ভণ্ড পীর রিমান্ডে

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের ভণ্ড পীর আমজাদ হোসেন ও তাঁর তিন সহযোগীকে আজ মঙ্গলবার দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। সরকারপক্ষে কোর্ট দারোগা প্রদীপ কুমার আসামিদের সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার দাবি জানালে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ভণ্ড পীর ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বাদী হয়ে আরও একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই নিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হলো।

এদিকে পুলিশ জানায়, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে গত সোমবার রাতভর পুলিশ অভিযান চালায়। তবে অন্য কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। পীরের আস্তানায় চিকিত্সাকাজে ব্যবহূত মালামাল জব্দ করতে আজ সন্ধ্যায় পুলিশ সেখানে গেছে।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া ভণ্ড পীর আমজাদ হোসেন, তাঁর সহযোগী নুরু মেম্বার, ইলিয়াস মাতবর ও আবুল কালামকে আজ দুপুর ১২টার দিকে সিরাজদিখান থানা থেকে আদালতে আনা হয়। বেলা আড়াইটার দিকে তাঁদের আমলি আদালত-২-এর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম হাবিবুর রহমানের কাছে যাওয়া হয়। ভণ্ড পীরকে দেখতে এ সময় আদালত চত্বরে ভিড় জমে যায়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী শফিউদ্দিন আহমেদ রিমান্ডের বিরোধিতা করেন এবং আসামিদের জামিন প্রার্থনা করেন।
জানা গেছে, ভণ্ড পীরসংক্রান্ত ঘটনায় জেলা প্রশাসনের গঠিত তিন সদস্যের দল এখনো তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দেয়নি। তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসানুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, তদন্তকাজ চলছে। প্রয়োজনে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় বৃদ্ধির আবেদন করা হতে পারে।

এদিকে, ভণ্ড পীর আমজাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মুন্সিগঞ্জে শিশুভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল চিলড্রেনস টাস্কফোর্সের (এনসিটিএফ) শিশুরা আজ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে।

প্রথম আলো

—————————————————————–

ভ-পীর সহযোগীসহ দুই দিনের রিমান্ডে

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার খাসনগর গ্রামে র‌্যাব ও পুলিশের অভিযানে গ্রেফতারকৃত কথিত ভ-পীর আমজাদ ফকির ও তার তিন সহযোগীকে ২ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার মুন্সীগঞ্জের আদালতে গ্রেফতারকৃতদের প্রেরণ করা হলে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের পর তাদের পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিরাজদিখান থানায় আনা হয়। এদিকে সহযোগীসহ কথিত ভ-পীর আমজাদ ফকির গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে সিরাজদিখান উপজেলার খাসনগর গ্রামের ওই ভ-পীরের অপর

সহযোগীরা পালিয়ে গেছে। গত সোমবার রাত থেকেই পুলিশের গ্রেফতারের ভয়ে গ্রামটি পুরুষশূন্য হয়ে পড়ে। কথিত ওই পীরের প্রায় ৩০ জনেরও বেশি সহযোগী থাকার কথা জানিয়েছেন গ্রামবাসী। পীরের আস্তানা ও আস্তানার আশপাশের ২৫টি বাড়িঘরে সোমবার রাত থেকে ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে। সেখানকার বাড়িগুলোর পুরুষ ও নারীরাও পালিয়ে গেছেন।

অন্যদিকে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জের সিনিয়ির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গ্রেফতারকৃতদের হাজির করা হয়েছে। এদিন সকালে সিরাজদিখান থানা পুলিশ ভ-পীর আমজাদ ফকির ও তার সহযোগী মো. ইলিয়াস হোসেন মাদবর, আবুল কালাম মাদবর, নূর মোহম্মদ মেম্বারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠায়। দুপুর ১টার দিকে তাদের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুর রহমানের আদালতে হাজির করা হলে ভ-পীর ও তার ৩ সহযোগীর ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

