পদ্মার পাড়ে 'চৈতা পাগল'

মুন্সিগঞ্জের হলুদিয়া গ্রামের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে পদ্মা নদী। মাহফুজ আহমেদ তার পরিচালিত নতুন ধারাবাহিকের কাজ করলেন এখানেই। আর দু’দিন পরই ‘চৈতা পাগল’ নামের নাটকটির প্রচার শুরু হবে চ্যানেল আইতে। সেজন্যই গত ৭ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত টানা দৃশ্যধারণের কাজ হয়েছে এর। প্রতিদিন কাজের ফাঁকে শিল্পীরা কিছুক্ষণের জন্য হলেও নদীর ধারে এসে বসেন। জানা গেল, মাওয়া ঘাটের একপাশে তাজা ইলিশ মাছ ভাজি করা পাওয়া যায়। প্রায় প্রতিদিনই অভিনয়শিল্পীরা সেখানে গিয়ে কাঁচা হাতের ইলিশ মাছ ভাজা খেয়ে আসেন বলে জানালেন মাহফুজ।

আকাশে প্রচণ্ড রোদ। আর এর মধ্যেই চলল নাটকটির বিভিন্ন দৃশ্যের চিত্রায়ন। দোতলার একটি ঘরের বারান্দায় জয়া আহসান ও মাহফুজ আহমেদ। নিজের অভিনীত অংশের কাজ শেষ করে গাছের ছায়ায় এসে বসলেন জয়া। পরিচালক মাহফুজ মধ্যাহ্নভোজের জন্য বিরতি টানলেন কাজে। গাছের নিচে জয়ার পাশে তার মা আর ছোট বোন কান্তা। এবারই প্রথম কান্তা কোনো নাটকের কাজ দেখতে এলেন। কিছুক্ষণের মধ্যে একে একে এসে হাজির হন মাজনুন মিজান, সোহেল খান, মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, সিদ্দিকুর রহমান, সৈয়দ শুভ্র। প্রত্যেকের সঙ্গে বোনের পরিচয় করিয়ে দিলেন জয়া। তাদের চারপাশ ভিড় করে দাঁড়িয়ে আছে হলুদিয়া গ্রামের নানা বয়সী মানুষ। গাছের কাঁচা আম নিয়ে এসে গ্রামের এক কিশোরী জয়াকে দিয়ে বলল, ‘আপা এগুলো আমাদের গাছের। কাঁচামিঠা। কাঁচা আম খাবেন কিন্তু চিনির লাহান মিষ্টি লাগব!’ হাসিমুখে জয়া তার দেওয়া উপহার নিলেন।

‘চৈতা পাগল’ নাটকের নাম ভূমিকায় অভিনয় করছেন মাহফুজ আহমেদ। তার চুলগুলো এলোমেলো আর লুঙ্গিটা উঁচু করে বাঁধা। পাগল পাগল সাজ আর কী! মাহফুজ নাটকটি প্রসঙ্গে বলেন, “এটি পাবনা অঞ্চলের ভাষায় লিখেছেন বৃন্দাবন দাস। আমি সেটাকে নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় রূপান্তর করেছি। কারণ আমি নোয়াখালীর মানুষ। নাটকটি দেখলেই যেন দর্শক বলেন, ‘এটা মাহফুজ আহমেদের নাটক।’ এতে আমি আর মিশু ছাড়া আর কেউ কখনও নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় অভিনয় করেননি। এ কারণে আমাকে একটু বেশিই পরিশ্রম করতে হচ্ছে। সব দৃশ্যই চিত্রায়নের আগে শিল্পীদের নিয়ে মহড়া করছি।”

‘চৈতা পাগল’ নাটকে আলতা চরিত্রে অভিনয় করছেন জয়া আহসান। তার স্বামী বাম রাজনীতি করতে গিয়ে একসময় মারা যায়। এরপর আলতার জীবনে অন্ধকার নেমে আসে। সে একটি বাড়িতে কাজ করে।

[ad#co-1]