সাতানিখিল বধ্যভূমি

৩৮ বছরের অপার বেদনায় কাতর দীপালি ভট্টাচার্য । ’৭১-এর স্বাধীনতাযুদ্ধে তার বাবা অধ্যাপক সুরেশচন্দ্র ও সহোদর প্রধান শিক বাদল ভট্টাচার্যকে মেশিনগানের গুলিতে নির্মমভাবে হত্যা করে হানাদার বাহিনী। অবসরপ্রাপ্ত জেলা শিা অফিসার দীপালি ভট্টাচার্য সেই ১৪ মে’র মর্মস্পর্শী বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, শুধু তার পিতা আর ভাই নয়, একসঙ্গে ১৬ বুদ্ধিজীবীকে লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলি ছোড়া হয়। এতে নিহত হন ১৪ জন। মফস্বল শহর মুন্সীগঞ্জের ৫ কিমি দূরে তখনকার অজপাড়াগাঁ সাতানিখিল খালের পাড়ে ঘটে এ গণহত্যা।

এই গণহত্যায় শহীদ বুদ্ধিজীবীরা পাকবাহিনীর হাত থেকে রা পেতে আশ্রয় নিয়েছিলেন ৬ কিমি দূরের কেওয়ার চৌধুরী বাজারের চৌধুরী বাড়িতে। রাত জেগে পালাক্রমে পাহারা দিতেন তারা। ১৩ মে রাতের পাহারা শেষে ঘুমাতে যাচ্ছেন বা গেছেন এমন সময়ই ভোররাত আনুমানিক ৪টায় ৭০ পাকসেনা ও তাদের দোসর রাজাকার বিশাল এই বাড়িটি ঘিরে ফেলে। হিন্দু সম্প্রদায়ের ২২ জন পুরুষ সদস্যকে ধরে নিয়ে যায় তারা। পরে পৌনে ১ কিমি দূরের সাতানিখিল খালের পাড়ে সকাল ৮টায় লাইনে দাঁড় করায় ১৬ জনকে। এরপর চালায় গুলি। রক্তের স্রোত বয়ে যায় খালটিতে। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ১৪ বুদ্ধিজীবী। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় জিতু ভৌমিকসহ দুজন।

সাতানিখিল গ্রামের প্রত্যদর্শী লাল মিয়া শিকদার জানান, এ গণহত্যার দুদিন পর ১৬ মে ১৪টি লাশ পার্শ্ববর্তী ব্রহ্মপুত্র নদীতে ভাসিয়ে দেয় দখলদার বাহিনীর লোকজন এসে। অবস্থা এমন ছিল যে, লাশগুলো দাহ করার লোকও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

[ad#co-1]