এ সময় কথিত ভ-পীর ও তার সহযোগীদের নিযুক্ত আইনজীবী সফিউদ্দিন আহমেদ আদালতে তাদের জামিনের আবেদন করলে বিচারক আবেদন নামঞ্জুর করেন। উল্লেখ্য, সোমবার সকালে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার খাসনগর গ্রামে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে কথিত পীর আমজাদ ফকির ও তার ৩ সহযোগীকে গ্রেফতার করে।

কথিত পীরের ভাষ্য

মুন্সীগঞ্জের চাঞ্চল্যকর ভ-পীর আমজাদ হোসেন গতকাল মঙ্গলবার আদালত প্রাঙ্গণে পীর নয়, নিজেকে একজন কবিরাজ বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ফলমূল, শাকসবজির উপহার ও ২০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বকশিশ নিয়ে গ্রামের গরিব মানুষদের রোগমুক্তিতে বনজ ওষুধ দিতাম। আমি কখনো পত্রিকায় ছাপানো ছবির মতো কোনো শিশুকে লাথি মেরে, বুকের ওপড় চড়ে কিংবা পিটিয়ে অজ্ঞান করে ফেলতাম না। ওভাবে চিকিৎসা করা আমার কবিরাজির ধর্ম নয়। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ আদালত চত্বরে বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের কাছে কথিত ভ-পীর আমজাদ এসব কথা জানিয়েছেন। আমজাদ ফকির পত্রিকায় ছাপানো ছবির কথা বলতে গিয়ে জানান, আমার সঙ্গে খাতির যতœ করে কৌশলে ওই ছবি তোলা হয়েছে। আড়াই মাসের শিশুর বুকের ওপড় উঠে দাঁড়ালে তার মারা যাওয়ার কথা বলে কথিত ভ-পীরের মন্তব্য। গ্রেফতারকৃত সহযোগী স্থানীয় ইউপি সদস্য নূর মোহাম্মদ মেম্বার বলেন, ছবিগুলো মেকি। চক্রান্তের শিকার আমরা। সাজানো ঘটনায় পীর ও পীরের সহযোগী হয়ে উঠেছি আমরা। আমজাদ ফকির একজন কবিরাজ, সে কোনো পীর নয়।

ভ-পীরের মুখবন্ধ
অন্যদিকে কথিত ভ-পীর আমজাদ ফকির পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে কোনো তথ্য দেননি। গত সোমবার রাতে জেলার সিরাজদিখান থানায় গ্রেফতারকৃত আমজাদ ফকির ও তার ৩ সহযোগীর কর্মকা- সম্পর্কে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। কিন্তু পুলিশ তাদের কাছ থেকে নতুন কোনো তথ্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। পুলিশ জানায়, এ ব্যাপারে ওই ভ-পীর ও সহযোগীদের মুখবন্ধ রয়েছে। তারা কোনো কিছুই বলছেন না। শুধু জানাচ্ছেন আমজাদ পীর দরবেশ নয়। সে কবিরাজি করতো। গ্রামবাসীদের কবিরাজি ওষুধ প্রদান করতো।

এ ছাড়া কোনো তথ্যই আমজাদ ফকির পুলিশকে বলেনি বলে সিরাজদিখান থানা পুলিশ গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানায়। তবে কথিত পীর ও সহযোগীদের রিমান্ডে আরো জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত থাকবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ডেসটিনি
——————————————————————————————

