বিদ্যুৎ পানি গ্যাস সমস্যা সমাধানে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে

মেয়র সাদেক হোসেন খোকা
ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র সাদেক হোসেন খোকার জন্ম ১৯৫২ সালের ১২ মে, ঢাকায়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোবিজ্ঞানে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। স্বাধীনতাযুদ্ধে ২ নম্বর সেক্টরের অধীনে প্রশিক্ষণ নিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৮৪ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০২ সালের ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি মেয়র নির্বাচিত হন এবং ১৫ মে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। আগামী ১৪ মে মেয়র হিসেবে তাঁর আট বছর পূর্ণ হবে। সম্প্রতি ঢাকার বিভিন্ন বিষয়ে তিনি কালের কণ্ঠের প্রশ্নের জবাব দেন। সাক্ষাৎকারটি এখানে হুবহু তুলে ধরা হলো। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন মোস্তফা কামাল ও অমিতোষ পাল।

কালের কণ্ঠ : আপনি আট বছর ধরে ঢাকার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই দীর্ঘ সময়ে নগরবাসীর জন্য আপনি কী কী কাজ করেছেন?

মেয়র : আট বছরের কাজ এক কথায় তো বলা সম্ভব নয়। এটা বিস্তারিত বলতে গেলে লিখিতভাবে দিতে হবে। কারণ ডিসিসিতে এক বিভাগের সঙ্গে আরেক বিভাগের প্রতিযোগিতা আছে। আমি একটি বিভাগের কথা বললে আরেকটি বিভাগ ক্ষুব্ধ হতে পারে।

কালের কণ্ঠ : আপনি মেয়র হিসেবে কতটা সফল?

মেয়র : সাফল্য-ব্যর্থতার তো কোনো স্কেল নেই। আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে যেখানে সর্বত্র অর্থ সংকট, ঢাকা সিটি করপোরেশনও তেমনই দুর্বল অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। সেদিক থেকে যদি ধরা হয়, তাহলে আমাদের যে বাজেট, সরকারের যে সহযোগিতা, সেই তুলনায় গত ২০ বছরের মধ্যে সিটি করপোরেশন এক টাকাও ট্যাক্স বাড়ায়নি। সেসব দিক থেকে বললে, আমি যে অবস্থায় দায়িত্ব নিয়েছিলাম, নগরীর রাস্তাঘাট তখন অত্যন্ত বিপর্যস্ত ছিল, করপোরেশনে কোনো শৃঙ্খলা ছিল না। ফাইভ স্টার-সেভেন স্টার গ্রুপের গোলাগুলিসহ নানা রকম অব্যবস্থাপনা ছিল। ডেঙ্গু অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল। মানুষের জীবনহানি ঘটছিল। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খুবই খারাপ ছিল। ফুট ওভারব্রিজ ভেঙে মানুষের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছিল। সেসব দিক থেকে চিন্তা করলে আমি যেদিন মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিই, সেদিন সিটি করপোরেশনের ফান্ডে দুই কোটি ১৫ লাখ টাকা ছিল। তখন আমাদের নিয়মিত ব্যয় ছিল মাসে সাড়ে চার কোটি টাকা। কর্মচারীদের বেতনসহ নানা কাজে এই টাকা খরচ হতো। সেই হিসাবে এক বছর বেতন দেওয়ার টাকাটাও আমাদের ফান্ডে ছিল না।

রাস্তাঘাটের জীর্ণ দশা ছিল। ৬৩১ কোটি টাকা দেনা ছিল ঠিকাদারদের। এ ছাড়া ব্যাংকঋণ ছিল। কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা খরচ করে বেতন দিতে হয়েছিল। কয়েক দিন আগে সেদিন আমি অ্যাকাউন্টসের মাধ্যমে বর্তমান ফান্ডের খবর নিলাম। তাঁরা জানালেন, এই মুহূর্তে ২৩২ কোটি টাকা ফান্ডে জমা আছে।

