প্রবাসেও সাংবাদিক হয়রানী

রাহমান মনি
বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন ও শক্তিমানদের দাপটে সাংবাদিক হয়রানীর খবর আমরা সবসময় পত্রিকার পাতায় দেখতে পাই। আইয়ুব আমল থেকে শুরু করে স্বৈরাচারী এরশাদের সময় কবি, সাংবাদিক ও মুক্তমনের লেখকগণ হয়রানীর শিকার হ’তো অহরহ। ’৯০ দশকে সাংবাদিক নির্যাতনকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দেয় জনগনের ভোটে নির্বাচিত দ’দুইটি সরকার। যার ধারাবাহিকতা এখনো চলছে। হয়তো চলবে অদূর ভবিষ্যতেও। তাই বলে কি তার লেশ প্রাবসেও এসে পড়বে? এটা যে ভাবতেও কষ্ট হয়। প্রবাসেও সেই পেতাত্মাদের সন্ধান পাওয়া যায়। যদিও প্রবাসে আইন চলে তার নিজস্ব পথ ধরে।

সম্প্রতি জাপান প্রবাসীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের খবরাখবর জাপানসহ বিভিন্ন দেশের বাংলা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ করতো জাপান প্রবাসী সাংবাদিক রাহমান মনি। তার এই সাংবাদিকতায় ক্ষুব্ধ হন জনৈক জাপান প্রবাসী উচ্চাভিলাষী সেখ আলীমুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি। তার অভিযোগ রাহমান মনি তার সাংবাদিকতায় তাকে নাকি যথাযত মর্যাদা দিচ্ছেন না। তাই প্রথমে রাহমান মনির সাংবাদিকতা নিয়ে অপপ্রচারে নামেন। এর আগেও এই আলীমুজ্জামান জাপান প্রবাসী বিশিষ্ট সাংবাদিক, শিক্ষক দৈনিক প্রথম আলো এবং ডেইলি ষ্টারের জাপান প্রতিনিধি মঞ্জুরুল হকের সাংবাদিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। মঞ্জুরুল হক জাপানে বিদেশী সাংবাদিকদের ক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হলে পিছু হটেন।

টোকিও বৈশাখী মেলা আয়োজনে বিভিন্ন অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, অর্থ আত্মসাৎ সর্বোপরি মেলাটির নিয়ন্ত্রন সম্পূর্ন জাপানীজ এনজিও’র হাতে থাকার (যদিও ১০০% বাংলাদেশীরাই করে থাকে) প্রতিবাদে লিখিত পদত্যাগ করেন রাহমান মনি। এই মেলা আয়োজনে প্রধান সমন্নয়কারী ছিলেন সেখ আলীমুজ্জামান। রাহমান মনির পদত্যাগ ছিল তার জন্য চপেটাঘাত। তিনি এটা মেনে নিতে পারেননি। অভিযোগগুলি সবই আবার তার বিরুদ্ধে। তিনি অন্তরে তুষের আগুনে জ্বলতে থাকেন। রাহমান মনিকে একহাত দেখে নেওয়ার ঘোষনা দেন।

২০০৪ সালে রাহমান মনির ছোট ভাই লুতফর রহমান উজ্জ্বল আকষিক মারা যায় এই জাপানে। তিনি ভাইয়ের লাশ নিয়ে বাংলাদেশে গেলে আলীমুজ্জামান প্রবাসীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমান অর্থ সংগ্রহ করেন শবদেহ দেশে পাঠানোর তহবিলের নামে। এটা সম্পূর্ন-ই রাহমান মনির অজান্তে। রাহমান মনি তার কাছে গচ্ছিত ছোট ভাইয়ের টাকা থেকেই সম্পূর্ণ খরচ বহন করে স্বজনদের পার্শ্বে, স্বদেশে এবং স্বীয় ধর্মীয় রীতি মোতাবেক সমাহিত করানোর জন্য তিনি শবদেহ দেশে নেন। এই সুযোগটি আলীমুজ্জামান টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কাজে লাগান।

