হাবিবের নয়া প্রেম ডিজে সনিকা

এরই মধ্যে ম্লান হয়ে এসেছে হাবিব-মোনালিসা গুঞ্জন। গেল প্রায় বছর তিনেক ধরে এ দু’জনার মধ্যকার উষ্ণ সম্পর্কের সঠিক সংজ্ঞা অথবা তল খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে দু’জনার মধ্যে একটা ভাল বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল, এমনটা বরাবরই মিটিমিটি হেসে স্বীকার গিয়েছেন তারা। অনেকটা দুই মেরুর এই শীর্ষ তারকাদ্বয়ের উষ্ণ সম্পর্ক অনেক আগেই গড়াতে পারতো ‘বাপ্পা-চাঁদনী’র ম্যাজিকেল প্রেম-বিয়ে-সংসারের মতো।

কারণ, হাবিব-মোনালিসার পরিচয়-বন্ধুত্ব আর প্রেমের গুঞ্জনের সূত্রপাত ঘটে ওই বাপ্পা-চাঁদনীর মতোই, একজনের গানে আরেকজন মডেলিং করতে গিয়ে। তবে সে যাই হোক, হাবিব হয়তো প্রেমের বাজারে বাপ্পার মতো চৌকস নন, কিংবা চাঁদনীর মতো রোমান্টিক নন মোনালিসা। তবে মোদ্দাকথা হচ্ছে, হাবিব-মোনালিসার অমীমাংসিত লম্বা সম্পর্কের ফাঁক গলে এরই মধ্যে হাবিবের বিপরীতে অনেকের অজানেত্ম ঢুকে পড়েছেন আরেকজন। যার পূর্ণ নাম মার্জিয়া কবির সনিকা। আর মিডিয়া আন্ডারগ্রাউন্ডে তিনি সমধিক পরিচিত ডিজে সনিকা হিসেবে। নিয়মিত ডিজেইং করেন গুলশান ক্লাবে।

ডিজে প্রফেশনে বেশ জনপ্রিয় সনিকা দেখতে শুনতে ভালই। দুধে-আলতা গায়ের রঙ সনিকার মূল প্রফেশন ডিজেইং হলেও তার কণ্ঠও নাকি বেশ। বিশ্বসত্ম একাধিক সূত্র জানায়, চলতি সময়ে হাবিব একরকম ভাসছেন এই ডিজে সনিকার প্রেমে-রূপে-কণ্ঠ আর গুণের স্রোতে। সম্ভবত সেজন্যই অনেকটা নিভৃতচারী আর ঘরকুনো স্বভাবের হাবিবুল ওয়াহিদ হাবিবকে প্রায়শই পাওয়া যায় ডিজে সনিকার সঙ্গে লং ড্রাইভ এবং গুলশান-উত্তরার ক্লাব অথবা নিরিবিলি রেসেত্মারাঁয়। এমনটাই জানালেন একাধিক মিডিয়াকেন্দ্রিক প্রত্যড়্গদর্শী। শুধু তাই নয়, সামপ্রতিককালে হাবিবের স্টেজ শোগুলোতে নতুন সংযোজন হিসেবে প্রায় নিয়মিতই থাকছে ডিজে সনিকার অংশগ্রহণ। সূত্র আরও জানায়, ডিজে সনিকা এবং হাবিব একে অপরের প্রতি অতি অল্প সময়ে (শেষ ছয় মাস) এতটাই ঝুঁকে পড়েছেন যা বলার অপেড়্গা রাখে না।