আমি এ কথা স্পষ্টভাবে বলতে পারি, বর্তমানে ঢাকার প্রধান সড়কগুলোর কোনোটাই ভাঙাচোরা নয়। গলির ভেতর মাঝে মাঝেই রাস্তা খারাপ হয়, আমরা সেগুলো ঠিক করি। কোনো রাস্তা মাসের পর মাস নষ্ট হয়ে পড়ে আছে, আমাদের নোটিশে এলেও ঠিক করছি না_এ রকম ঘটনা ঘটেনি।

জরুরি প্রয়োজনে আমরা মেকআপ করতে পারি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অবস্থা হলো, আমরা নগরবাসীর কাছ থেকে ১২ শতাংশ হোল্ডিং ট্যাক্স নিই। এর ২ শতাংশ নেওয়া হয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য। এ খাতে পাওয়া যায় ৩২ থেকে ৩৫ কোটি টাকা। অথচ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য কর্মচারী, গাড়ি, কনটেইনার ক্যারিয়ার_এসব খাতে খরচ হয় ১২৫ কোটি টাকা। বাকি ৯৫ কোটি টাকা অন্য জায়গা থেকে এনে দিতে হয়। ময়লা-আবর্জনা তো ফেলে রাখা যায় না। আর কেউ তো বাড়ি থেকে টাকা এনে দেবে না। কোনো মেয়রের পক্ষে তা সম্ভবও নয়। রাস্তা মেরামতের খাত, রাস্তার বিদ্যুৎ বাতি, মশার ওষুধ_এসব খাত থেকে কমিয়ে এনে এই খাতে জোগান দিতে হয়।

পৃথিবীর অন্যান্য শহরে প্রতি হাজার মানুষের জন্য দুজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী থাকতে হয়। ম্যানুয়ালি হলো তিনজন। আমরা যদি প্রতি হাজারে দুজনও ধরি, তাহলে আমাদের লোক থাকা উচিত ২০ হাজার। অথচ আমাদের লোক আছে সাড়ে আট হাজার। প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ। গাড়ি থাকা উচিত সাড়ে সাত শ, আছে আড়াই শ। এ ক্ষেত্রেও তিন ভাগের এক ভাগ। আর এই যে তিন ভাগের এক ভাগ লোকবল দিয়ে কাজ করি, তার জন্য ৯৫ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়। বছরে ৩৭৫ কোটি টাকা খরচ করতে পারলে শহরকে ঝকঝকে-তকতকে রাখা সম্ভব।

কালের কণ্ঠ : তাহলে এ মুহূর্তে করণীয় কী?

মেয়র : ১৯৯৪ সালে আমরা মন্ত্রণালয়ে একটি অর্গানোগ্রাম জমা দিয়েছি। এখনো সেটার অনুমোদন হয়নি। ১৬ বছরে যে জনসংখ্যা বাড়ল, সেই অনুপাতে ডিসিসিরও লোকবল বাড়া উচিত। অথচ ১৬ বছর আগে দেওয়া অর্গানোগ্রাম এত দিনেও অনুমোদিত হয়ে আসেনি। আমরা যে কত সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করি, গভীরে না গেলে কেউ বুঝতে পারবে না। প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয়তার তুলনায় তিন ভাগের এক ভাগ দিয়ে কাজ করি; সেটারও টাকার জোগান দিতে পারি না। এ কারণে দিনের বেলাও বর্জ্য অপসারণের জন্য কাজ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে একই ট্রাককে তিন গুণ বেশি ট্রিপ দিতে হয়। এর পরও তিন-চার হাজার টন ময়লা জেনারেট হয়। ৪০০ থেকে ৫০০ টন ময়লা থেকে যায়।

আবার অনেকে এমন জায়গায় ময়লা ফেলে! যেমন ধরুন, ড্রেনের ভেতর ফেলে দিল। তখন দেখা যায়, দিনের পর দিন সেখানেই পড়ে থাকে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নজরের বাইরে থাকার কারণেই এটা হয়। আসলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে অসচেতনতাও একটা বিষয়। তার পরও বলব, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে ভালো। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ‘মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল’ করা হচ্ছে জাইকার অর্থায়নে। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর চারদিকে চারটি ‘ল্যান্ডফিল’ করার ব্যবস্থা নিই_কামরাঙ্গীরচর, আমিনবাজার, খিলক্ষেতের পাশে।

