বাঁধনের গল্প

বাঁধন স্বপ্ন দেখতেন অভিনেত্রী হবেন। হয়েছেন সেটা। ছোট পর্দার গণ্ডি ছেড়ে একেবারে বড় পর্দার অভিনেত্রীই হয়েছেন। অভিনয় করেছেন নিঝুম অরণ্যে চলচ্চিত্রে। এর বাইরে নিজের ডাক্তারি পেশা তো রয়েছেই। সব মিলিয়ে অভিনয় ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মহাব্যস্ত তিনি। সাক্ষাৎকারে সেসবই জানিয়েছেন। সাথে ছিলেন সোহেল অটল
লাক্স-চ্যানেল আইয়ের দারুচিনি দ্বীপের নায়িকা খুঁজছি প্রতিযোগিতায় দুরু দুরু বুকে নাম লিখিয়েছিলেন বাঁধন।

সময়টা ২০০৬ সাল। নিজ গুণ আর মেধার জোরে প্রথম তিনজন বিজয়ীর একজন অর্থাৎ সেকেন্ড রানার্সআপ হলেন তিনি। কথা ছিল হুমায়ূন আহমেদের লেখা ও তৌকীর আহমেদের পরিচালনায় দারুচিনি দ্বীপ ছবিতে অভিনয় করার। ছবিতে অভিনয় করার জন্য প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যায়ে এসে ছবিটিতে আর অভিনয় করা হয়ে ওঠেনি। শুটিংয়ের ঠিক আগমুহূর্তে পরীক্ষার তারিখ পড়ে যাওয়ায় অভিনয় জীবনের শুরুতেই কিছুটা হোঁচট খান বাঁধন। অভিনয়ের মাধ্যমে আকাশছোঁয়া যার স্বপ্ন তাকে কি আর বেঁধে রাখা যায়। আর তাই পরীক্ষা শেষে নব উদ্যমে ছোট পর্দার অভিনয়ের জগতে ডুব মারেন পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি উচ্চতার এ অভিনেত্রী।

গত সপ্তাহে মুক্তি পেয়েছে মুশফিকুর রহমান গুলজার পরিচালিত বাঁধন অভিনীত প্রথম ছবি নিঝুম অরণ্যে। পরীক্ষার কারণে দারুচিনি দ্বীপ ছবির মাধ্যমে দর্শকদের সামনে তার অভিনয়ের সাতরং দেখাতে না পারলেও নিঝুম অরণ্যের মাধ্যমে সেই আলোর ছটাই দেখিয়েছেন তিনি। বাঁধন বলেন, ‘নিঝুম অরণ্যে ছবিটির বাজার রিপোর্টই বলে দেবে বড় পর্দায় আমার নিয়মিত উপস্খিতির কথা। আমি আমার শত ভাগ অভিনয় নিঝুম অরণ্যে দেখিয়েছি। এখন দর্শকরাই বিচার করবে ছবিটি সম্পর্কে। দর্শকদের ভালোবাসা-সমালোচনা সব কিছু মেনে নেয়ার জন্য আমি প্রস্তুত।’
অনেক অভিনেত্রীই তো প্রথম ছবিতে হিট হয়েছেন। বাঁদন কি সেটা পারবেন? ছোট পর্দা যেমন মাতিয়েছেন তেমনি বড় পর্দাতেও তিনি সাড়া ফেলবেন এমন ধারণা অনেকেরই। বাকিটা বোঝা যাবে ক’দিন পরই।

