ভণ্ড আমজাদের জামিন নামঞ্জুর, জেলহাজতে

কাজী দীপু মুন্সীগঞ্জ থেকে: সিরাজদিখানের খাসনগর আস্তানা থেকে গ্রেফতার ভণ্ড আমজাদ ও তার ৩ সহযোগীকে ২ দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল মুন্সীগঞ্জ আদালতে হাজির করা হয়। এর মধ্যে মামলার প্রধান আসামি আমজাদ ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এদিকে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে আসামিদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। জেলা প্রশাসনের গঠন করা ৩ সদস্য তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন গতকাল দাখিলের কথা থাকলেও তার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসানুল ইসলাম।

আদালতে শতাধিক নারী পুরুষের ভিড়

ভণ্ড আমজাদ ও তার ৩ সহযোগীকে আদালতে নেয়া হলে গতকাল খাসনগর গ্রামের শতাধিক নারী-পুরুষ ভিড় জমিয়েছিল। এ সময় খ্সানগর গ্রামের আরদশ আলীর ছেলে তিতুমির কলেজের ছাত্র মোহাম্মদ আলী বলেন, ঝাড়ফুক দিলেও নির্যাতনের যে অতিরঞ্জিত ছবি ছাপা হয়েছে তা পত্রিকায় দেখলেও বাস্তবে দেখা যায়নি। নুরু মিয়ার চাচাতো ভাই শফিকুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকদের খবর দিয়ে নিয়ে যায় সাবেক মেম্বার সামছুদ্দিন মিয়ার ছেলে শহীদ। তিনি বলেন এখন বুঝতে পারছি, ফটো সাংবাদিক কবির নিজের চাকরির প্রমোশনের জন্য ছবিগুলো তুলেছেন। তিনি দাবি করেন সেই সময় আধ্যাত্মিক জগতের ৫০০ বই ছাপিয়ে দেয়ার কথা বলা হয়েছিল।

আমাদের সময়
———————————————————————-
প্রলোভন দেখিয়ে ছবি তোলেন কবির
ভণ্ডপীরের জবানবন্দী
ভণ্ডপীর আমাজাদ হোসেন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হাসনাতের খাস কামরায় এ জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়।

ভ-পীর আমজাদ স্বীকারোক্তিতে বলেন, তিনি স্বপ্নে জেনে ২টি সুরা (ফাতেহা ও এখলাছ) পড়ে ফুঁ দিয়ে প্রথমে এলাকার নুরু মেম্বারের মাকে প্যারালাইস রোগ থেকে সুস্থ করেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে রোগী আসতে থাকে। দেড়/দুই মাস ধরে এমন চলছিল। একই গ্রাম সিরাজদিখান উপজেলার খাসনগরের শামসুদ্দিনের পুত্র শহীদ এসে বলে ছবি তোলার কথা এবং একদিন শহীদ ও টেকেরহাটের কবির হোসেন (প্রথম আলোর ক্যামেরাম্যান) আসে। প্রচারে রোগী বাড়বে এমন প্রলোভন দেখায়। এমন সময় মানসিক ভারসাম্যহীন এক রোগী আসে, তারা তাকে শুইয়ে পেটাতে বলে। আমি আসত্মে পেটানোর অভিনয় করলে,শহীদ বলে জোরে পেটানোর অভিনয় করতে। তারপর ছবি তুলে। চোখ বুজিয়েও ছবি তোলে।

এই জবানবন্দীতে জানান, একদিন স্বপ্নে দেখেন তার মৃত বাবা তাকে এই ফুঁ দিয়ে চিকিৎসার কথা জানান। এর পর আলস্নাহর প্রতি বিশ্বাস রেখে দু’টি সুরা বলে তিনি ফুঁ দিয়েই চিকিৎসা করছিলেন বলে এতে উল্লেখ করেন। পুলিশ সূত্রে এই তথ্য জানা যায়।

