ভণ্ড পীর রিমান্ডে, আরও একটি মামলা

ভণ্ড পীর আমজাদ হোসেন ও তাঁর তিন সহযোগীকে গতকাল আদালতে হাজির করা হয়
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের ভণ্ড পীর আমজাদ হোসেন ও তাঁর তিন সহযোগীকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ গতকাল মঙ্গলবার তাঁদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চায়। আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ভণ্ড পীর ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বাদী হয়ে আরও একটি মামলা করেছেন। এ নিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হলো। মামলার এজাহারে চিকিৎসার নামে রোগীদের নির্যাতন ও তাদের আটকে রেখে হত্যার চেষ্টা করার অভিযোগ আনা হয়। আগের দুটি মামলার বাদী ছিলেন নির্যাতনের শিকার দীপা ও নীপার মা পুষ্পরানী এবং আরেক ভুক্তভোগী জরিনা।

পুলিশ জানায়, মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করতে গত সোমবার রাতে অভিযান চালালেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তবে পীরের আস্তানায় চিকিৎসার কাজে ব্যবহূত মালামাল জব্দ করতে গতকাল সন্ধ্যায় পুলিশের একটি দল খাসনগর গ্রামে গিয়েছে।

পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, ভণ্ড পীর আমজাদ হোসেন, সহযোগী নুরু মেম্বার, ইলিয়াস মাদবর ও আবুল কালামকে গতকাল দুপুর ১২টার দিকে সিরাজদিখান থানা থেকে আদালতে আনা হয়। বেলা আড়াইটায় তাঁদের আমলি আদালত-২-এর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম হাবিবুর রহমানের আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। ভণ্ড পীরকে দেখতে এ সময় আদালতের চত্বরে মানুষের ভিড় জমে যায়। পুলিশ তিন মামলায় আসামিদের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী শফিউদ্দিন আহমেদ রিমান্ডের বিরোধিতা করে তাঁদের জামিন প্রার্থনা করেন।

জেলা প্রশাসনের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত দলের প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসানুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তদন্তকাজ চলছে। প্রয়োজনে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় বাড়ানোর আবেদন করা হতে পারে। কমিটির দুই দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা ছিল।

স্মারকলিপি: ভণ্ড পীর আমজাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মুন্সিগঞ্জে ন্যাশনাল চিলড্রেনস টাস্কফোর্সের (এনসিটিএফ) শিশুরা গতকাল জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছে। সংগঠনের সভাপতি রাসেল সরকার জানায়, ‘আমজাদ হোসেন যেভাবে শিশুদের চিকিৎসার নামে নির্যাতন করেছেন, তাঁর শাস্তি হওয়া উচিত।’
পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

[ad#co-1]