মাদকসেবীর লঙ্কাকাণ্ড

বোনের কাছে মাদক কেনার টাকা না পেয়ে মাদকসেবী শহীদুল ইসলাম সুমন (৩০) ঘরের দরজা আটকিয়ে তাণ্ডব চালিয়েছে। এ সময় শত শত লোক তাকে উদ্ধারে ব্যর্থ হয়। পরে পুলিশ ও র‌্যাব আড়াই ঘন্টা চেষ্টার পর দরজা-জানালা ভেঙে তাকে রক্তাক্ত অবস্খায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। গতকাল সোমবার দুপুরে গেণ্ডারিয়া থানার ৫৯/সি নারিন্দা রোডের পঞ্চমতলা ভবনের নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, চলতি মাসের ১ তারিখে শহীদুল ইসলাম গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে উঠে তার বড় বোন ফেরদৌসীর বাড়িতে। গতকাল সকালে বোনের কাছে সে ৯০০ টাকা দাবি করে। তার বোন কিসের জন্য টাকা দিতে হবে জানতে চাইলে সে জানায় নেশা করবে। তখন তাকে বোন জানিয়ে দেয় মাদকের চিকিৎসা করানো হয়েছে। তাকে আর নেশা করার জন্য কোনো টাকা দেয়া হবে না। এ কথা শুনে সে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। দুপুরে সে আবার তার বোনকে বলে তাকে ৫০০ টাকা দেয়ার জন্য। তাতেও তার বোন না বললে এর পরই শুরু হয় ঘরের আসবাবপত্র ভাঙা। একপর্যায়ে ঘরের দরজা-জানালা আটকিয়ে ভাঙচুর করতে থাকে। বোনের চিৎকারে এলাকার শত শত লোক ছুটে আসেন। কিন্তু তারা কেউই শহিদুলকে উদ্ধার করতে পারছিলেন না। পরে খবর পেয়ে গেণ্ডারিয়া থানা পুলিশ ও র‌্যাবের একটি দল সেখানে গিয়ে আড়াই ঘন্টা পর ঘরের দরজা-জানালা ভেঙে শহীদুলকে রশি পেঁচিয়ে উদ্ধার করে। তার আগেই শহীদুল ভাঙা কাচ দিয়ে হাত, পা ও গলায় আঘাত করে রক্তাক্ত জখম হয়। বিকেলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে গেণ্ডারিয়া থানার একজন সাব ইন্সপেক্টর বলেন, জীবনে অনেক মাদকসেবী দেখেছি। এই প্রথম কোনো মাদকসেবী ধরতে গিয়ে পেরেশানিতে পড়েছি।

শহীদুলের বড় বোন ফেরদৌসী জানান, তার ভাই মুন্সীগঞ্জের লৌহজং মসদগায়ে থাকে। বìধুদের পাল্লায় পড়ে সে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। তিন মাস আগে তাকে ৮০ হাজার টাকা খরচ করে নেশার চিকিৎসা করিয়েছি। মোটামুটি সুস্খ হয়ে উঠলে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসি।

[ad#co-1]