মানসিক ভারসাম্যহীন জরিনা বেগমের পুত্র এনামুলের বাদী হওয়ায় মামলায় (মামলা নং ১২) তাকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল। আর এই মামলায়ই ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়। পরে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়। তবে অন্য ২টি মামলায় রিমান্ড বা স্বীকারোক্তি গ্রহণের ব্যাপারে পুলিশ কোন মনত্মব্য করেনি। এদিকে তার তিন সহযোগীকেও জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে তাদের কোন জবানবন্দী নেয়, হয়নি। তদন্তকারী কর্মকর্তা দারোগা আব্দুল মান্নান জানান, চার জনেরই জামিনের বিরোধিতা করে আদালতে আবেদন জানান, রিমান্ডে তথ্য পাওয়া গেছে_ সঠিক তদন্তের স্বার্থে জামিনের বিরোধিতা করেন।

জনকন্ঠ
—————————————————————————–
চিকিৎসা (!) পদ্ধতি নিয়ে ছাপা ছবিগুলোর ভঙ্গি ফটো সাংবাদিকের শিখিয়ে দেওয়া
১৬৪ ধারায় ভণ্ডপীর আমজাদ

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের ভণ্ড পীর আমজাদ হোসেন গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। জেলার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হাসনাতের খাস কামরায় এই জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

আমজাদের কাছে চিকিৎসা নিতে আসা মানসিক ভারসাম্যহীন জরিনা বেগমের ছেলে এনামুলের দায়ের করা মামলায় দুই দিনের রিমান্ড শেষে সে এই জবানবন্দি দেয়।

আদালতসংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের ভাষ্য মতে, জবানবন্দিতে আমজাদ দাবি করে, একটি জাতীয় দৈনিকে তার চিকিৎসা (!) পদ্ধতি নিয়ে ছাপা হওয়া ছবিগুলোতে তাকে যেসব ভঙ্গিতে দেখা গেছে সেগুলো সংশ্লিষ্ট ফটো সাংবাদিকের শিখিয়ে দেওয়া।

জবানবন্দিতে আমজাদ বলে, কয়েক মাস আগে সে তার মৃত বাবাকে স্বপ্নে দেখে। সে দেখে, তার বাবা তাকে সুরা ফাতেহা ও সুরা এখলাস পড়ে অসুস্থ লোকজনের চিকিৎসা করতে বলেন। সে অনুযায়ী আমজাদ প্রথমে স্থানীয় নুরু মেম্বারের মাকে চিকিৎসা করে। এ খবর ধীরে ধীরে আশপাশের এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে তার কাছে রোগীর ভিড় বাড়তে থাকে। এ অবস্থায় স্থানীয় শামসুদ্দিন মেম্বারের ছেলে শহীদ তার এ চিকিৎসার কথা পত্রিকায় প্রচারের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে। কয়েক দিন আগে শহীদ একজন ফটো সাংবাদিক নিয়ে আসে। এ সময় এনামুলের মা জরিনা বেগমকে সে চিকিৎসা দিচ্ছিল। তখন ওই ফটোসাংবাদিক তাকে লাঠি উঠিয়ে জরিনাকে মারার ভান করতে বলে। আমজাদ তখন লাঠি উঠিয়ে জরিনাকে মারার ভয় দেখায়। সাংবাদিক জরিনাকে জোরে জোরে মারার ভান করার কথা বলতে সে জরিনাকে জোরে মারার ভান করে।

জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আমজাদকে গতকালই জেলহাজতে পাঠানো হয়।

আমজাদের বিরুদ্ধে সিরাজদিখান থানায় গত ১২ এপিল ভণ্ডামি, প্রতারণা ও হত্যা চেষ্টার দায়ে তিনটি মামলা হয়। একটি মামলার বাদী শিশু নীপা-দীপার মা পুষ্পরানী। একটির বাদী জরিনা বেগমের ছেলে এনামুল। তৃতীয় মামলার বাদী সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান। এনামুলের দায়ের করা মামলায় আমজাদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত ১৩ এপ্রিল পুলিশ সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পুষ্পরানী ও পুলিশ বাদী হয়ে করা মামলা প্রসঙ্গে সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, তিনটি মামলা একই ধরনের হওয়ায় আমরা তাকে একটি মামলাতেই রিমান্ডে এনেছি। শিগগিরই বাকি দুটি মামলাতেও তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হবে।

এদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিরাজদিখান থানার এসআই আ. মান্নান কালের কণ্ঠকে বলেন, রিমান্ডে আমজাদ জানিয়েছে, মৃত বাবার স্বপ্নে দেখানো ইচ্ছা অনুযায়ী সে নুরু মেম্বারের মাকে চিকিৎসা (!) করলে তার কাছে লোকসমাগম বাড়তে থাকে। লোকজনকে শৃঙ্খলামত চিকিৎসা (!) দিতে স্থানীয় আরব আলীকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি রোগীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা তুলে সপ্তাহে তাকে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা করে দিত। বাকি টাকা কমিটির লোকজন ভাগ করে নিত। পাশের টেকেরহাট গ্রামের ফটোসাংবাদিক কবির হোসেন বিখ্যাত ফকির করে দেওয়ার কথা বলে আমজাদকে দিয়ে বিভিন্ন ভঙ্গির ছবি তুলে নেন।

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. মোশারফ হোসেন কালের কণ্ঠকে জানান, পুরো ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটি গতকাল বিকেলে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা না করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদন প্রসঙ্গে তিনি কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান।

কালের কন্ঠ
——————————————————————————————-

ভণ্ড আমজাদের আস্তানায় সপ্তাহে আসতো ২৫ হাজার টাকা

কাজী দীপু # মুন্সীগঞ্জ থেকে:
সিরাজদিখান উপজেলার বালুরচর ইউনিয়নের খাসনগর গ্রামে ভণ্ড আমজাদের আস্তানায় সপ্তাহে অন্তত ২৫ হাজার টাকার উপঢৌকন আসতো। এর মধ্যে প্রতি সপ্তাহে আমজাদকে ৩ হাজার টাকা দেয়ার পর বাকি টাকা কমিটির সদস্যরা ভাগ করে নিতেন। ২ দিনের রিমান্ডে থাকাকালে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ভণ্ড আমজাদ এসব কথা বলেছেন।

আমজাদের বরাত দিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আব্দুল মান্নান জানান, দেড় মাস আগে স্বপ্নে আমজাদের মৃত বাবা নাজির আলী ছেলেকে বলেছেন দোয়া পড়ে অসুস্থ মানুষদের ঝাড়-ফুক দিলে রোগ ভাল হয়ে যাবে। এরপর প্রথমে প্রতিবেশী স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরু মিয়ার মা গুলেনুর বেগমকে চিকিৎসা দিলে তার ভাল হয়ে যাবার খবর গ্রামে প্রচার হয়ে যায়। এতে তার বাড়িতে রোগীরা আসেত থাকে।

আমজাদ আরো জানিয়েছেন ১৫ দিন আগে প্রচুর মানুষ হলে রোগীরা ৫-১০ টাকা ও ফলমূল দেয়। এতে ইউপি সদস্য নুরু মিয়া, আসলাম মাদবরসহ অপর মাতব্বররা সিদ্ধান্ত নেয় কমিটি গঠনের। আরব আলীকে সভাপতি, আসলাম মাদবরকে সাধারণ সম্পাদক ও সাঈদকে কোষাধ্যক্ষ করা হয়। জুলহাস ও মঞ্জিল টাকা উত্তোলন করে কোষাধক্ষের কাছে জমা দিতেন।

পত্রিকায় প্রচার হলে তার খ্যাতি হবে এবং রোগী বেড়ে যাবে এমন প্রলোভনে পড়েই ছবি তুলতে দেয়া হয়েছিল বলে আমজাদ পুলিশকে জানিয়েছেন।

আমাদের সময়

[ad#co-1]