২০১৩ সালের মধ্যে পদ্মা সেতু: যোগাযোগমন্ত্রী

২০১৩ সালের মধ্যে পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন।

তিনি বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় পদ্মা সেতুর কাজ শেষ না হলে তোমার চাকরি থাকবে না।’ তাই ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই এই সেতুর কাজ শেষ হবে।”

মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর একটি হোটেলে পদ্মা সেতু নির্মাণের অগ্রগতি বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে যোগাযোগমন্ত্রী এ কথা বলেন।

এ সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নে দাতা সংস্থার দেওয়া নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলা হবে বলেও জানান তিনি।

প্রস্তাবিত পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। তিন দফায় এর নির্মাণ ব্যায় বাড়ানোর পর বর্তমানে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে দুশ ৪০ কোটি মার্কিন ডলার।

ইতিমধ্যে সেতুটির নকশা প্রণয়ন হয়েছে। এছাড়া সেতু এলাকার প্রায় ১৫ হাজার পরিবারের পুর্নবাসন কাজ শুরু হয়েছে।

“যোগ্য ও সফল দরদাতা নির্বাচনেও দাতাদের নির্দেশনা মেনে চলা হবে,” জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ আবুল হোসেন বলেন, “এই প্রকল্পের প্রতিটি স্তর ও প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা রক্ষার মাধ্যমে দাতাদের পূর্ণ সন্তুষ্টি বিধানে আমরা সচেষ্ট।”

সেতুর দরদাতা প্রাকযোগ্যতার জন্য দরপত্র ডাকা হয়েছে বলে জানান যোগাযোগমন্ত্রী। তিনি জানান, এ বছরের ৮ জুন দরদাতাদের প্রাকযোগ্যতা প্রস্তাব জমা দেওয়া শেষ দিন।

“জুন মাসে এ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত এবং আগামী অক্টোবরের মধ্যে মূল সেতুর ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হবে,” বলেন সৈয়দ আবুল হোসেন। এরপর ডিসেম্বরের মধ্যে অবিরাম কাজ চলবে বলে জানান তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, “এই কাজে আমাদের উন্নয়ন সহযোগী এবং সরকার প্রতিটি বিষয়ে এক সঙ্গে কাজ করছে।

“সরকারের ওপর কোনরকম চাপ নেই। বরং আমরা কোন কোন উন্নয়ন সহযোগীর কাছ থেকে প্রাথমিক প্রস্তাবের চেয়ে বেশি অর্থ সাহায্য পাচ্ছি।”

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আব্দুল করিম, যোগাযোগ সচিব মোজাম্মেল হক খান, সেতু বিভাগের সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, বাংলাদেশে বিশ্ব ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর এলেন গোল্ডস্টেইন, বাংলাদেশে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর পল জে. হেইটেন্স, জাইকার প্রধান প্রতিনিধি তোকাও তোদা, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) প্রধান প্রতিনিধি মো. ফারুক-উজ-জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

[ad#co-1]