পদ্মা পারে 'ঢাকা ঘুড়ি উৎসব'

মীর নাসির উদ্দিন উজ্জ্বল, মুন্সীগঞ্জ ॥ বেসাতী, ড্রাগন, ডেলটা, মাছরাঙা, ঈগল, ডলফিন, অকটোপাস, সাপ, ব্যাংঙ, মৌচাক, কামরাঙ্গা, পেচা, ফিনিক্স, পালতোলা নৌকা, জাতীয় পতাকা আকৃতির নানান ও বিচিত্রসব ঘুড়িতে আকাশ ছেয়ে গিয়েছিল।

লাল, নীন, বেগুনি, হলুদ, সবুজ নানান রংঙের ঘুড়িতে শনিবার পদ্মা পাড়ের নীল আকাশ হয়েছিল বর্ণীল। জরকিং (স্বচ্ছ বলের মধ্যে হাটা) এয়ার শিপ দর্শকদের দিয়েছে আনন্দ। সেই সাথে টেরাকোটা , টেপাপুতুল , ড্রাগন ও বিশাল আকৃতির অলিম্পিক গেট উৎসবকে আরও আকর্ষনীয় করে তোলে। ৫০ জন প্রতিযোগী দেশীয় ঘুড়ি কাটা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনিষ্টিটিউশনের শিক্ষার্থীরা পদ্মার পাড়ে মেতেছিল চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায়।

মুন্সীগঞ্জ তথা বিক্রমপুরের মাওয়া পদ্মা পারে শনিবার দিনভর আয়োজন করা হয়েছিল ঘুড়ি উৎসবের। বাংলাদেশ ঘুড়ি ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ঢাকা ঘুড়ি উৎসব’ নামের এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেব উপস্থিত থেকে ঘুড়ি উৎসবেব উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার । বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর সিয়াং খাই ফু। উৎসবের জৌলুস বাড়াতে সঙ্গে যোগ দিয়েছিল টিভি ব্যক্তিত্ব ম. হামিদ,সাংবাদিক ও সাহিত্যিক সৈয়দ আবুল মকসুদ, প্রখ্যাত জ্যোতিষবিদ ড. এআর খান,এবা গ্রুপের চেয়ারম্যান শিল্পপতি শিপন মৃধা,আবুল বাশার খান ও লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম প্রমূখ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনিষ্টিটিউশনের ছাত্রী নুসরাৎ বললেন, ছোট বেলায় গ্রামের বাড়িতে ঘুড়ি উড়িয়েছি। আর আজ এই পদ্মা পারে ঘুড়ি উড়াতে এসে আমি যেনো আমার ছোট বেলায় ফিরে গেছি। ঢাকা পলিটেকনিক্যাল ইনিষ্টিটিউশনের এ্যানভারোম্যাট বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্রী নাজিয়া আফরিন জানালেন,এখানে ঘুড়ি উড়াতে দেখতে এসে এক অন্য রকম অনুভুতি অনুভব করছি।

নাজিয়ার সহপাঠী মোঃ সুমন মিয়া বললেন, ঘুড়ি উড়ানো দেখতে বেশ ভাল লাগছে তবে ভাল হতো ঘুড়ি উড়াতে পারলে। আর লৌহজংয়ের বাসিন্দা রেজাউল করিম তুহিন বলেন,”ছোট বেলা থেকেই ঘুড়ি ওড়ানো, সুতোয় মাঞ্জা দেয়াসহ ঘুড়ি উড়ানো মৌসুমটা কাটত বিরাট ব্যস্ততায়। আকাশে চোখ, অন্য ঘুড়িকে কেটে দেয়ার কৌশল রপ্ত করতে ব্যবস্ততা ছিল। কিন্তু এ যেন এখন বিলুপ্তির পথে। সেই সময়ে এই আয়োজন ভালো লাগছে।”

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার বলেন,ঢাকায় আগে ছাদে ছাদে ঘুড়ি উড়ানোর দৃশ্য চোখে পড়ত। কিন্তু এটি এখন ভাটা পড়ে গেছে। পদ্মা পাড়ের এ ঘুড়ি উৎসব তাদের আবার ঘুড়ি উড়াবার আগ্রহ বাড়িয়ে দিতে পাড়ে।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন এখানে…