচার করছে বলে অভিযোগ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ”তারা এই দেড় বছরে এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎও উৎপাদন করেনি। উল্টো আমাদের সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়নি বলে মিথ্যা কথা বলছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিথ্যাচারে আমরা পারবো না। ”

তিনি দাবি করেন, জোট সরকারের আমলে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে।

ছাত্রদলকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে তিনি বলেন, “আমি ছাত্রদলে ওই সংগঠনের (সরকার সমর্থক ছাত্রলীগ) মতো অস্ত্রবাজ দেখতে চাই না।”

এ সময় অন্যদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, সহসভাপতি আবদুল্লাহ আল নোমান, যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ, ছাত্রদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

[ad#co-1]