এ ছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বহরে ১০০ নতুন গাড়ি এবং ৩০টি কমপ্যাক্ট ট্রাক আনা হচ্ছে। বর্তমানে বিদেশিরা যেভাবে প্রেসার দিয়ে তিন গাড়ি ময়লা এক গাড়িতে নিয়ে যায়, আমরাও সেভাবেই করব। ইতিমধ্যে ৩৫টি চলে এসেছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ শক্তিশালী হলে ঢাকার ক্লিনিং ব্যবস্থা আরো উন্নত হবে বলে মনে হয়।

আমি মেয়র হওয়ার সময় এমন কোনো দিক ছিল না, যেখানে সমস্যা ছিল না। কবরস্থানের বিশাল সমস্যা ছিল। কবর দেওয়ার জায়গা নেই; ডেডবডি তুলে নিতে হয়। যেগুলো তিন বছর পর করার কথা, দেড়-দুই বছর পরই সেগুলো বের করা হয়। এতে আত্দীয়স্বজনদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। অমানবিক ব্যাপার। তখন প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিই। আজিমপুর গোরস্থানের পূর্ব দিকে খাদ্য অধিদপ্তরের জায়গা ছিল। কিন্তু খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মচারী ইউনিয়নের আপত্তির কারণে কেউ জায়গাটি খালি করতে পারেনি। পাশেই জজ সাহেবদের কোয়ার্টার। তাঁরা বললেন, ওই জায়গাটি তাঁদের চাই। সেখানে কবরস্থান করলে কবরস্থানের পাশে হয়ে যাবে তাঁদের কোয়ার্টার। এ রকম নানা ঝামেলার পর জায়গাটা পাওয়া গেল। আজিমপুর কবরস্থান একটা বিশেষ জায়গা। অনেকে মরার আগেও এখানে দাফনের ইচ্ছা ব্যক্ত করে যান। ঢাকার বাইরে থেকেও অনেকে ডেডবডি নিয়ে আসেন। কাজেই ওই জায়গাটা পাওয়ার পর আমাদের কিছুটা উপকার হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকায় আরো দুটি কবরস্থানের প্রস্তাব পাস হয়েছে_রায়েরবাজার ও রামপুরা টেলিভিশন ভবন থেকে আরো ভেতরের দিকে।

আগামী ৫০ বছরে যাতে আর সমস্যা না হয়, সেটা চিন্তা করেই তা করা হচ্ছে। বনানীতেও কিছু জায়গা পাওয়া গেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দু-একটি ভালো কাজের মধ্যে ওই একটি কাজও ভালো হয়েছে।

কালের কণ্ঠ : বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানি সমস্যায় নগরবাসীর জীবন ওষ্ঠাগত। নাগরিকরা বলে থাকেন, আমাদের এত সমস্যা, নগরপিতা করেন কী? এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?

মেয়র : অন্যান্য দেশের মানুষও মনে করে, মেয়ররা পানি-বিদ্যুৎ-গ্যাস সমস্যার সমাধান দেবেন। কিন্তু সমস্যা এত প্রকট যে স্বয়ং আমাদের প্রধানমন্ত্রীও হিমশিম খেয়ে যাচ্ছেন। আমরা দেখছি, এই সরকার আগের সরকারকে, আগের সরকার আরেক সরকারকে দোষারোপ করে। আমি এ রকম পশ্চাৎমুখী লোক নই। আমি এটা বলতে চাই না। কিভাবে বিদেশ থেকে টাকা-পয়সা এনে সমস্যার সমাধান করা যায়, এ ব্যাপারে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। সে ক্ষেত্রে আমাদের যদি করার কিছু থাকে, তা আমরা করব।

কালের কণ্ঠ :
এই সংস্থাগুলো মেয়রের হাতে থাকলে?

