কিশোরী অপহরণ, সঙ্গে ৪৫ ভরি সোনা

১৩ বছরের কিশোরীর সঙ্গে টানা ৯ দিন অসামাজিক কার্যকলাপের পর এক প্রতারক প্রেমিক এখন পিতার সঙ্গে হাজতখানায়। অন্যদিকে এ ঘটনায় মানসিকভাবে চরম বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে কিশোরীর পরিবার। পুলিশ জানিয়েছে, অপহরণের পর কিশোরীর সঙ্গে অনেক অমানবিক আচরণ করেছে লিংকন (২৩)। আজ মঙ্গলবার আসামি লিংকন ও তার পিতা আবদুর রশিদ খানকে কোর্টে চালান করা হবে। গ্রেপ্তারকৃত প্রতারক প্রেমিক লিংকন খান ওরফে লিংকনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ৪৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে। গত ১৭ই এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর সবুজবাগের ১২৬/১ উত্তর মুগদার বাশার টাওয়ারে বসবাসকারী ভিকারম্ননন্নিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী আশাকে অপহরণ করে কদমতলির ৬৮০ নুরবাগের লিংকন খান ওরফে লিংকন। এ সময় আশার বাসায় কেউ না থাকায় লিংকন তাকে ফুঁসলিয়ে এবং ভুল বুঝিয়ে আলমারির ড্রয়ার ভেঙে ৪৫ ভরি স্বর্ণও নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে আশার মা শাহানারা বাশার ২২শে এপ্রিল সবুজবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ৬৭। মামলার তদনত্মকারী কর্মকর্তা এসআই এজাজ শেফি মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার সরদার মারম্নফ হোসেন ও সংশিস্নষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে ২৩শে এপ্রিল থেকে উদ্ধার অভিযান শুরম্ন করেন। গত কয়েক দিন মাদারীপুর, শিবচর, বগুড়া ও ঝিনাইদহে অভিযান চালানো হয়। ২৫শে এপ্রিল দিবাগত রাতে মাগুরার হটিকালচার পাড়ায় ভিকটিম, অপহরণকারী লিংকন এবং লিংকনের পিতা আবদুর রশিদ খানকে পাওয়া যায়। এ সময় ভিকটিমকে উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানার বনশেমনত্ম গ্রামে বসবাসরত লিংকনের বোন আইরিনের শ্বশুরবাড়ি থেকে স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। এর আনুমানিক মূল্য ১৫ লাখ টাকা। মতিঝিল জোন পুলিশের সহকারী কমিশনার সরদার মারম্নফ হোসেন মানবজমিনকে জানান, খুবই বাচ্চা মেয়ে। অনেক কিছুই বোঝে না। ভুল বুঝিয়ে তাকে অপহরণ করা হয়েছে।

অনেক পরিশ্রম করে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখনও তার কাছ থেকে তেমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। সবুজবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, লিংকন পূর্ব পরিকল্পিতভাবে কোথাও থেকে আশার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তার সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করেছে। গত ১৭ই এপ্রিল আশার মা ছোট মেয়েকে নিয়ে স্কুলে গেলে লিংকন বাসায় ঢুকে তাকে অপহরণ করে। গত ৯ দিন তারা একসঙ্গে থাকলেও বিয়ে করেনি। আসামিকে আজ কোর্টে চালান করা হবে।

কিশোরীর মা জানান, মেয়ের এ অবস্থায় আমি শারীরিক ও মানসিক দিক দিয়ে প্রচণ্ডভাবে ভেঙে পড়েছি। আমার পড়্গে কিছু বলা সম্ভব হবে না। পুলিশের ভাষ্য মতে, লিংকন জানিয়েছে সে তার এক বন্ধুর কাছ থেকে মেয়েটির মোবাইল নম্বর পেয়েছে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই তাদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। উদ্ধার অভিযান পরিচালনাকারী মামলার তদনত্ম কর্মকর্তা এজাজ শেফি জানিয়েছেন, ছেলে ও পিতা উভয়ে পস্ন্যান করে এ কাজটি করেছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল স্বর্ণ বিক্রির টাকায় যতদিন চলে ততদিন মেয়েকে তাদের সঙ্গে রাখবে। এরপর তাড়িয়ে দেবে।

[ad#co-1]