খুতবায় যুদ্ধাপরাধী বিচারের ব্যাখ্যা করাই মূল কারণ

মুন্সীগঞ্জে মসজিদে সংঘর্ষ
মুন্সীগঞ্জ শহরের কাছে নয়াগাঁও পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে ইমামতিকে কেন্দ্র করে শুক্রবার দুগ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় মুসল্লিদের মধ্যে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জুমার খুতবায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও জয়বাংলার ব্যাখ্যা করাই সংঘর্ষ ও দ্বন্দ্বের নেপথ্য কারণ বলে জানা গেছে। শুক্রবার জুমায় মুসল্লিদের সংঘর্ষ উস্কে দিতে জামায়াত-শিবিরের কমপক্ষে ৩০-৩৫ জন কর্মী মসজিদে উপস্থিত ছিল বলে ইমামের পক্ষের মুসল্লিদের দাবি।

জামায়াত-শিবির যুদ্ধাপরাধী বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে নয়াগাঁও পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ কমিটির নেতাদের মাধ্যমে টাকা ছড়িয়েছে। ইমামতি নিয়ে দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষ সৃষ্টিতে শুক্রবার মসজিদের ভেতর জামায়তকর্মীরা তৎপরতা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল বাশার জানিয়েছেন, নয়াগাঁও মসজিদে জামায়াত টাকা ছড়িয়ে যুদ্ধাপরাধী বিচার প্রক্রিয়া ভেস্তে দিতে সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে।

মসজিদে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও জয়বাংলার ব্যাখ্যা দিয়ে খুতবা পাঠ করা হলে মসজিদ কমিটির সভাপতি পঞ্চসার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুল হাইয়ের ব্যবসার অংশীদার হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুসল্লিদের একটি অংশ ইমামের অপসারণ দাবি করে। মুসল্লিদের অন্য একটি অংশ মুফতি সারোয়ারের ইমামতি করার পক্ষ অবলম্বন করে। এর ফলে মুসল্লিরা দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং জুমার নামাজে মসজিদে সংঘর্ষ বাধে।

উল্লেখ্য, নয়াগাঁও পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মুফতি সারোয়ার মুন্সীগঞ্জ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইমামদের প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি শহরের একটি আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষও। গতকাল শনিবার মুফতি সারোয়ারের ইমামতিতে নামাজ পড়া জায়েজ নয় বলে মুসল্লিদের একটি অংশ দাবি করে ওই ইমামকে শিগগির পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে। এছাড়া ইমামের মসজিদে প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে তারা। ইমামকে ছাড়াই গতকাল শনিবার ফজর নামাজ আদায় করেছে মুসল্লিরা। মসজিদে মোতায়েন পুলিশ উঠিয়ে নেয়া হয়েছে গতকাল। মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি শহীদুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার সময়মতো পুলিশ না গেলে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হতো সেখানে। শনিবার পুলিশ উঠিয়ে নেয়া হলেও মসজিদটি কড়া নজরে রয়েছে।

[ad#co-1]