ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদের সময় কাটে শিক্ষকতা ও লেখালেখি করে

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসে। এরইমধ্যে পার করলেন অবসর জীবনের এক বছর। অবসর কীভাবে কাটছে তা জানার জন্য ৯ এপ্রিল কথা হয় সাবেক এ গভর্নরের সঙ্গে।

ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ জানান, অবসর বলতে হাত-পা গুটিয়ে তিনি বসে নেই। কর্মোদ্যম এখনো আছে। প্রফেশনাল কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলছেন, নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটিতে সামষ্টিক অর্থনীতি বিষয়ে পড়াচ্ছেন। নিজের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন। তাছাড়া লেখালিখির কাজটা চালিয়ে যাচ্ছেন। সামষ্টিক অর্থনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আর্টিকেল লিখছেন। বিভিন্ন সভা-সেমিনারে বক্তব্য দিচ্ছেন।

ড. সালেহ উদ্দিন বলেন, মূলত তিনি চেষ্টা করছেন ইয়াং জেনারেশনকে বাস্তবসম্মত জ্ঞান দেয়ার। পাঠ্যবই কিংবা আর্টিকেলে সবকিছু থাকে না। সে বিষয়গুলোই জানানোর চেষ্টা করছেন। তাছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সামষ্টিক ও উন্নয়ন অর্থনীতির বিষয়ে ক্লাস নিয়ে থাকেন। তবে যা করছেন সবই পার্টটাইম। ফুলটাইম কাজ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।

তিনি আরো বলেন, গভর্নর হওয়ার আগে যেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সেসব প্রতিষ্ঠান ও এর বাইরে যেসব প্রতিষ্ঠান অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়ে কাজ করছে তাদের উপদেষ্টা বা বোর্ড সদস্য হওয়ার অনুরোধ আসে। সেগুলোর কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি যুক্ত হচ্ছেন।

ড. সালেহ উদ্দিন বলেন, অবসর নেয়ার পর থেকে আরেকটি কাজ করছেন, সেটি হলো বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করছেন। এরইমধ্যে এ যোগাযোগ অনেকটাই বেড়েছে। চাকরিকালে বন্ধুদের কোনো খোঁজ নিতে পারেননি। এখন সেই অভাব পূরণ হয়েছে। সাংবাদিকরাও অনেক সময় কথা বলতে আসেন। তাদের সঙ্গেও কথা বলেন। এক কথায় প্রফেশনাল বিষয়ে যারা কথা বলতে চান তাদের সঙ্গে বেশি কথা বলেন। সব মিলিয়ে বলা যায় অবসর সময়টা বেশ কাজের মধ্য দিয়েই কাটছে।

ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ ২০০৫ সালের ২ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনরের দায়িত্ব নেন এবং ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসে অবসর গ্রহণ করেন। ১৯৬৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭৪ সালে কানাডার ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স এবং ১৯৭৮ সালে একই ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

ড. আহমেদ ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের লেকচারার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর তিনি পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে (সিএসপি) যোগ দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন।

ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ সেন্টার অন ইন্টিগ্রেটেড রুরাল ডেভলপমেন্ট ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিকেও ( সিরডাপ) কাজ করেন। এটি একটি আঞ্চলিক আন্তঃসরকারি সংস্থা যার সদর দপ্তর ঢাকায়। তিনি কুমিল্লায় অবস্থিত বাংলাদেশ একাডেমী ফর রুরাল ডেভলপমেন্টের (বার্ড) মহাপরিচালক ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। এ প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমে সর্বোচ্চ অর্থ সহায়তা দিয়ে থাকে। দেশ এবং বিদেশে তার প্রায় ৬০টি বই, রিপোর্ট এবং জার্নাল আর্টিকেলস প্রকাশিত হয়েছে।

তার উল্লেখযোগ্য কাজগুলো হচ্ছে, এটাকিং পভার্টি উইথ মাইক্রোক্রেডিড, বাংলাদেশি বুকস ইন্টারন্যাশনাল ১৯৮০। মেন অ্যান্ড ম্যাটারস, বাংলাদেশি বুকস ইন্টারন্যাশনাল ১৯৮০। রুরাল ডেভলপমেন্ট অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট এক্সপানশন ইন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ বুকস ইন্টারন্যাশনাল ১৯৮২। বাংলাদেশ : আনআইল্ডিং এফোর্ট, এক্সটার্নাল পাবলিসিটি উইং ১৯৮৭।

কর্মজীবনে ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই সন্তানের জনক।

[ad#co-1]