বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালিত

রাহমান মনি
১৭ মার্চ ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ৯০তম জন্মদিন। বাংলাদেশ এবং পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশ মিশনগুলোর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে জাপানেও বাংলাদেশ দূতাবাস যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পালন করার জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করে। গত ১৭ মার্চ বুধবার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯০তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস ২০১০ যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে উদ্যাপন উপলক্ষে টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিল জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ, ‘চিরঞ্জীব বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক ভিডিও চিত্র প্রদর্শনী, রাষ্ট্রদূতের সভাপতিত্বে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্মের আলোকে আলোচনা অনুষ্ঠান এবং বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের শাহাদাত বরণকারী সদস্যবৃন্দের আত্মার মাগফিরাত এবং বাংলাদেশের সুখ, সমৃদ্ধি ও সংহতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত।

দূতাবাস মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রথমেই বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এ সময় আগত অতিথিবৃন্দ দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। এর পর রাষ্ট্রদূত আশরাফ-উদ-দৌলা দূতাবাস এবং প্রবাসীদের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।
এর পর বড় স্কিনে বাংলাদেশ থেকে পাঠানো বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের ওপর নির্মিতব্য প্রামাণ্য চিত্র ‘চিরঞ্জীব বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক ভিডিও চিত্রটি প্রদর্শন করা হয়। পিনপতন নীরবতায় সকলে ভিডিও চিত্রটি দেখেন এবং নিজের অজান্তেই চোখ মোছেন। কারোর পক্ষেই অশ্রু সংবরণ করা সম্ভব হয়নি।

দিবসটির তাৎপর্যে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত বাণী পাঠ করে শোনান যথাক্রমে দূতাবাসের কমার্স কাউন্সিলর আবুল মনসুর মোঃ ফয়েজুল্লা এবং কাউন্সিলর মোঃ মাসুদুর রহমান।

আলোচনাসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দূতাবাসের ইকোনমিক কাউন্সিলর এ কে এম মনজুরুল হক, সলিমুল্লাহ কাজল রকি, এইচ এম তসলিম উদ্দিন, মোঃ মোতাহার হোসেন, ছালেহ মোঃ আরিফ, আব্দুর রহমান, কাজী মাহ্ফুজুল হক লাল প্রমুখ।

বক্তাগণ বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের ওপর আলোকপাত করেন। সলিমুল্লাহ কাজল রকি প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন আমরা সকলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশের জন্য যার যার সামর্থ্য থেকে কিছু করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলি। বঙ্গবন্ধুকে মহান শিক্ষক উপাধিতে ভূষিত করে তসলিম উদ্দিন বলেন, বঙ্গবন্ধু একজন ব্যক্তি নন তিনি একটি প্রতিষ্ঠান, সকলের আদর্শ। ছালেহ মোঃ আরিফ বলেন, যুগোস্লাভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট সাধারণত তার দেশে কোনো বিদেশি অতিথিকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকতেন না। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য তিনি স্বয়ং উপস্থিত থেকে লাল গালিচা অভ্যর্থনা জানান। মার্শাল টিটোর মতে যে লোকটির পেছনে সাড়ে সাত কোটি মানুষ দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলে এক কাতারে শামিল হয়েছে তাকে অভ্যর্থনা জানানোই সবচেয়ে বড় কাজ।

সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত আশরাফ-উদ-দৌলা বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে আত্রাই (সৈয়দপুর) যাই। সেখানে চরমপন্থীদের সম্মুখ যুদ্ধে নিজের একটি পা হারাই। বঙ্গবন্ধুর ব্যবস্থাপনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য যুগোস্লাভিয়া যাই এবং সেখানেও বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যে বঙ্গবন্ধুর সফরকালীন সময়ে ট্রান্সপোর্ট প্রটোকল অফিসার হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাই। স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, মার্শাল টিটো যখন বাংলাদেশ সফর করেন তখন আবারো বঙ্গভবনে যাওয়ার সুযোগ হয়। অবাক করে দিয়ে আমার নাম ধরে বঙ্গবন্ধুর ডাক শোনে বিশ্বাসই হতে চায়নি। তাঁর স্মৃতিশক্তি এতই প্রখর ছিল যে হাজার হাজার অফিসারসহ লাখ লাখ লোকের সঙ্গে তাঁর দেখা এবং কথাবার্তা হয়েছে। তার মধ্যে আমার মতো একজন লেফটেন্যান্টের নাম স্মরণ থাকা সাধারণ কোনো বিষয় নয়। সেই মহান ব্যক্তিটিকে আমরা দৈহিকভাবে হারিয়েছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, তার স্বপ্নের বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে তিনি আছেন অম্লান।

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের কেক কাটেন রাষ্ট্রদূত। এর পর দূতাবাসের পক্ষ থেকে সকলকে নৈশভোজে আপ্যায়িত করা হয়।
জাপানে দিনটি কাজের দিন হওয়ায় সন্ধ্যার পর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় প্রবাসীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসলে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন এবং মৃত্যু দিবসে বাংলাদেশের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়।

rahmanmoni@gmail.com

[ad#co-1]