পদ্মা সেতুর পরামর্শক নিয়োগে ঋণদাতাদের কড়াকড়ি

চলতি সপ্তাহে খসড়া চূড়ান্ত হতে পারে
শর্ত অনুযায়ী পদ্মা সেতুর পরামর্শক নিয়োগে কড়াকড়ি আরোপ করেছে ঋণদাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও জাইকা। এসব সংস্থার আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত অন্য কোনো প্রকল্পে কাজের অভিজ্ঞতা না থাকলে পদ্মা সেতুর পরামশর্ক হিসেবে কাউকে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। ফলে শর্ত মেনেই পদ্মা সেতুর জন্য শীর্ষ পরামর্শকসহ ২০০ পরামর্শক নিয়োগের একটি নীতিমালা তৈরি করছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। খসড়া নীতিমালাটি চূড়ান্ত করতে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে এ নীতিমালা চূড়ান্ত করা হতে পারে বলে জানা গেছে। এর পরই পরামর্শক নিয়োগের কাজ শুরু হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

খসড়া পরামর্শক নীতিমালায় বলা হয়েছে, পদ্মা সেতুর নির্মাণ তদারকির জন্য প্রায় ২০০ পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হবে। বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও জাইকার অন্য কোনো প্রকল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতা না থাকলে শীর্ষ পদগুলোতে কেউ নিয়োগ পাবে না। প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ পেতে হলে বিশ্বব্যাংক, এডিবি বা জাইকার কোনো অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পে সমপদে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। একইসঙ্গে তার মোট অভিজ্ঞতা থাকতে হবে ২৫ বছর। প্রকল্প উপব্যবস্থাপক (মূল সেতু), প্রকল্প উপব্যবস্থাপক (নদী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম), প্রকল্প উপব্যবস্থাপক (সড়ক ও সেতু শেষ অংশ) এবং ঊর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞের ক্ষেত্রেও প্রায় একই শর্ত দেওয়া হয়েছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক রফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পরামর্শক নিয়োগের খসড়া নীতিমালাটি চূড়ান্ত করতে এখন মতামত নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের অর্থ জোগানদাতা হিসেবে ঋণদাতারা পরামর্শক নিয়োগে কিছু যোগ্যতা ঠিক করে দিয়েছে। সে অনুযায়ী খসড়া তৈরি হয়েছে। কারিগরি ও আর্থিক বিষয়ে যারা যোগ্য ও অভিজ্ঞ, তাদেরই এ কাজে নিয়োগ দেওয়া হবে।’ এসব শর্তের পাশাপাশি খসড়া নীতমালায় পরামর্শকদের কিছু দায়িত্ব-কতর্ব্যও প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পদ্মা সেতুর নির্মাণ চলাকালীন এর গুণগত মান রক্ষাসহ যাবতীয় দায়দায়িত্ব বর্তাবে পরামর্শক দলের ওপর। সেতু এলাকায় একটি যথাযথ তদারক দল নিয়োগ করতে হবে। সেখানে তাদের স্থায়ীভাবে বসবাস করতে হবে। প্রকল্পে অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব ঠেকাতে জমির মালিক, পুলিশ, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি সরবরাহে নিয়োজিত বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে। বিশেষ প্রয়োজনে সেতু কর্তৃপক্ষের সহায়তা নিতে হবে। নির্মাণকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারদের সহায়তা করতে হবে। পরিবেশ, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মান বজায় রাখতে ঠিকাদারদের স্থাপনা, ল্যাবরেটরির ওপর নজরদারি করতে হবে।
সেতু কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দাতাদের শর্ত অনুযায়ী পরামর্শক নিয়োগ করা না হলে অর্থ পাওয়ার বিষয়টি ঝুলে যেতে পারে। তাই তাদের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিতে হচ্ছে। তবে বঙ্গবন্ধু সেতুতে ফাটল নিয়ে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, ভবিষ্যতে পদ্মা সেতুতে যাতে তেমন কিছু না ঘটে, সে জন্য পরামর্শক নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের দায়দায়িত্ব পরিষ্কার রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

[ad#co-1]