চৈত্রের চাতক – মী জা নূ র র হ মা ন শে লী

কারা যেন জমা রেখে সাত আস্মানে
দীর্ঘদেহ, চোখে চোখ রাখে ওই নীল জলাশয়ে,
ভেঙে যায়, শত টুকরায়, হাসির গমকে উদ্বেল
তাদের হৃদয় সব, ব্যর্থপ্রেম প্রেমময়ী কিশোরীর ঠোঁটে

আদিবাসী মানুষের মতো তারা আসে কাতারে কাতার
খুঁজে ফেরে পানির নহর, নদীর বহতা স্রোত, বিপুল জলধি
লাল চোখ, বল্লম হাতে ঘোরে তারা খরার পাথারে
তখন করুণ মাঠে শুষ্ক ঘাসের রাশি পায় না শিশির…

চৈত্রে তারা স্বপ্নে দেখে অন্যের সীমার ওপারে
সুবিন্যস্ত মাটি ও পাথরে গাঁথা এক জলাধার
যেখানে একাকী বসে মৈত্র মহাশয়, পানি ঢালে
শাস্ত্র পড়ে মন পবনের নাও শুধু ভাসায় সাগরে…

এখানে আকাশে শুধু রোদ আর নিষ্ঠুর রোদ
এক ফালি মেঘ নেই, এক ফোঁটা বৃষ্টিও নেই
নেই কোন সিক্তপক্ষ দোয়েলের গান অথবা কোয়েল,
আছে শুধু দীর্ঘপাখা উচ্চ, ক্ষিপ্র, হিংস্র ঈগল…

পানি নেই, প্রেম নেই, নেই স্নাত স্নিগ্ধ ভালোবাসা
ধুলাতে ধূসর আছে রক্তলাল চোখে যত আদিম পুরুষ
সব নারী স্নান করে সীমান্তের, বেড়ার ওপারে
যেখানে সমস্ত পানি বন্দী থাকে কড়া পাহারায়…

[ad#co-1]