নৃত্যশিল্পী লায়লা হাসানকে সম্মাননা

একুশে পদক পাওয়ায় বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী লায়লা হাসানকে সম্মাননা জানালো জাতীয় নবান্নোৎসব উদযাপন পর্ষদ। গতকাল রোববার শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে ‘আনন্দ আয়োজন’ অনুষ্ঠানে তাকে এ সম্মাননা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর চেয়ারম্যান মুস্তাফা মনোয়ার, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল এবং বিশিষ্ট নাট্যকার আতিকুল হক চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এদেশের শিল্প-সংস্কৃতিতে নৃত্যশিল্পীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। লায়লা হাসান সেই শিল্পীদের একজন। তিনি তার শিল্পের মধ্য দিয়ে এই দেশ ও দেশের মানুষকে শান্তি ও ভালোবাসার বাণী দিয়ে যাচ্ছেন নিরন্তর।

সম্মাননা দেয়ায় সবাইকে ধন্যবাদ জানান লায়লা হাসান। নাচের মধ্য দিয়ে দেশের সেবা করে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

‘আলো আমার আলো’ গানের তালে তালে নাচের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর গানের তালে তালে লায়লা হাসানকে মঞ্চে আনা হয়। তার জীবনী পড়ে শোনান আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক শাহরিয়ার সালাম। সম্মাননাপত্র পাঠ করেন বাবুল বিশ্বাস। শিল্পীর হাতে সম্মাননাপত্র, উত্তরীয় ও ক্রেস্ট তুলে দেন মুস্তাফা মনোয়ার। উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, নৃত্যশিল্পী সংস্থা, প্রতিসৃষ্টি, ব্রতচারী বাংলাদেশ, সিনে ওষ্টাগণ, নিবেদন, নটরাজ ও বাংলাদেশের অন্তরগ্রাহ্য নৃত্যশিল্পী শিল্পীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

অনুষ্ঠানে গান গেয়ে শোনান তপন মাহমুদ, রেবেকা সুলতানা, রুপু খান, সরদার রহমতুল্লাহ, অনিমা মুক্তি, নিবেদন শিল্পী গোষ্ঠী ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। কবিরুল হক

রতনের পরিচালনায় নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যালোক, দীপা খন্দকারের নির্দেশনায় নৃত্য পরিবেশন করে দিব্য নৃত্যগোষ্ঠী, অনিক বসুর পরিচালনায় স্পন্দন এবং লায়লা হাসানের পরিচালনায় নটরাজ নৃত্য পরিবেশন করে। আবৃত্তি করেন রেজিনা ওয়ালী লীনা, শাহাদাত হোসেন নিপু, বেলায়েত হোসেন।

নৃত্যশিল্পী লায়লা হাসান ১৯৪৬ সালের ৮ আগস্ট ঢাকা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কামরুন্নেসা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ইডেন গার্লস কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক, সেন্ট্রাল উইমেন্স গার্লস কলেজ থেকে øাতক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে øাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বাফা থেকে নাচে ডিপ্লোমা এবং ইউএসআইএস থেকে অভিনয়ে ডিপ্লোমা করেন তিনি। লায়লা হাসান বেশ কিছু বইও লিখেছেন। তিনি ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলা বেতারের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় নবান্নোৎসব উদযাপন পর্ষদের চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯২ সালে আন্তর্জাতিক ডান্স কাউন্সিলের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সভাপতি হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।

[ad#co-1]