শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদকে ঘায়েল করতেই হাতে অস্ত্র তুলে নেয় রনি

কলকাতায় গ্রেফতার এড়াতে ফিরে আসে দেশে
শাহজাহান আকন্দ শুভ: ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতারকৃত শীর্ষ সন্ত্রাসী তানভিরুজ্জামান রনি ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদকে ঘায়েল করতেই মূলত সন্ত্রাসের খাতায় নাম লিখিয়েছিল। সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত না হলেও শুধু আওয়ামী লীগ করাতেই মগবাজারের রফিক হত্যা মামলায় রনিকে গ্রেফতার করিয়ে তিনমাস জেল খাটিয়েছিল ওই দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী। এই হয়রানির প্রতিশোধ নিতেই জেল থেকে বেরিয়ে রনি দেখা করে পুরস্কার ঘোষিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও যুবলীগ নেতা লিয়াকতের সঙ্গে। পরবর্তীতে তার সান্নিধ্য পেয়ে সন্ত্রাসী হয়ে ওঠে। গত ১২ মার্চ পুলিশ তাকে একটি পিস্তলসহ গ্রেফতার করে। তার তথ্যানুযায়ী শুক্রবার রাতে আরেকটি রিভলবার উদ্ধার করা হয়েছে।

১৯৯২ সালে তখন ক্ষমতায় বিএনপি সরকার। শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন, মোল্লা মাসুদ ও তৌহিদুজ্জামান টিক্কা ছিল বিএনপি ঘরানার অপরাধী। যে কারণে তাদের যোগাযোগ ছিল তখনকার সরকারের প্রভাবশালীদের সঙ্গে। স্থানীয় থানা পুলিশ চলতো তাদের কথায়। রফিক খুন হওয়ার পর তাদের কথামতো পুলিশ রনিকে একদিন বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায়। তখন রনির বয়স ১৭। গ্রেফতারের পর রনি পুলিশকে বুঝিয়েছে খুনের কোনো কিছুই জানে না। শোনেনি পুলিশ। এরপরই জেল থেকে বেরিয়ে রনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহিরুল হক হল ও শহিদুল্লা হলে গিয়ে যুবলীগ নেতা লিয়াকতের সঙ্গে গিয়ে মাঝে মধ্যেই দেখা করত। পরবর্তীতে হল থেকে অস্ত্র নিয়ে মগবাজারে ছোটখাটো মহড়া দিতে থাকে। এক পর্যায়ে পুরোদস্তুর সন্ত্রাসী হয়ে ওঠে। একবার শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনকে বাগে পেয়ে গুলি করেছিল সে। কিন্তু ঘায়েল করতে পারেনি। ওটাই ছিল সুব্রত বাইনের ওপর রনির প্রথম আঘাত।

রনির পিতা কামরুজ্জামান ছিলেন অ্যাডভোকেট। ’৭৯ সালে তিনি মারা যান। এসএসসি পাস রনির বর্তমান বয়স ৩৮। গায়ের রঙ ফর্সা। উচ্চতা পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। পুলিশ বলেছেÑ দু’হাতে অস্ত্র চালনায় পারদর্শী রনির পেশা সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি। মগবাজারে তার ডিশ ব্যবসাও রয়েছে। এই ব্যবসা দেখাশোনা করতে সালাম নামে তার এক ম্যানেজার নিয়োগ করা আছে। প্রতিপক্ষের হাত থেকে এই ব্যবসা রক্ষা করতে ফকরুল নামে তার এক সহযোগী রয়েছে। যার কাজ অস্ত্র হাতে ডিশ লাইনগুলো পাহারা দেয়া। এছাড়াও রনির গ্র“পে কমপক্ষে ১৫ জন সন্ত্রাসী রয়েছে। তাদের প্রত্যেকের হাতে একটি করে অস্ত্র থাকে। এরই মধ্যে তাদের ছয়জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বাকিরা পলাতক। গোয়েন্দা পুলিশের এসি মো. ওবায়দুল হক বলেছেন, রনির বিরুদ্ধে খুনসহ রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ডজনখানেক মামলা রয়েছে। পুলিশ রিমান্ডে ব্যাপক চাঁদাবাজির কথা স্বীকার করলেও এখনো সে কোনো খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেনি।

গ্রেফতারের কিছুদিন আগেই কলকাতা থেকে ঢাকায় ফিরে আসে এই শীর্ষ সন্ত্রাসী। সেখানে ঢাকার আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদত তাকে কলকাতা পুলিশের হাতে তুলে দিতে পারে এমন খবর পেয়েই বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরে আসে। রনি স্বীকার করেছে সন্ত্রাসের খাতায় নাম লেখানোর পর থেকে এ পর্যন্ত সে তিনশতাধিক অস্ত্র হাত বদল করেছে। অস্ত্র এক হাত থেকে আরেক হাত করে কমিশন পেয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের অস্ত্র এপার ওপার করতে বেশ কয়েকজন নারী রনির পক্ষে কাজ করত বলে সে পুলিশকে জানিয়েছে।

[ad#co-1]