২০০৬ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় চার বছর ছোট পর্দায় নিয়মিত দেখা গেছে লাক্স সুন্দরী বাঁধনকে। তার অভিনীত সবগুলো নাটকই যে মানসম্পন্ন ছিল তা কিন্তু নয়। তবে সে প্রসঙ্গ পরে। তার সাথে কথা হচ্ছিল নিয়মিত অভিনয়ের ব্যাপারে। এ বিষয়ে বলতে গিয়ে বাঁধন জানান, ‘এ পর্যন্ত অনেকগুলো এক ঘন্টার ও ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেছি। তবে আমার প্রথম দিকের নাটকগুলো হচ্ছে আনিসুল হকের রচনা ও আবুল হায়াতের পরিচালনায় ধারাবাহিক নাটক ভালো আছি ভালো থেকো। মোহন খানের পরিচালনায় ধারাবাহিক নাটক হঠাৎ সীমান্তে, রেদোয়ান রনির এক ঘন্টার নাটক আবারও বৌচি ও মোস্তফা কামাল রাজের ডিনার গেম।’ অন্য অভিনেত্রীরা যখন সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনে ব্যস্ত তখন বাঁধন এগোচ্ছেন বেশ ধীরে সুস্খে। তার অভিনীত নাটক টেলিফিল্মের সংখ্যা যাচাই করলেই সে কথার প্রমাণ মেলে। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার সমসাময়িক যেসব অভিনেত্রী আছেন, আমি কিন্তু তাদের থেকে অনেক কম কাজ করি। এখানে দুটো কারণ আছে। প্রথম কারণ হচ্ছে আমি একটু বেছে বেছে কাজ করি। যেসব নাটকে অভিনয় করলে আমার অভিনয়ের দক্ষতা ফুটে উঠবে এবং অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের কাছ থেকে সাড়া পাবো আমি সে রকম নাটকে অভিনয় করি। দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে আমার পড়ালেখা। আমার কাছে পড়ালেখা সবার আগে। অভিনয়ের কারণে আমার পড়ালেখার কোনো ক্ষতি হোক, আমি তা কোনো সময়ই চাইনি। আর তাই ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও অনেক নাটক ও টেলিফিল্মে অভিনয় করতে পারিনি।’

বাঁধন পড়াশোনা করেছেন বাংলাদেশের ডেন্টাল কলেজে। পড়াশোনার পাট চুকিয়েছেন অনেক দিন হলো। ডাক্তারি পড়ছেন আবার। অভিনয়ও করছেন। এ দুটোর মধ্যে কোনটাকে সঙ্গী করে সামনে এগোতে চান প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেবো না। পেশা হিসেবে নেবো যে বিষয়ে পড়াশোনা করছি অর্থাৎ ডাক্তারি পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করব। এর পাশাপাশি অভিনয় করে যাবো।’

এনটিভিতে প্রচারিত মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ধারাবাহিক নাটক রঙ ও গ্রাজুয়েট-এ অভিনয় করেছেন বাঁধন। এ ছাড়া রাবেয়া খাতুনের গল্প অবলম্বনে রোজিনা পরিচালিত ধারাবাহিক নাটক মেয়েটি ঢাকায় যাচ্ছেতে অভিনয় করেছেন। এ ছাড়া আরো অনেক নাটক রয়েছে প্রচারের অপেক্ষায়। নাটকে অভিনয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নাটকে অভিনয় করতে সময় কম লাগে। তাই নাটকে অভিনয় করে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। তা ছাড়া বিভিন্ন নাটকে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের অভিনয়ের ভালোটুকু ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হয়।’

কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্রে অংশ নিলেও তিব্বত বিউটি সোপের বিজ্ঞাপনচিত্রটি তাকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে। শুধু আলোচনা বললে ভুল হবে, এ বিজ্ঞাপনচিত্রটি যে তাকে কিছুটা সমালোচনাও নিয়ে আসে তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে আলোচনা সমালোচনা যা-ই হোক না কেন মডেল হিসেবেও বাঁধন আরেকবার সফলতার প্রমাণ দিয়ে গেলেন।

ছোট পর্দা, বড় পর্দা, মডেলিং­ সব কিছুতেই সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছেন বাঁধন। শুধু এগিয়েই যাচ্ছেন না, রীতিমতো পেশাদারদের সাথে প্রতিযোগিতা করে সফল হচ্ছেন। অভিনয় অঙ্গন থেকে যা পেয়েছেন, তা নিয়ে তিনি তৃপ্ত রয়েতৃণ। তবে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বর্তমান অবস্খা নিয়ে তার মধ্যে এক ধরনের বিষণíতাও রয়েছে। জানালেন সে কথা, ‘যদিও আমি পণ্ডিত নই, তবুও আমার মনে হয় এখানে সব কিছু নিয়মের মধ্যে নেই। আমি বিশদভাবে বলতে পারব না। তবে আপনারা সবাই জানেন সেগুলো কী। এ অভস্খার পরিবর্তন হওয়া উচিত।’

পরিবর্তন অনেক কিছুই হচ্ছে সংস্কৃতি মণ্ডলে। আরো ইতিবাচক পরিবর্তন হবে, সেটা বাঁধনও প্রত্যাশা করেন।

সোহেল অটল

[ad#co-1]