ব্যবসায় লাভের প্রলোভনে ছবির পোজ দেন ভণ্ড আমজাদ

কাজী দীপু মুন্সীগঞ্জ থেকে:
সংবাদপত্রে ছবিসহ প্রতিবেদন প্রচার করলে আমজাদ হোসেনের পসার হবে এমন লোভ দেখিয়ে ছবি তুলেছিলেন প্রথম আলোর ফটোসাংবাদিক কবির হোসেন। ভণ্ডপীর আমজাদ হোসেন ও কবিরের বাড়ি সিরাজদিখানে বালুরচর ইউনিয়নের পাশাপাশি গ্রামে হওয়ায় তার কথা বিশ্বাস করেছিলেন আমজাদ ও তার কমিটির সদস্যরা। তা না হলে হয়তো ছবিই তুলতে দেয়া হতো না। এসব কথা বলেছে খাসনগর গ্রামবাসী। ফটোসাংবাদিক কবিরের ভাই তকবির হোসেন বললেন, অন্যায় ও অত্যাচার করে ওই এলাকায় কাউকে মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে দেয়া যাবে না। তাই ভণ্ডপীর ও কমিটিকে নানাভাবে বুঝিয়ে ছবি তোলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার মুন্সীগঞ্জের কাচারী এলাকায় অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম অসীমের চেম্বারের বাইরে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তকবির হোসেন আরো বলেন, এ জন্য ৩-৪ দিন চেষ্টা করতে হয়েছে। এমনকি চিকিৎসার নামে নির্যাতন করে ভণ্ডপীর দুই শিশুকে যে মেরে ফেলেছে তার প্রমাণ না থাকায় প্রথম আলোর প্রতিবদনে তথ্যটি উল্লেখ করা হয়নি।

১২ এপ্রিল প্রথম আলোয় প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, আড়াই মাসের শিশু দীপা ও নীপাকে পা ধরে ঘুড়াচ্ছেন ভণ্ডপীর আমজাদ হোসেন। গতকাল বিকেলে বালুরচর ইউনিয়নের নয়াগাঁও গ্রামে গিয়ে কথা হয় দিপা ও নীপার নানী বাসনা রানী বিশ্বাসের সঙ্গে। ছবি তোলার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকের কথামতোই ছবি তোলা হয় বলে তিনি দাবি করেছেন।

ভণ্ডপীর আমজাদের প্রতিবেশী জরিনা বেগম বলেন, সাংবাদিকদের অনুরোধেই ছবিগুলোতে আমজাদ পোজ দিয়েছে। এছাড়া গ্রামের লোকজন ও স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, আধ্যাত্মিক চিকিৎসার পসার হবে এমন প্রলোভন দেখানোর ফলে নির্যাতনের মাধ্যমে চিকিৎসার ছবি তুলতে দেয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা দাবি করেছেন, সাংবাদিকদের কথামতো ছবির পোজ দিলেও ভণ্ডপীর আমজাদ চিকিৎসার নামে মাঝেমধ্যে মারধর করত। প্রথম আলোর ফটোসাংবাদিক কবির হোসেন বলেছেন, ভণ্ডপীর প্রথমে ছবি তুলতে বাধা দেয়। এ কারণে ৩ দিন সময় ব্যয় করে নানা কৌশলে ছবি তোলা হয়েছে। তবে এগুলো সাজানো ছবি নয় বলে তিনি দাবি করেন।