মেয়র : পানি ও রাজধানীর স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাপনা মেয়রের হাতের বাইরে থাকার কোনো মানে নেই। একসময় একসঙ্গেই ছিল। পাকিস্তান আমলে একজন পরামর্শক এসে বললেন, পানিটা আলাদা করতে হবে। তাহলে ওরা বিনিয়োগকারী আনবে। সে অনুযায়ী ওয়াসা সৃষ্টি হলো। তার আগে ওয়াসার কাজ সিটি করপোরেশনই করত। আমাদের দেশে তো ফান্ড ফেরত চলে যাওয়ার ভয়ে সাহায্যদাতাদের প্রেসক্রিপশনকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত ভুল। আমাদের হয় কী, যেমন_ডিসিসির স্ট্রাকচার, ইন্সপেক্টর, কমিশনার আছে। কিন্তু কোনো সমস্যা হলে এলাকাবাসী কমিশনারকে ধরে। কমিশনার এসে বলেন, এটা নেই, ওটা নেই। এগুলো ঠিক করতে হবে। আমরা তখন না করেও পারি না। বোর্ড মিটিংয়ে তাঁরা আমাকে ধরেন। কিন্তু ওয়াসা বা অন্যান্য সংস্থার ক্ষেত্রে এ ধরনের কিছু নেই। কারণ তাদের তো জনগণের কাছে কোনো জবাবদিহিতা নেই। তারা খেয়াল করে না। চলছে তো চলছেই। আর সিলেক্টেড ব্যক্তিদের কণ্ঠ তো উচ্চ থাকে। তারা আসে সরকারের আমলা হিসেবে। আসলে সমস্যাগুলো জমাট বেঁধে আছে। ওয়াসার জন্য আমাদেরও সমস্যা হয়। যেমন_ওয়াসা একটি লাইন বসানোর কাজ করবে। তাদের স্যুয়ারেজের জন্য রাস্তার গভীর পর্যন্ত গর্ত করতে হয়। এই কাজ করার আধুনিক যন্ত্রপাতি তাদের নেই। খুব ম্যানুয়াল সিস্টেমে কোদাল দিয়ে তারা খোঁড়াখুঁড়ি করে। আমি একবার বললাম, আপনারা যন্ত্রপাতি জোগাড় করুন। কিন্তু তারা পারছে না। সরকারকে বোঝানোর ক্ষমতা তাদের নেই। আমাদের যেমন জবাবদিহিতা আছে, তাদের তো এগুলো নেই। প্রয়োজনও হয় না। তারা অল্প সময়ের জন্য আসে, কিছুদিন থাকে, আবার চলে যায়।

আমরা একবার ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করেছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগকে দিয়ে জরিপ করাই, যাতে ম্যাপ দেখে বলতে পারি, ভেতরে ওয়াসা-টিঅ্যান্ডটির লাইন আছে কি না। রাস্তা খোঁড়ার পর একবার দেখা গেল, সেখানে বিদ্যুতের কেব্ল্ আছে। তখন কিন্তু সেখানে রাস্তাটাই বন্ধ থাকছে। তখন তাদের আবার নানা কারিগরি সমস্যাও থাকে। এখন আমরা অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে এক সময়ে সব ব্যবস্থা নিই। ফলে রাস্তা অনির্দিষ্টকালের জন্য পড়ে থাকা_এটা আর হয় না।

