এ বৈশাখে

এ বৈশাখে মুক্তি পাচ্ছে সজল-বাঁধন অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ‘নিঝুম অরণ্যে’। প্রথম চলচ্চিত্রে অভিনয়ের নানা অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন তাঁরা। সঙ্গে রয়েছে বৈশাখের কথা, বর্তমান কাজের কথা।
অভিনেতার জীবন বলে কিছু আছে নাকি? বললেন সজল। ক্ষোভের কারণ জানতে চাইলে বললেন-‘বছরের একটা দিন। সারা দেশ বর্ষবরণের উৎসবে মেতে উঠবে। আর আমি শুটিং নিয়ে পড়ে থাকব কোনো এক অজপাড়াগাঁয়।’ সজল এবার বৈশাখে ঢাকার বাইরে শুটিংয়ে থাকলেও ঢাকায় থাকছেন বাঁধন। বৈশাখ বরণ করার তেমন আয়োজন নেই তাঁর। তবে বৈশাখের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি। পরিবারের সঙ্গেও সময় কাটাবেন। তবে এবারের বৈশাখটা সজল আর বাঁধনের জন্য একটু অন্য রকম। কারণ এ বৈশাখেই মুক্তি পাওয়ার কথা তাঁদের অভিনীত চলচ্চিত্র ‘নিঝুম অরণ্যে’। ১১ এপ্রিল এ ছবির প্রিমিয়ার হবে। ‘নিঝুম অরণ্যে’ প্রসঙ্গে কিছু বলুন। কথাটা শুনে দুজন দুজনার দিকে তাকালেন। রহস্যময় হাসির ঝলক খেলে গেল তাঁদের চোখেমুখে। প্রথমে মুখ খুললেন সজল, ‘অভিনয় করতে এসে এতটুকু জীবনে অসংখ্য ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছি; কিন্তু অভিনয় করা হয়ে ওঠেনি। যে রকম চরিত্র আর গল্প মনে মনে খুঁজছিলাম তা পাচ্ছিলাম না। এ ছবির গল্প শুনে মনে হয়েছিল ভালো কিছু একটা হবে। ছবিটি নির্মাণের পর দেখার সুযোগ হয়নি। তাই বলতে পারছি না কেমন হয়েছে।’ ছবি যেমনই হোক সজলের অভিনয়-জীবনে এই ছবি দাগ কেটে থাকবে। কারণ এ ছবির মাধ্যমেই চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটেছে এই অভিনেতার। জীবনের প্রথম ছবির নাম এলে প্রথমেই এ ছবির নাম চলে আসবে। হুমায়ূন আহমেদের লেখা ও তৌকীর আহমেদের পরিচালনায় ‘দারুচিনি দ্বীপ’ ছবিতে অভিনয়ের কথা ছিল। কিন্তু ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে শেষ পর্যন্ত আর এ ছবিতে অভিনয় করতে পারেননি তিনি। এ নিয়ে কিছুটা আফসোসও আছে। এর পরও বেশ কিছু চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব আসে তাঁর। সব প্রস্তাবই ফিরিয়ে দিতে হয়েছে। ‘নিঝুম অরণ্যে’ ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব আর ফেরাতে পারেননি সজল।

জীবনের প্রথম ছবি মুক্তি পেতে যাচ্ছে। অনুভূতি কেমন? উত্তর দিতে খুব একটা ভাবতে হয়নি তাঁকে, ‘প্রায় দুই বছর আগে আমরা এ ছবির শুটিং শুরু করেছিলাম। ছবিটি নিয়ে তখন এ রকম অনুভূতি ছিল। এখন অনুভূতির ধরনটাও পাল্টেছে। তবে এটা বলতেই হবে, ওই সময় এ ছবিটি আমাকে অনেক সাপোর্ট দিয়েছে। তখন আমি মানসিকভাবে কিছুটা বিপর্যস্ত ছিলাম। এ সময় ইমপ্রেস টেলিফিল্ম আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। ছবি কেমন হয়েছে সেটা বলবেন দর্শক। বৈশাখের আনন্দের সঙ্গে ছবির আনন্দটাও যোগ হবে।’
মাহবুব জামিলের গল্প ও চিত্রনাট্য নিয়ে ‘নিঝুম অরণ্যে’ ছবিটি নির্মাণ করেছেন মুশফিকুর রহমান গুলজার। প্রেম, মুক্তিযুদ্ধ আর দেশপ্রেমের গল্প নিয়েই ছবিটি নির্মিত হয়েছে। ‘নিঝুম অরণ্যে’ দিয়ে শুরু, তারপর কী_প্রশ্নটা করতেই সজলও মজা করে বাঁধনকে জিজ্ঞেস করলেন, তারপর কী? বাঁধনও একই কায়দায় সজলকে জিজ্ঞেস করলেন। সজল বলেন, ‘বিশ্বাস করবেন কি না জানি না, গত এক সপ্তাহে আমার কাছে প্রায় সাতটি ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব এসেছে; কিন্তু ব্যাটে-বলে মিলছে না। ছবি যেহেতু নিয়মিত করার ইচ্ছে নেই, তাই একটু ভেবেচিন্তে কাজ করতে চাই। পছন্দের চরিত্র আর গল্প পেলেই নতুন ছবিতে অভিনয় করব। ছবিতে অভিনয় করব না এমনটা আমি কখনোই বলিনি। বলতে চাইও না। ‘নিঝুম অরণ্যে’র পর কোন ছবিতে অভিনয় করব এখনো বলতে পারছি না।’ বাঁধনের ভাষ্যটাও প্রায় একই_’আমার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। কেউ হয়তো মনে করতে পারেন আমি বাড়িয়ে বলছি; কিন্তু এটা সত্যি, আমি প্রতিনিয়ত প্রচুর চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পাই। মনে মনে যে চরিত্র খুঁজি তা পাই না।’

চলচ্চিত্রে এ দুই শিল্পীকে নিয়মিত না পেলেও টিভি পর্দায় হরহামেশাই দেখা মিলবে তাঁদের, যদিও মাঝখানে টিভি নাটকের অভিনয় থেকে কিছুদিনের জন্য বিরতি নিয়েছিলেন তিনি। আবারও পুরোদস্তুর অভিনয় শুরু করেছেন। বর্তমানে পাঁচ-ছয়টি নতুন ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করছেন। অন্যদিকে বছরের প্রায় প্রতিদিনই নাটকের শুটিং নিয়ে মহা ব্যস্ত থাকতে হয় সজলকে। এখন তিনি ব্যস্ত আছেন রবীন্দ্র জন্মবার্ষিকীর নাটকের শুটিং নিয়ে। রবীন্দ্র গল্প নিয়ে নির্মিত চারটি নাটকে এবার দেখা যাবে তাঁকে।

ছবি : কাকলী প্রধান
গোলাম রাব্বানী