আমাদের সময়
———————————————————————————————

এখনও অপচিকিৎসা

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের ভণ্ডপীর প্রতারক আমজাদ হোসেন ব্যাপারির ভীতিকর চিকিৎসার খবর রাজধানীর একাধিক পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় পরিবেশিত হইয়াছে গত পরশু সোমবার, ১২ এপ্রিল/২০১০। সচিত্র ঐ রিপোর্টে এক ভন্ড পীরের বিকৃত চিকিৎসার কাহিনীই প্রতিবেদনটিতে প্রকাশ পাইয়াছে। উহা অবশ্যই অমানবিক, ভয়ংকর, লোমহর্ষক এবং পৈশাচিকও বটে। একুশ শতকের আধুনিক কালপর্বে মধ্যযুগীয় এই বর্বরোচিত অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই মানিয়া নেওয়া যায় না। ইহাকে প্রতিকারহীনভাবে যাইতে দেওয়া যায় না। ভণ্ডপীরের ধর্মের নামে অধর্ম, চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা সমাজের প্রগতির চাকাটিকে পেছনের দিকে টানিয়া লইয়া যাওয়ারই শামিল। এক সময়ের রিকশাচালক এই ভণ্ডপীর চিকিৎসার কথা বলিয়া মাসুম বাচ্চা- দুধের শিশুদের গাছে গাছে ঝুলাইয়া রাখিত। উহাদের লাথি মারিতে মারিতে বাড়ির উঠানের এক প্রান্ত হইতে অপর প্রান্তে লইয়া যাইত। কখনও কখনও শিশুদের পেটের উপর দাঁড়াইয়া বিড় বিড় করিয়া নানা কথা জপিত। ইহাই নাকি তাহার চিকিৎসার পন্থা? এইসব প্রশ্নের জবাব বোধকরি আমাদের সমাজ দিতে পারিবে না। দিতে হইলে আমাদের অন্ধ চোখের কোটর খুলিয়া সমাজকে সবাক-সোচ্চার হইতে হইবে অচিরকালের মধ্যেই। তাহা না হইলে সমাজের গতি মুখ থুবড়াইয়া পড়িবে, হয়তো অন্য নিরিখে মধ্যযুগীয় বিবরেই। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভূতপূর্ব অগ্রগতির যুগেও ভণ্ডপীর-ফকিরদের ঝাড়ফুঁক জাতীয় চিকিৎসা জারি রহিয়াছে সমাজরন্ধ্রে।

খবরে প্রকাশ, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল বালুচরের খাসনগর আস্তানা হইতে ভণ্ডপীর আমজাদ ব্যাপারিকে গ্রেফতার করা হইয়াছে। কিন্তু তাহাকে গ্রেফতার করিয়া কেবল বসিয়া থাকলেই চলিবে না। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এমন ভণ্ড-প্রতারকদের আরও অনেক গোপন আড্ডা-আস্তানা রহিয়াছে। সেখানে হানা দিতে হইবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী এজেন্সি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। এই অশুভ, অপশক্তির বিষদাঁতকে উপড়াইয়া ফেলিতে হইবে। কোনো প্রকার বিলম্ব না করিয়া।

গা-শিহরিত হওয়া এই খবরে দেশের মানুষ আতংকগ্রস্ত হইয়াই পড়িবেন, ইহাই তো স্বাভাবিক। ভণ্ডপীরের এই উদ্ভট-ভূতুড়ে ভয়ঙ্কর পেশাটিকে চিকিৎসায় আমাদের সমাজ যে পরিস্থিতির অভিজ্ঞতাপ্রাপ্ত হইল উহা দূরীভূত করিতে কোনো প্রকার বিলম্ব করা যাইবে না। বরং অবিলম্বে চিকিৎসার নামে এই ব্যাপক বিকৃতির যেন আর বিস্তার-অপপ্রসার ঘটিতে না পারে সেইদিকে আমাদের সকলকেই বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখিতে হইবে। সচেতন থাকিতে হইবে। অর্থাৎ সমাজ-সচেতনতার দিককে করিতে হইবে আরও সক্রিয় ও বহুমাত্রিক।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসার নামে এই রকম অপচিকিৎসা একাই করিয়া চলিয়াছে প্রতারক আমজাদ ব্যাপারি, তাহা নহে। দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও অসংখ্য মানবতাবিরোধী দুষ্ট ভুয়া-প্রতারক চিকিৎসক চক্র রহিয়াছে। দেশের সহজ-সরল-সাধারণ অভাব ও দুর্দশাপীড়িত মানুষের অশিক্ষা-অজ্ঞতা ও অসহায়ত্বকে পুঁজি করিয়া এই মহাভণ্ড অপচিকিৎসকেরা অপচিকিৎসার ফাঁদ পাতিয়া বসিয়াছে। সাধারণ মানুষজনদের বিভ্রান্ত করিতেছে। অর্থকরী ফায়দা লুটিতেছে বেশুমার। ইহার কোনো ইয়ত্তাও নাই। এই সমস্ত অপচিকিৎসার কারণে শিশু, বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অকালে প্রাণ হারাইয়াছে অনেকেই। পঙ্গুত্ববরণ করিয়াছে কেহ কেহ। কিন্তু এইরূপ অপ অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসার প্রবণতা রোধ করিতে হইবে।