আরেকটা সমস্যা ছিল_বিভিন্ন সংস্থা রাস্তার কাজ করে। তারা কী করত_দুই মাস, ছয় মাস পর রাস্তার কাজ করে চলে গেল। তখন আমাদের এস্টিমেট করতে হয়। তখন বিভিন্নভাবে ফাইল আসে। আবার সেই ফাইল নিচে নেমে যায়। তারপর আবার তিন সপ্তাহের নোটিশ দিয়ে পত্রিকায় টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। আবার টেন্ডার রিসিভিং, নানা দিক থেকে আরো দুই মাস সময় চলে যায়। তারপর আবার এক বছর পরে গিয়ে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়। এখন আমরা বছরের শুরুতেই রাস্তা কাটার জন্য প্যানেল ঠিকাদার নিয়োগ করে দিই। এখন আমরা যেদিন রাস্তা কাটার অনুমোদন দিলাম, সঙ্গে সঙ্গেই প্যানেল ঠিকাদারকে কাজ করার কথা বলে দিলাম। একটির কাজ শেষ হলে আমাদের কাজ শুরু হয়। এখন মাসকে মাস কাটা রাস্তা পড়ে আছে_এ রকম নজির নেই।

কালের কণ্ঠ : এখন কী পরিমাণ রাস্তা ভালো নেই_কোনো হিসাব আছে আপনাদের কাছে?

মেয়র :
খুব বেশি নেই। ১০-১৫ শতাংশ হতে পারে।

কালের কণ্ঠ : আপনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নয়, যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পর্কে আপনার ব্যক্তিগত অনুভূতি জানতে চাই।

মেয়র :
এটা আরো আগে হলে ভালো হতো। যেমন_আমার পরিচিত একটি পরিবারের তিন ভাইকে রায়েরবাজার বধ্যভূমির কাছে নিয়ে হত্যা করা হয়। সেই মৃতদেহগুলো আমি জিপে করে নিয়ে এসেছি। সেই মৃতদেহের পাশে মহিলা সাংবাদিক সেলিনা পারভীনের মৃতদেহও পড়ে ছিল। এ বিষয়গুলোর বিচার তো তখনই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমরা করিনি। সমস্যাটাকে আমরা বড় করে ফেলেছি। দীর্ঘদিন পর আওয়ামী লীগ সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। এটা যেন তারা সঠিকভাবে করে। এটা যেনতেনভাবে, লোকদেখানো, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে না দেখে যেন সঠিকভাবে করা হয়_এটাই আমি চাই।

কালের কণ্ঠ : আপনি কি নির্বাচন করছেন?

মেয়র : আমি একটা দল করি। দলের একটা ডিসিপ্লিন আছে। দল সিদ্ধান্ত নেবে।

কালের কণ্ঠ :
আগামী দিনে নির্বাচন-পরবর্তী মেয়রের সামনে চ্যালেঞ্জগুলো কী কী?

মেয়র : আর্থিক বরাদ্দ বাড়াতে হবে। অনিয়ন্ত্রিতভাবে শহরের পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজউক তো এত দিন চিন্তা করেনি। রাজউকের চিন্তা করা উচিত ছিল। রাস্তার ধারে হয়তো একটা পাবলিক টয়লেট বানানো দরকার। কিন্তু টাকা নেই। বিদেশিরা এ খাতে অর্থ দিতে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা যেহেতু জায়গা দিতে পারলাম না, সেহেতু হলো না। আবার হয় কী, আমরা হয়তো ফুট ওভারব্রিজ বানাব কিংবা একটা কনটেইনার রাখার জন্য কিছু বানাব। যার দোকানের সামনে পড়ে, তিনি তীব্র বিরোধিতা করেন। বানাতে দেন না। আমরা ফুট ওভারব্রিজ বানাতে পারি না। কারো বাড়ির সামনে ব্রিজ পড়লে তিনি মনে করেন, তাঁর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে। পাবলিক টয়লেট বানানো দরকার। ঢাকা শহরে এত মহিলা চলাচল করছে, তারা সময়মতো টয়লেটে যেতে পারছে না। শরীরের ওপর প্রেসার পড়ছে, কিডনির ওপর প্রেসার পড়ছে। এগুলো আমরা আগে ভাবিনি। এখন যদি বলি, ২০০ পাবলিক টয়লেট বানাব, জায়গা কই?

কালের কণ্ঠ :
আপনাকে ধন্যবাদ।

মেয়র : আপনাদেরও ধন্যবাদ।

[ad#co-1]