দীর্ঘ পাঁচ বৎসর পর তার পারিবারিক প্রচার মাধ্যমে তারই একটি লিখায় চাদাবাজীর কথা স্বীকার করলে প্রবাসীদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ২০০৯ জুন, ২ রাহমান মনির দৃষ্টিগোচর হ’লে তিনি তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং এই হীন কাজের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিবাদ লিপি পাঠান এবং চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। সংবাদ পত্রের নীতি ভেঙে প্রতিবাদটি না ছাপিয়ে এবং চ্যালেঞ্জ গ্রহন না করে, বিভিন্ন কুৎসা রটনা করেন এবং প্রবাসীদের দ্বারে দ্বারে কেদে কেদে বিচার প্রার্থণা করেন। সাথে সাথে বাংলাদেশে রাহমান মনিকে ক্রসফায়ারের হুমকি দেন তার ভাইয়ের ক্ষমতার কথা বলে। তার ভাই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চ পদস্ত কর্মকর্তা। তার পীড়াপীড়াতে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বৈঠকে বিষয়টি সমাধানের আয়োজন করলে আগের দিন রাতে ২০০৯ সালের ১৩ অক্টোবর বিচার প্রার্থী আলীমুজ্জামান নিজেই শর্ত জুড়ে দেন তার নিজস্ব কিছু লোকজন বৈঠকে উপস্থিত রাখার জন্য। ব্যবাসায়ী নেতৃবৃন্দ এ অনুরোধে অপারগতা প্রকাশ করলে আলীমুজ্জামান নিজস্ব লোকজন ছাড়া উপস্থিত হতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিলে ব্যবসায়ী সমাজ ক্ষীপ্ত হন এবং ভবিষ্যতে তাদের কাছে এমন কাজে না আসার অনুরোধ করেন।

২০০১ সালের ১লা আগষ্ট রাহমান মনির নামে লিখা একটি কবিতা প্রবাসীদের মাঝে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। যার শিরোনাম ডঃ নোংরামুজ্জামান। যদিও সরাসরি কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবুও প্রবাসীদের বুঝতে অসুবিধা হয়নি এবং স্বীয় কর্মে বুঝে নিয়েছেন আলীমুজ্জামান নিজেও।

২০০৭ সাল থেকে রাহমান মনি কোন অনুষ্ঠান, সভা, বৈঠকের আয়োজন করলে একই দিন একই সময় আলীমুজ্জামান ও ডাক দেয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের বা একই অনুষ্ঠানের। ২০০৯ সালে পিলখানার নারকীয় ঘটনায় প্রবাসীদের একত্রিত করে শোক সভার ডাক দিলে একই দিন একই সময়ে এবং অভিন্ন বিষয়ে তিনি প্রধান অতিথী, বিশেষ অতিথী আমন্ত্রিত করে এ্যাবেক (এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এক্স ক্যাডেটস) এর নামে বিবেক বর্জিত অনুষ্ঠান করেন।

২০০৩ সাল থেকে ‘পরবাস’ জাপান ২১ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছিল। পরবাসের নির্বাহী সম্পাদক হন এই রাহমান মনি। ২০০৯ সাল থেকে একই দিনে আলীমুজ্জান অনুষ্ঠানের আয়োজন শুরু করে। এই বার তিনি জাপান বাংলাদেশ সোসাইটি (একটি এনজিও)’র নামে মহান শহীদ দিবসে শহীদ মিনার মাঠেই ‘পিঠাপুলির উৎসব’ এর আয়োজন করেন। শহীদ দিবসের তাৎপর্যে পিঠাপুলির উৎসব আয়োজনের তীব্র প্রতিবাদ করেন রাহমান মনি। তিনি এর বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলেন এবং নিন্দিত কাজ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেন। তার লিখায় তা প্রকাশ করলে আলীমুজ্জামান ক্ষেপে যান। কারণ এনজিওর কাছ থেকে তার আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশংকা করেন। রাহমান মনির বিরুদ্ধে পুলিশি মামলা ঠুকে দেন এবং পরিচিত পুলিশ দিয়ে হয়রানী শুরু করেন।