এই ধরনের অপচিকিৎসা রোধে সবার আগে প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা। সমাজের শিক্ষিত সজ্জন ব্যক্তিদের এই ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করিতে হইবে। সাধারণ মানুষ সচেতন হইলে, তাহারা অপচিকিৎসকদের শরণাপন্ন না হইলে, এমনতিতেই প্রতারকশ্রেণীটি নিষ্ক্রিয় হইয়া যাইবে। পাশাপাশি ভণ্ড-প্রতারকদের দমনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থারও ভূমিকা রাখা বাঞ্ছনীয়।

ইত্তেফাক
——————————————————————-

পীরের নির্মম নির্যাতনের পর শিশু দু’টি সুস্থ আছে কিভাবে?

মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল, মুন্সীগঞ্জ ॥
আড়াই মাসের যমজ শিশু নিপা-দিপাকে নির্যাতনের যে ছবি প্রথম আলো প্রকাশ করেছে এ সময় উপস্থিত ছিলেন তাদের নানি বাসনা রানী (৫৫)। তিনি বলেছেন, নিপা-দিপাকে মাটিতে রেখে পা ছুঁয়ে দেয় পীর। উল্টো করে বেঁধে রাখা ছবিসহ বিভিন্ন ছবি তোলা হয়। এ সময় সাংবাদিক তাঁর ছবি তোলার সুবিধামতো ডানে-বাঁয়ে বিভিন্ন ভঙ্গি করতে বলে পীরকে। নিপা-দিপার মা পুষ্প রানী জানান, এ সময় তাঁকে সেখানে থাকতে দেয়া হয়নি। তাই তিনি জানেন না কি করা হয়েছে। তবে সুস্থ অবস্থায় তিনি এ যমজ শিশুদের বাড়ি নিয়ে আসেন। এটি গত ৫ এপ্রিল সোমবারের ঘটনা। এরপর সব ভালই চলছিল। কিন্তু ১২ এপ্রিল প্রথম আলো পত্রিকায় এ ছবি প্রকাশের পরই তিনি আঁতকে ওঠেন। পুষ্প রানীর প্রতিবেশীদেরও প্রশ্ন, এমনভাবে নির্যাতন করা হলে এ শিশু দু’টি কিভাবে বেঁচে আছে? মঙ্গলবার বিকেলে সিরাজদিখান উপজেলার নয়াগাঁও গ্রামে নিপা-দিপার নানাবাড়িতে গিয়ে কথা হয় তাদের সঙ্গে। এ সময় প্রতিবেশীরা বলেন, প্রথম আলো পত্রিকায় ঘটনাটি অতিরঞ্জিতভাবে প্রকাশিত হওয়ায় এখানে নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। পুষ্প রানী বলেন, এ ছবির কারণে নানা বিড়ম্বনার সৃষ্টি হচ্ছে। পুষ্প রানী এখন বাবার বাড়িতে। নিপা-দিপার বাবা দিলীপ মণ্ডলও এ বিষয় নিয়ে ক্ষুব্ধ বলে জানায় পরিবারের সদস্যরা। এখন স্বামীর বাড়ি যেতেও পুষ্প রানী আতঙ্কিত।

এদিকে ভণ্ডপীর আমজাদ হোসেনকে মঙ্গলবার মুন্সীগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। বিচারক হাবিবুর রহমান দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়া তার সহযোগী হিসেবে গ্রেফতারকৃত ইলিয়াস, কালাম ও নুরুমেম্বরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণ করেছেন। সহকারী পুলিশ সুপার সায়দুজ্জামান ফারুকী এ তথ্য জানান।

