মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় শিল্পপার্ক স্থাপনের সিদ্ধান্ত

কৃষকের হাতছাড়া হচ্ছে দুইশ’ একর তিনফসলি জমি
শিল্পপার্ক স্থাপনের সিদ্ধান্তে খাদ্য ঘাটতির জেলা মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের ২০০ একর ৩ ফসলি জমি কৃষকদের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে প্রায় ২ হাজার কৃষক পরিবার চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

যুগ যুগ ধরে বাউশিয়া, মধ্যম বাউশিয়া ও পোরারচক মৌজায় এসব ফসলি জমিতে চাষবাস করে কৃষকরা তাদের পরিবার-পরিজনের মুখে আহার জুগিয়ে আসছিলেন। অতি উর্বর ওইসব জমিতে এপিআই শিল্পপার্ক (একটিভ ফার্মাসিটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট পার্ক) স্থাপনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ ধারাবাহিকতায় এরই মধ্যে অধিগ্রহণে প্রস্তাবিত জমির ক্ষতিপূরণ প্রদানে ১ হাজার ৪৮৫ কৃষকের মধ্যে ৭ ধারার নোটিশ দেয়া হয়েছে। সরকারি এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্বে বিগত ২ বছর ধরে হাজার হাজার কৃষক সরকারি উচ্চমহল থেকে শুরু করে নানা পর্যায়ে ধর্না দিয়েও কোনো ফল পাচ্ছেন না। এছাড়া অধিগ্রহণকৃত নাল জমির দাম প্রতি শতাংশ ৩১ হাজার এবং ফসলি জমি ৪৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বর্তমান বাজারমূল্যের এক-তৃতীয়াংশ হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে দর নিয়েও চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। অপরদিকে পদ্মা সেতু এলাকাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে জমির ক্ষতিপূরণ ছাড়াও পুনর্বাসন কার্যক্রম থাকে। কিন্তু এপিআই প্রকল্পে পুনর্বাসন ব্যবস্থা না থাকায় হাজার হাজার কৃষক পরিবার অনিশ্চিত ভবিষ্যতের চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

জানা গেছে, ৩ এপ্রিল বিক্ষুব্ধ কৃষকরা অধিগ্রহণকৃত ৩ ফসলি জমি ফিরিয়ে দেয়া নতুবা জমির বর্তমান বাজারমূল্য দেয়ার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গজারিয়ায় মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করে। প্রশাসনের নানামুখী চাপ এবং জমির মূল্য পুনর্নির্ধারণের ১আশ্বাসে ওই কর্মসূচি থেকে কৃষকরা সরে আসতে বাধ্য হন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, ভূমি মালিকদের অসন্তোষের কারণে ৭ ধারায় নোটিশপ্রাপ্ত ১ হাজার ৪৩৫ কৃষকের মধ্যে মাত্র ৯ কৃষকের অনুকূলে ১ কোটি ৩১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ চেক দেয়া সম্ভব হয়েছে। তা থেকে শতকরা ১০ ভাগ করে বাধ্যতামূলক চাঁদা দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকরা। উল্লেখ্য, জমি অধিগ্রহণে ৬৪ কোটি ৯০ লাখ ৩৪ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সরেজমিন গজারিয়ার পুরান বাউশিয়া নয়াকান্দি গ্রামের ফসল পরিচর্যারত ব্যস্ত কৃষক ওয়ালি উল্লাহ বলেন, ‘এবার ৩০ শতাংশ জমিতে ১২০ মণ আলু পাইছি। এখানকার জমিগুলোতে ধান, মরিচ, মুসরি, ইরি, তিলসহ নানা ধরনের ফসল ফলাইয়া সংসার চালাই। সরকারে জমি লইয়া গেলে ৪ ছেলে, ১ মেয়েসহ আমরা কি করে খামু।’ একই গ্রামের অবস্থাপূর্ণ কৃষক হাজী হারুন-অর-রশিদ বলেন, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার অসত্ উদ্দেশ্যে বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কমদামে জমির মূল্য দেখিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়। এ পরিস্থিতিতে জমির বর্তমান বাজারদর না পাওয়ায় কৃষকরা সর্বস্বান্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তিনি বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান।

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোঃ মোশারফ হোসেন আমার দেশকে বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সভা অনুষ্ঠিত সভায় ওষুধশিল্প মালিকরা এপিআই শিল্পপার্কে এ এলাকার ক্ষতিগ্রস্তদের শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি দেয়াসহ ৪০/৪৫টি প্লট দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্তরা পুনর্বাসনের সুযোগ পাবেন। তিনি বলেন, ২০১৫ সালের পর বহির্বিশ্ব থেকে ওষুধশিল্পের কাঁচামাল সংগ্রহের পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই এ শিল্পপার্ক দেশের স্বার্থে জরুরি।

[ad#co-1]