বালামের কথা

‘হ্যাঁ ভাই, আগামী শুক্রবার ঢাকাসহ সারা দেশে একযোগে মুক্তি পাচ্ছে। আপনার প্রিয় প্রেক্ষাগৃহে নাচগানে ভরপুর ছবিটি দেখতে চাইলে সপরিবারে চলে আসুন সামাজিক অ্যাকশনধর্মী রোমান্টিক প্রেমের ছবি। অভিনয়ে আছেন…।’ ­অনেকটা এভাবেই এক সময় নতুন ছবি মুক্তি উপলক্ষে মাইকিং করা হতো পাড়া-মহল্লা থেকে শহর-বন্দরে। সেই চল এখন অনেকটা উঠে গেছে।

পাঠক, ভাববেন না আমি আপনাদের কোনো সিনেমার গল্প শোনাতে চাইছি। কাáিক্ষত ও জনপ্রিয় কোনো কিছু বাজারে ছাড়ার আগে কিছু দিন পরপরই বিভিন্নভাবে বিজ্ঞাপন দিয়ে কিংবা অন্য কোনো কৌশলে ভোক্তাদের জানান দেয়ার প্রচলন এখন বেশ জমকালো। আর এ বিষয়টি বোঝাতেই মাইকিংয়ের অবতারণা। কয়েক মাস ধরেই ঘোষণা করা হচ্ছিল বালামের নতুন একক অ্যালবাম বাজারে আসার তারিখ। কিন্তু প্রতিবারই কেবল পিছিয়েছে আর দীর্ঘশ্বাস বেড়েছে তার অগণিত ভক্ত-শ্রোতাদের। গত ঈদে শুরু হয়েছিল যে প্রতীক্ষার প্রহর তা শেষে হয়েছে। গত সপ্তাহে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সঙ্গীতা থেকে বাজারে এসেছে বালামের তৃতীয় একক বালাম-থ্রি। অ্যালবামটিতে আটটি গান রয়েছে। গানের কথা লিখেছেন­ মিলন মাহমুদ, রবিউল ইসলাম জীবন ও এইচ আই রুবেল। সব ক’টি গানের সুর ও সঙ্গীত যথারীতি বালাম নিজেই করেছেন। বালাম বলেন, জানি শ্রোতারা আমার অ্যালবামের জন্য দীর্ঘদিন প্রতীক্ষায় ছিলেন। আমি শ্রোতাদের হাতে শুধু একটি অ্যালবাম তুলে দিতে চাইনি। ভালো কিছু গান তুলে দিতে চেয়েছি। যার কারণে অ্যালবামটি বাজারে আনতে কিছুটা দেরি হয়েছে।

জানা গেছে, নাওয়া-খাওয়া ভুলে তিনি টানা তিন মাস অ্যালবামটির পেছনে সময় দিয়েছেন। এ সময়টা তিনি স্টুডিওতেই কাটিয়েছেন। যে অ্যালবামের পেছনে এত শ্রম, সেই এলবাম যে শ্রোতাদের হৃদয়ে শক্ত একটা জায়গা করে নেবে সে কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। এ ব্যাপারে শিল্পী নিজেই বলেন­ আমার অনেক পরিশ্রম জড়িয়ে আছে অ্যালবামের প্রতিটি গানে। এমনও হয়েছে অ্যালবামের প্রত্যেকটি গান কম্পোজ করা হয়েছে। কিন্তু কম্পোজের কয়েকটি নোট নিয়ে মনের মধ্যে দ্বিধা থাকায় পুরনো কম্পোজ ভেঙে আবার নতুনভাবে গান তৈরি করেছি। শুধু একবার নয়, অ্যালবামের প্রতিটি গান নিয়ে একাধিক বার এমনটি হয়েছে।

২০০৮ সালের শেষের দিকে বাজারে আসে বালাম-টু। এর প্রায় দেড় বছর পর বাজারে এলো তার নতুন অ্যালবাম বালাম-থ্রি।

অ্যালবামটিতে রয়েছে­ সঙ্গীতশিল্পী মিলন মাহমুদের লেখা বেশ কয়েকটি গান। মিলন মাহমুদের লেখা গান সম্পর্কে বালামকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, মিলন অনেক ভালো গান লিখেন। তার সাথে আমার সম্পর্ক ভালো। আমার অ্যালবামটিতে মিলন ভাইয়ের লেখা অনেকগুলো গান রয়েছে। নতুন অ্যালবামের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় স্টেজ প্রোগ্রামের মৌসুমেও তাকে সেরকমভাবে স্টেজে দেখা যায়নি। এখন যেহেতু অ্যালবাম বাজারে এসেছে, তাই সেই ব্যস্ততাও অনেকাংশে কমে এসেছে। তাহলে কি আপনাকে আবারো মঞ্চে গান করতে দেখা যাবে­ প্রশ্ন করলে উত্তরে বালাম বলেন, হ্যাঁ, এখন নিয়মিত স্টেজ প্রোগ্রামে অংশ নিতে চাই। এত দিন ধরে যে গানগুলো তৈরি করেছি তা এবার দর্শক-শ্রোতাদের শোনাতে চাই।

রোমান্টিক, স্যাডসহ বেশ কয়েক ধরনের গান রয়েছে বালাম-থ্রিতে। অ্যালবামের গানগুলো সম্পর্কে বালামের প্রত্যাশা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি চাই না হুট করেই আমার অ্যালবামের গানগুলো জনপ্রিয় হয়ে যাক। কারণ যে গান হঠাৎ করেই জনপ্রিয়তা পায় সে গান আবার হঠাৎ করেই হারিয়ে যায়। তাই আমি চাই আমার গানগুলো ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পাক। কোনো শ্রোতা যদি খুব মনোযোগ দিয়ে আমার অ্যালবামের গানগুলো শোনে তাহলে আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি গানগুলো তার ভালো লাগবেই। আমার নতুন অ্যালবামের গানগুলোর এটাই সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য। বর্তমান ব্যস্ততা সম্পর্কে জানতে চাইলে বালাম বলেন, অ্যালবামের ব্যস্ততা আপাতত শেষ, এখন স্টেজ প্রোগ্রামের ব্যস্ততা নিয়ে আছি। স্টেজ প্রোগ্রামে অংশ নেয়ার পাশাপাশি একটি যৌথ গানের অ্যালবাম তৈরি করছি। অ্যালবামটিতে আমার গান থাকবে। এর পাশাপাশি নতুন ও পুরনো শিল্পীদেরও কিছু গান থাকবে। এ ছাড়া কয়েকটি চলচ্চিত্রের সঙ্গীতায়োজনের ব্যাপারেও কথা চলছে। চূড়ান্ত হলে শিগগিরই কাজ শুরু করব।

তারেক জুয়েল

[ad#co-1]