মুন্সীগঞ্জের পিপি এ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন জানান, প্রকাশ্য আদালতে ভণ্ডপীর আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, তাকে প্রলোভন দেখিয়ে প্রথম আলোর ফটোসাংবাদিক ছবিগুলো তুলেছেন। আমজাদ হোসেন আদালতে আইনজীবীদের বলেন, ঐ ফটোসাংবাদিক তাকে বলেছেন, আমি যেভাবে বলি সেভাবে পোজ দেন, খ্যাতি ছড়িয়ে পড়বে….। এ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন জানান, নাটকের মতো ঘটনা। আমজাদ হোসেন ঝাড়ফুঁক করেন এটি সত্য, কিন্তু এমন বর্বরভাবে নির্যাতনের যে চিত্র পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়েছে তা উদ্দেশ্যমূলক। তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে সাজানো ঘটনা প্রকাশ করা হয়েছে। সরকারকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্যই এটি করা হয়েছে বলে তিনি একজন আইনজীবী হিসেবে মনে করেন। আমজাদ হোসেনের বোন নাজমা জানান, ছবিগুলো যখন তোলা হয় তখন তিনিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আরও অনেকেই ছিল। তাঁর ভাইকে প্রলুব্ধ করে এ ছবিগুলো তুলে নেয় বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মঙ্গলবারও খাসনগরের আমজাদ হোসেনের বাড়ি গিয়ে অনেক লোকজনকে দেখা যায়। পীরের (!) নির্যাতনের ঘটনার কথা সবাই অস্বীকার করে বলেন, যদি এমন নির্যাতনের ঘটনা ঘটত তাহলে তো এমনভাবে লোকজন আসত না আর গ্রামবাসীও ক্ষেপে যেত। প্রতিবেশী ফাতেমা বেগম বলেন, এত কাছে থেকেও নির্যাতনের ঘটনা জানলাম না! এলাকার আলমগীর বলেন, আসলে ঘটনাটি যেভাবে প্রথম আলো প্রকাশ করেছে তেমন লোমহর্ষক নির্যাতনের কোন ঘটনা এখানে ঘটেনি। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু বক্কর বলেন, ছামসুদ্দিন মিম্বারের ছেলে শহীদের সাথে এ আমজাদ হোসেনের ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল বলেই এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রথম আলোর ফটোসাংবাদিক কবির শহীদের বন্ধু। এদিকে পাশের গ্রামের কবির হোসেন ও তার ভাই এখানে নানা অপকর্মে জড়িত বলেও এলাকাবাসী জানিয়েছে। কবির হোসেনের ভাইদের বিরুদ্ধে থানায় মারামারির মামলাও রয়েছে। এমনভাবে এ সংবাদ প্রকাশের পেছনে আরও নানা ঘটনা খুঁজছে প্রশাসন।

এদিকে আমজাদ হোসেনকে আদালতে নেয়ার পথে সাংবাদিকদের তিনি জানান, কিছুদিন আগে ছবি তুললেও রিপোর্টার শতদল সরকার ঘটনাস্থলে গিয়েছেন গত বৃহস্পতিবার। তখন এমন কোন ঘটনাই ঘটেনি। তাকে প্রলুব্ধ করেই এমন ঘটনা সাজানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে মঙ্গলবার জনকণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদের জন্য প্রথম আলোর সংশ্লিষ্ট রিপোর্টার শতদল সরকার মোবাইল ফোনে জনকণ্ঠের রিপোর্টারকে হুমকি দেন।

জনকন্ঠ

——————————————————————————————————————

বিখ্যাত করার প্রলোভনে নানা ঢঙে ছবি তোলেন সাংবাদিক
ভণ্ডপীর আমজাদের দাবি

শরীফ উদ্দিন সবুজ ও মো. মাসুদ খান, সিরাজদিখান থেকে ফিরে

নীপা ও দীপা নামের দুই শিশুকে নৃশংস পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান এলাকার ভণ্ডপীর আমজাদ হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