জাপান আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল রাহমান মনি স্বশরীরে হাজির হয়ে পুলিশের জেরার মুখে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ কি এবং কে করেছে জানতে চাইলে পুলিশ পাল্টা জানতে চায় সেক আলীমুজ্জামানের বিরুদ্ধে লিখালিখি কর কেন? প্রমান হিসেবে পুলিশ ২০০৯ সালে ১লা আগষ্ট লিখা কবিতাখানি দাখিল করে। কবিতা লিখা নিয়ে যে ব্যক্তি কেন্দ্রিক পুলিশি হয়রানী করানো হয় তা জানা ছিল না বিধায় অনেকটাই অপ্রস্তুত রাহমান মনি কবিতা লিখার কথা স্বীকার করেন। কারণ তিনি জানেন একটি কবিতা যখন মিসাইলের চেয়েও শক্তিধর হয় তখনি হয়রানী করানো হয় এবং মামলা করে পক্ষান্তরে কবিতার ভাষায় অক্ষরে অক্ষরে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে স্বীকার করে আলীমুজ্জামান আত্মসমর্পন করেছেন নিজেকে।

রাহমান মনিও তার পক্ষে বিপক্ষে তথ্য হাজির করেন। এবং আলীমুজ্জামানের বিরুদ্ধে কবিতা লিখার পটভুমি তুলে ধরে ব্যাখ্যা করেন। তার বিরুদ্ধে লাশ নিয়ে চাদাবাজী, মৌলবাদি (নাস্তিক তত্ত্ব), কুচক্রী (পত্রিকার রিপোর্ট নিয়ে) এবং উষ্কানীদাতা (হিন্দু-মুসলমান এর মধ্যে রায়ট লাগানোর বৃথা চেষ্টা) এই চারটি সুনির্দ্দিষ্ট অভিযোগ আনেন এবং স্বপক্ষে বিভিন্ন পেপার কাটিং দাখিল করেন।

রাহমান মনিও সেখ আলীমুজ্জামানের বিরুদ্ধে পুলিশি হয়রানী করিয়ে পারিবারিক ও ব্যাক্তি শান্তি নষ্ট এবং তার ভাইয়ের লাশ নিয়ে চাদাবাজী এবং অর্থ আত্মসাৎ করার সুনির্দ্দিষ্ট অভিযোগ এনে কোর্টে নিয়মিত মামলা ঠুকবেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও তার ভাই বোনেরা দেশেও মানহানীর মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এছাড়াও আলীমুজ্জামান ভিসাহীনদের ধরিয়ে দেওয়া, ভিসা না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লিখা, ব্লগে লিখা, বৈশাখী মেলার আয়োজন করিয়ে ‘NGO’ র কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন। এইবার আর নয়। প্রবাসীরা সোচ্চার…

[ad#co-1]

6 Responses

Write a Comment»
  1. Halai to taile amago sobaire ondhokare rakhche//boishakhee mela ke puzi kore halai valoito kamaiteche /samner theke halare mela theke out kora hobe/nongra manus niye mela hobe na /Aleem namer jaleem,kala kutta valo hoiya ja

  2. grinitto o nindonio……
    e rokom manush theke nirapod durotte thaka uchit…
    aleem miar mrittur por onar lash jeno banglar matite
    koborer jaoga na pai…

  3. Aleem er bhaike bd army theke bohisker kora uchit / ekjon probashike crossfire er voy dekhano nindoniyo kaj /tar pura porichoy tule dhore bd armyr nojore ana uchit/deshe tar bari porichoy o dewa uchit / rahman moni voy peo na /somosto probashi tomar sathe

  4. likhatir head line howa uchit chilo PATHAR PITHA UTSOB / rahman monir aro sabdhan hoya uchit

  5. ei shala kuttar bacchare japan probashira bair koira dei na ken???????

  6. 2/1 joner jonno pura probashi somazer sonman nosto hote dewa thik na