সংঘর্ষ, মাওয়া-কাওড়াকান্দি পারাপার ব্যাহত

দুই ঘাটের শ্রমিকদের সংঘর্ষের কারণে মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌপারাপার ব্যাহত হচ্ছে। সোমবার সকাল ১০টা থেকে ওই রুটে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকলেও বিকাল ৩টা থেকে ফেরি চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বিকাল ৫টায় পর্যন্ত বন্ধ ছিলো।

পুলিশ ও বিআইডাব্লিওটিসির কর্মকর্তারা জানান, কাওড়াকান্দি ঘাটে স্পিডবোট চালকদের সংঘর্ষ নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত হয়। বিষয়টি নিয়ে মীমাংসার জন্য মাওয়া ঘাটে বৈঠক বসলে সেখানে কাওড়াকান্দির এক লঞ্চ মালিকসহ কয়েকজনকে মারধর করে মাওয়ার শ্রমিকরা।

এ খবর পেয়ে কাওড়াকান্দির বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয়। ফলে পারাপারের অপেক্ষায় থাকা হাজার হাজার যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে।

মহাসড়ক পুলিশের মাদারীপুরের শিবচর ফাঁড়ির উপপরিদর্শক আসাদুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সিরিয়াল নিয়ে মাওয়া ঘাটের স্পিডবোট চালকদের সঙ্গে রোববার কাওড়াকান্দি ঘাটের চালকদের একদফা সংঘর্ষ হয়। এর মীমাংসার জন্য আজ (সোমবার) সকালে কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে স্পিডবোট ও লঞ্চ মালিক সমিতির নেতারা মাওয়া ঘাটে গেলে তাদের মারধর করে মাওয়ার শ্রমিকরা। এরপরই কাওড়াকান্দির শ্রমিকরা সব নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয়।”

কাওড়াকান্দি ঘাট স্পিডবোট মালিক সমিতির সভাপতি দেলোয়ার হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, সকালে তারা ওই ঘটনার মীমাংসার জন্য গেলে মাওয়ার শ্রমিকরা তাদের ওপর হামলা চালায়।

দেলোয়ার জানান, শ্রমিকদের হামলায় তিনি এবং লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি আতাহার বেপারীসহ ১৫ জন আহত হয়।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) কাওড়াকান্দি ঘাটের কর্মকর্তা আবু আলম হাওলাদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মাওয়ার ঘটনার পর কাওড়াকান্দির শ্রমিকরা সব নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয়।

খবর পেয়ে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোশাররফ হোসেন, মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস ও শিবচর থানার ওসি মো. আবদুল জলিল ঘটনাস্থলে যান। তারা মাওয়ায় দুই ঘাটের শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন।

এরপর বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে ফেরি চলাচল শুরু হয় বলে জানিয়েছেন মাওয়া ঘাটে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক।

মাওয়া মুন্সীগঞ্জ জেলায় এবং কাওড়াকান্দি মাদারীপুর জেলার অন্তর্গত। মাওয়া-কাওড়াকান্দি রুটে বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন জেলার গাড়ি চলাচল করে।