সিরাজদিখান থানার ওসি মতিউর রহমান জানান, আমজাদ ও তার সহযোগীদেরসহ ১৬ জনকে আসামি করে যে তিনটি মামলা হয়েছে, সেসব মামলায়
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আমজাদকে মুন্সীগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে আমজাদের তিন সহযোগী নুরু মেম্বার, কামাল হোসেন ও ইলিয়াসকে আদালতে হাজির করা হলেও তাদের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়নি। আদালতের নির্দেশে এই তিনজনকে মুন্সীগঞ্জ জেল হাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

গতকাল আদালতে নেওয়ার সময় সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের খাসনগর গ্রামের ভণ্ডপীর আমজাদের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা হয়। এ সময় আমজাদ হোসেন দাবি করে, তার চিকিৎসা-পদ্ধতি নিয়ে একটি পত্রিকায় যেসব ছবি ছাপা হয়েছে, সেগুলো তার চিকিৎসার প্রকৃত পদ্ধতি নয়। ওই পত্রিকার আলোকচিত্র সাংবাদিক তাকে বিখ্যাত করে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ওই সব ঢঙে ছবি তুলতে প্রলুব্ধ করে। তিনি বলেন, ওই ফটোসাংবাদিক গত ৫ এপ্রিল তার দরবারে আসেন। একই সময় নীপা ও দীপাকে চিকিৎসার জন্য তাদের মা, নানি ও খালা তার কাছে আসেন। এ সময় ওই সাংবাদিক তাকে এ বাচ্চাদের নিয়ে বিভিন্ন ভঙ্গিতে ছবি তুলতে বলেন। সাংবাদিক তাকে বলেন, এভাবে ছবি তুলে তা পত্রিকায় ছাপা হলে সে বিখ্যাত হয়ে যাবে। তার কাজকর্মে আরো সুবিধা হবে। যে কারণে ওই সাংবাদিকের নির্দেশনা অনুযায়ী সে শিশুদের বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করে বলে আমজাদ দাবি করে।

আমজাদ বলে, ‘আমি কোনো পীর না। কারো কাছে কোনো দিন নিজেকে পীর বলে দাবিও করিনি। আমি লেখাপড়া করিনি, স্কুল-কলেজে যাইনি।’ তবে সে দাবি করে, স্বপ্নে রোগ উপশমের জন্য দুটি সূরা আমল করার ও অন্যদের জানানোর নির্দেশ পায় সে। আমজাদ জানায়, কয়েক মাস ধরে অনেক লোক তার কাছে আসছে।
বালুচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক বলেন, গ্রেপ্তারের আগে কথিত পীর আমজাদ হোসেনের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। সে সময় আমজাদ দাবি করেছিল, এলাকার শামসুদ্দিন মেম্বারের ছেলে শহীদের সঙ্গে তার বিরোধ চলছে। এর জের ধরে শহীদ সাংবাদিক নিয়ে এসে তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় সংবাদ ছাপিয়েছে। তবে এ ব্যাপারে শহীদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

গতকাল খাসনগর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, আমজাদ হোসেনের বাড়িতেই বসানো হয়েছিল তার দরবার। সে যেখানে বসে চিকিৎসা (!) করত সে জায়গাটি এখনো ঘের দেওয়া। ভেতরে তার বসার জায়গার পাশে ভক্তদের দেওয়া প্রচুর ফলমূল ও খাবার রয়েছে। বাইরের কিছুটা জায়গা বাঁশ দিয়ে ঘেরা, ওপরে টিন। তার সঙ্গে জরির ঝালর ঝোলানো। গতকালও সেখানে বহু লোকের সমাগম দেখা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পত্রিকায় যে দুটি শিশুর ছবি ছাপা হয়েছে, সেই নীপা ও দীপার বাবার বাড়ি দণি কেরানীগঞ্জের পানগাঁও গ্রামে। আর নানার বাড়ি সিরাজদিখানের নয়াগাঁও গ্রামে। নীপা ও দীপাকে নিয়ে বেশ কয়েকদিন আগে তাদের মা পুষ্পরানী নয়াগাঁও বেড়াতে আসেন। গতকাল ওই বাড়িতে গেলে পুষ্পরানী জানান, জন্মের পর থেকেই শিশু দুটির ঠাণ্ডাজ্বর ও কাশির সমস্যা ছিল। তারা ‘পীর’ আমজাদের কাছে গিয়েছিলেন গত ৫ এপ্রিল। সেখানে একজন সাংবাদিক বসা ছিলেন। নীপা-দীপার ছবি তোলা ও চিকিৎসার স্বার্থে পুষ্পরানীকে দরবারের বাইরে অবস্থান করতে বলা হয়।

