একটি চড়ুই – নূহ-উল-আলম লেনিন

একটি চড়ুই আকাশের ছায়াপথে একা একা ঘুরে কেঁদেছে অহর্নিশি
বাসি ফুল দিয়ে গেঁথেছিলে মালা তুমি
রেখেছিলে বুকে আকাশপর্ণী চুমি
পৌরজনেরা রাখে নি খবর তার, তুমি না থাকলে আমি যে মরে বাঁচি।

ছোট্ট চড় ুই কাঁদে প্রান্তরে একা, কী বিরহ তার কেহ তাহা নাহি জানে
ছোট বুকে তার বেদনার সিম্ফনি বেজে ওঠে যেন সমুদ্র গর্জনে।
আমি জানি, জানি তার কথকতা, সাথীটি তাহার উড়ে গেছে দূরে দেশে
এই বৈশাখে ফিরবে না সে তো আর, উদাসী বধূটি হয় তো বা মরে গেছে।

আমি তুমি মিলে ভালোবাসি করেছি চড়ুইভাতি
কভু অভিমানে না এলেও তুমি, আমি কেঁদে কাটিয়েছি রাতি।
শর্ষের ক্ষেতে আমরা দু’জনে লুকোচুরি খেলে মেখেছি ফুলের রেণু
আমরা তখন ছোট্ট চড়ণ্ডই লুটোপুটি করে বাজিয়েছি কত বেণু।

ও-পাড়ার খুড়ো রাশভারি বুড়ো বলেছেন ’খোকা শোনো মুছলমানের ছেলে, তুমি এ-পাড়ার এসেছ কেন’?
এ-পাড়ার দাদু দাড়িতে খেজাব দিয়ে হেঁকে বলেছেন ‘সাবধান নরাধম হিন্দুদের সাথে মিশবে না একদম’।
তুমি আমি কেউ বুঝিনি এসব কিছু, মেঘের ভেলায় ভেসেছি আচম্বিতে
দেখেছি দুটি চড়ণ্ডই মগ্ন প্রেমে, আমরা দুজনে মজেছি সকৌতুকে।

তুমি চন্দ্রিলা চলে গেলে এক রাতে কোথাকার কোন দেশে
আমি খুঁজে ফিরি হেথা হোথা সবখানে
বাসি ফুলগুলো পড়েছিল পুজো-ঘরে
একটি চড়ণ্ডই মরে পড়েছিলো দালানের কার্নিশে।

[ad#co-1]