শেখরনগরের মেলা

শেখরনগরের মেলার নাম শোনেনি এমন কাউকে মুন্সিগঞ্জে খুঁজে পাওয়া যাবে না। ৫০০ বছরের বেশি পুরোনো এই মেলা কিন্তু বৈশাখে বসে না, মেলা হয় চৈত্রে। এবার এই মেলা হয়ে গেল ৩০ মার্চ। প্রতিবছর এই মেলা বসে ইছামতী শাখা নদীর পারে, শেখরনগর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ও রক্ষাকালী মন্দিরের আশপাশের মাঠজুড়ে। মেলার পরিসর ছোট হলেও বরাবরের মতো এবারও বসেছিল হাজার তিনেক স্টল। সমাবেশ হয়েছিল লক্ষাধিক লোকের।

শেখরনগর গ্রামের বাসিন্দা নাজির হোসেন (৩০) জানান, মেলায় প্রতিবছর তাঁর বাবার সঙ্গে প্রসাধনী ও শিশুদের খেলনার দোকান দিয়ে আসছেন। গত বছর তাঁর বাবা মারা যাওয়ায় এবার একা দোকান দিয়েছেন। মেলায় ঢাকার শাঁখারীবাজার, নারায়ণগঞ্জ, শ্রীনগর, সিরাজদিখান, কেরানীগঞ্জ ও দোহার থেকে লোকজন এসেও দোকান দিয়েছিলেন।
মন্দির কমিটির সভাপতি সুকুমার চন্দ্র দাস জানান, এই মন্দিরের বয়স প্রায় ৫১৫ বছর। মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এখানে মেলা বসছে প্রতিবছর। তিনি আরও জানান, মেলায় ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও মিয়ানমার থেকে লোকজন আসে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সড়কপথে ও লঞ্চ-ট্রলার দিয়ে বিশেষ করে বরিশাল, খুলনা, বাগেরহাট, চাঁদপুর, ফরিদপুর থেকে লোকজন আসে। ওই দিন লঞ্চ ও ট্রলার ঘাট এলাকা মানুষের ভিড়ে সরগরম হয়ে ওঠে। এলাকার রতন চন্দ্র দাস বলেন, মেলা ভোরবেলা শুরু হয়, চলে গভীর রাত পর্যন্ত। খাবারের জন্য চিন্তা করতে হয় না। ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে অনেকে এসে স্বেচ্ছায় খিচুড়ি রান্না করে খাওয়ান। ওই দিন আশপাশের বাড়িতে অতিথি ও স্বজনে ভরে যায়।

তানভীর হাসান, মুন্সিগঞ্জ