নীপা-দীপার নানি বাসনা রানী (৫০) দাবি করেন, একটি পত্রিকায় নীপা-দীপাকে চরকির মতো ঘোরানো হয়েছে বলে যা ছাপা হয়েছে প্রকৃতপ েতেমনটি ঘটেনি। তবে পা ধরে শিশু দুটিকে একটু ঝোলানো হয়েছে। তিনি বলেন, তাদের পেটের ওপর পীর দাঁড়িয়েছে বলে যে খবর ছাপা হয়েছে তাও অতিরঞ্জিত। আসলে পীর পা দিয়ে তাদের ছুঁয়ে দিয়েছে। শিশু দুটির পেটে ভর দিয়ে আমজাদ দাঁড়ায়নি। তবে নীপা-দীপাকে পা দিয়ে ঠেলে কিছু দূর নেওয়া হয়।

বাসনা রানী বলেন, ‘যে সাংবাদিক ছবি তুলেছেন তিনি পীর সাহেবকে ছবি তোলার সুবিধার জন্য নীপা-দীপাকে ডানে-বামে ঘুরিয়ে দিতে বলেছিলেন।’

মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জন এ এইচ এম মোসলেহ উদ্দিন গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নীপা-দীপাকে দেখতে আমাদের প থেকে লোক পাঠানো হয়েছিল। তারা ভাল আছে।’
এদিকে পুরো ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির সদস্য সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার সায়েফুজ্জামান ফারুকী (শ্রীনগর সার্কেল) গতকাল রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তদন্ত কাজ অনেকটা এগিয়েছে। আমজাদের অপচিকিৎসা, ভণ্ডামি_সবই তদন্ত করা হচ্ছে।’ পাশাপাশি এ নিয়ে একটি দৈনিকে ছাপা হওয়া সচিত্র সংবাদে কোনো অতিরঞ্জন আছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

ভণ্ডপীর আমজাদ ও ওই নীপা-দীপার অভিভাবকদের অভিযোগ অস্বীকার করে প্রথম আলোর আলোকচিত্র সাংবাদিক কবির হোসেন দাবি করেন, ‘আমি চোখের সামনে যা দেখেছি তাই ক্যামেরায় ধারণ করার চেষ্টা করেছি।’ তিনি দাবি করেন, পীরের অপচিকিৎসা নিয়ে তাঁর তোলা কোনো ছবিই আরোপিত বা বানানো নয়। বরং অনেক সাবধানে এসব ছবি তুলতে হয়েছে।

কালের কন্ঠ

[ad#co-1]

2 Responses

Write a Comment»
  1. ভণ্ডপীর আমজাদ কেহ গ্রেফতার করিয়া কেবল বসিয়া থাকলেই চলিবে না।
    দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এমন ভণ্ড-প্রতারকদের আরও অনেক গোপন আড্ডা-আস্তানা রহিয়াছে। সেখানে হানা দিতে হইবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী এজেন্সি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। এই অশুভ, অপশক্তির বিষদাঁতকে উপড়াইয়া ফেলিতে হইবে। কোনো প্রকার বিলম্ব না করিয়া। জহির ইসলাম ও রোবেল সোদি আরাব