শুধু তাই নয়, সনিকা হাবিবকে সম্বোধন করেন ‘গুরম্নজি’ হিসেবে, যার খানিক আলামত সনিকার ফেইসবুক একাউন্টেও রয়েছে। সংগীতাঙ্গনে স্বদেশী এ আর রাহমান হিসেবে এরই মধ্যে স্বীকৃতি পাওয়া হাবিব ওয়াহিদও মনে হয় এতদিন পর একজন যোগ্য ‘শিষ্য’ পেয়েছেন। যেমনটা এর আগে পাননি কনিকা, নির্ঝর, কণা, ন্যান্সি, শিরীনদের মাঝে। ফলশ্রম্নতিতে সনিকাকে এরই মধ্যে হাবিব গড়ে তুলছেন নিজের মতো করে। যার আছর এরই মধ্যে পড়েছে সনিকার ওপর। তা না হলে শত চেষ্টা করেও প্রচারপ্রিয় ডিজে সনিকাকে এখন আর কেন সরাসরি অথবা মোবাইল ফোনে পাওয়া যাবে না! যেমনটা পাওয়া যায় না হাবিবকেও। এখানেই শেষ নয়, এরই মধ্যে ডিজে সনিকার কণ্ঠে মুগ্ধ হয়ে হাবিব প্রায় শেষ পর্যনত্ম নিয়ে এসেছেন সনিকার অভিষেক অ্যালবামের কাজ। এ অ্যালবামে সনিকা একাই গাননি, দ্বৈতভাবে কণ্ঠ দিয়েছেন হাবিব আর ফেরদৌস ওয়াহিদও।

সনিকার সঙ্গে গুঞ্জনে ভেসে আসা উষ্ণ সম্পর্ক সম্পর্কে হাবিবের পিতা এবং বিশ্বসত্ম প্রতিনিধি ফেরদৌস ওয়াহিদ ভুবন ভোলানো চিরাচরিত হাসি দিয়ে উড়িয়ে দিলেও সনিকাকে নিয়ে হাবিবের গানকেন্দ্রিক স্বপ্ন আর উচ্ছ্বাসের কথা জানিয়েছেন। বলেছেন, হাবিবুল বহুদিন ধরেই এমন একটি কণ্ঠ খুঁজছিল মনে মনে। ওর হাতে বেশ ক’টি অ্যালবামের পরিকল্পনা থাকলেও আপাতত সেসব বন্ধ রেখে আসন্ন বৈশাখের জন্য সনিকার অ্যালবামটি করছে। যে বাজারে কণা, ন্যান্সি, মিলা, কানিজ, মেহরীনসহ প্রায় সবাইকে হাবিবের সুর-সংগীতে এক দুটি গান গাইবার জন্য ওয়েটিং লিস্টে পড়ে থাকতে হয় বছরের পর বছর, সেখানে ডিজে সনিকার অ্যালবাম তৈরি হচ্ছে এবং মুক্তি পাচ্ছে মাত্র ৬ থেকে ৮ মাসের মধ্যে। এদিকে আরেকটি বিশ্বসত্ম সূত্র জানায়, মাঝখানে মোনালিসা টানা ছয় মাস ছিলেন সিঙ্গাপুরে। মূলত এখান থেকেই দূরত্ব বাড়ে হাবিব-মোনালিসার। আর সে সুযোগটিই কাজে লাগায় চৌকস-মেধাবী ডিজে সনিকা।

উলেস্নখ্য, প্রায় বছর সাতেক আগে হাবিব তার স্ত্রীর সঙ্গে সেপারেশনে যান। সেটিও ছিল হাবিবের প্রেমের বিয়ে। নতুন সংসারে এমন হঠাৎ ভাঙন প্রসঙ্গে সে সময় আত্মপড়্গ সমর্থনে হাবিব বলেছিলেন, অন্য কোনো সমস্যা নয়। সমস্যাটা আমারই। ক্রিয়েটরদের সংসারী হতে নেই, আমার কাছে অনত্মত তাই মনে হয়েছে। কারণ, সারা দিন-রাত আমি পড়ে থাকি স্টুডিওতে, ঘুম এলে সেখানেই ঘুমিয়ে পড়ি। আমার সংসার হবে কি করে? সাত বছর আগে হাবিবের এমন অভিমত হয়তো এবার পুরোটাই বদলে যাবে, যার পুরো কৃতিত্ব হয়তো ডিজে সনিকার। তবে এমন অসম্ভব কিছুর জন্য অপেড়্গা করতে হবে আরও বেশ কিছু সময়। নিদেনপড়্গে আসন্ন বৈশাখ পর্যনত্ম।

মাহমুদ মানজুর:

[ad#co-1]