হ্যালো মাহী শুনছেন?

আকিদুল ইসলাম
প্রিয় মাহী, প্রীতি। কাগজে দেখলাম আপনি এখন ‘রাজনৈতিক রেস্ট’-এ। আপনিই বলেছেন।
এত দ্রুত কেন ক্লান্ত, মাহী? এখনই কেন? গোটা দেশের মানুষের প্রাণের গভীরে জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন শুভানল। সেই আলোকরশ্মি আজ নিভিয়ে দিচ্ছেন কেন? আজ রাজনৈতিক সংস্কারের যে দোলা লেগেছে এ যাত্রার সূচক ছিলেন আপনি। মনে পড়ে? ২০০১ সাল? এক বিকালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা যখন আপনার নির্বাচনি এলাকা দিয়ে ফিরছিলেন তখন তার সম্মানে তৈরি করেছিলেন অনেকগুলো তোরণ। আপনি তখন সরকারি দলের সবচেয়ে তরুণ সংসদ সদস্য। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সেটি ছিল এক বিরল ঘটনা। মুখে নয়, কাজে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন রাজনীতিতে কীভাবে আনতে হবে গুণগত পরিবর্তন। রাজধানী থেকে দূরে মুন্সীগঞ্জে সেদিন যে রাজনৈতিক শিষ্টাচারের সূচনা হয়েছিল তা ছড়িয়েছিল গোটা জনপদে। শতাব্দীকাল ধরে বিরোধী দলের নেতানেত্রীর প্রতি সরকারি দলের যে অবজ্ঞার ধারা চলে আসছিল তাতে এক প্রচণ্ড ঝাঁকি দিয়েছিলেন আপনি। সে ঝাঁকুনিতে কেঁপে উঠেছিল প্রথাগত রাজনৈতিক সংস্কৃতি। কেঁপে উঠেছিল সনাতনী চিন্তাধারার রাজনৈতিক নীতি নির্ধারকরাও।

লোকশ্র“তি, ২০০১-এর নির্বাচনে বিএনপির অসামান্য জয়লাভে হাওয়া ভবনের একটি নেপথ্য ভূমিকা ছিল। তখন হাওয়া ভবন আজকের মতো বিতর্কিত নয়। ওই সময় প্রথাগত নির্বাচনি প্রচারের বাইরে আধুনিক প্রযুক্তিগত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে হাওয়া ভবনকেন্দ্রিক যে একটি দীপিত টিম গড়ে উঠেছিল তার অন্যতম প্রধান পরিকল্পক ছিলেন আপনিই। মেধার শুদ্ধতায় আপনি ছিলেন তারেক রহমানের পছন্দের মানুষগুলোর শীর্ষে।

প্রিয় মাহী, আপনার পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার কারণেই জানি, আপনার রাষ্ট্রপতি বাবার পদত্যাগের সিদ্ধান্তে আপনি ছিলেন দলীয় আনুগত্যে অটল। বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির শয়নকক্ষে গিয়ে তাকে পদত্যাগ করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। তারুণ্যের স্বভাবগত উগ্রতায় আপনি কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিতে রাষ্ট্রপতিকে উৎসাহিত করেননি। খুব সহজেই তখন আমাদের প্রিয় রাষ্ট্রপতি দেশে একটি শাসনতান্ত্রিক জটিলতা তৈরি করতে পারতেন। পিতা-পুত্রের যৌথ সিদ্ধান্ত সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে। নমস্য আপনারা।

প্রিয় মাহী, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি অধ্যয়নের সময় আপনি ছিলেন ছাত্র সংসদের নির্বাচিত নেতা। আছে, রাজনৈতিক পরিবারের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা। দেশের মানুষের কাছে আপনি এখনো মেধাবী চৌকস ও তারুণ্যের প্রতীক। বিএনপির ভেতরেও আপনার অজস্র শুভার্থী। সাংবাদিকদের কাছেও আপনি প্রিয়। এখন আপনার রাজনৈতিক রেস্টে যাওয়ার একটি ভুল সময়।

আজকের ‘ইন্টারনেট প্রজš§’-এর ভোটার সংখ্যা প্রায় ২ কোটি। তাদের ভোটেই এবার মহাজোট ক্ষমতায়। নির্বাচন পরিসংখ্যানবিদদের ভাষ্যও তাই। এই শক্তিকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে হাওয়া ভবন। আগামীতে এই শক্তি হবে দ্বিগুণ। কোন অভিমানে আধুনিক প্রজšে§র দিক থেকে আপনি মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, মাহী? এই শক্তির ওপর বাজি ধরে কি আরেকবার ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন তারুণ্যের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। মানুষও এখন তরুণ নেতৃত্বের প্রত্যাশায়। তারেক আর জয়কে ঘিরে উজ্জ্বলিত স্বপ্নও দেখতে শুরু করেছে জনতা। আগামীর বাংলাদেশ হবে তারুণ্য-শাসিত। সেই প্রস্তুতিপর্ব শুরু হয়েছে। এমন সময়ে আপনার মতো মেধাবী আর শুদ্ধতম তরুণকেও পাশে চায় দেশবাসী। এরপরও ‘রাজনৈতিক রেস্ট’-এ থাকবেন? জবাব চাই।

ই-মেইল: mail@basbhumi.com

[ad#co-1]

4 Responses

Write a Comment»
  1. Yes.
    MAhi

    b active in net.
    I like vry much n i want 2work with u 4the betterment of our loving BD.

  2. mahi vai ami oprapr kotha golor sahte ak mot. amader moto noton der apnar moto ledar khob proiyjon. apni takle amra ai toron nar obooshaiy takbo apnar shate….
    mara achi amra atkabo pnar shate…

    plz apni fira ashon….!!!

  3. মাহি ফিরে আসবেন কেন? উনি এখন স্ট্রিট স্মার্টনেস, ক্রিয়েটিভিটি খুজতে ব্যস্ত।

    দেশকে এগিয়ে নিজে যেতে ইচ্ছুক, তাই বাংলাদেশের মত দেশে ৫০ লাখ টাকা উড়িয়ে সংস্কৃতির নামে স্ট্রিট স্মার্টনেস, ক্রিয়েটিভিটি বের করতেই বেশি সময় দিতে চান।

    দেশ চলুক, ৫০ লাখ ইনভেস্ট করে যদি ৮০লাখ প্রোফিট পাওয়া যায়, তাতে সমস্যা কোথায়, কারও যদি হাত-পা ভাঙ্গে, তাতে কোন সমস্যা নাই . . ফান ক্ল্যাব অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে ব্যস্ত।

    আপনার নিজের নূন্যতম ব্যক্তিত্ববোধ নাই, সরি মাহি ভাই, সরি, দেশের কলংক আপনি, কী করছেনে আপনি এসব।

  4. @ আকিদুল ইসলাম ভাই,

    ওনাকে রেস্ট করতে দিন। যার যা ইচ্ছে তা করতে দিন, উপরে একজন আছেন, উনি সব কিছু দেখছেন, বিচার করবেন।

    দোয়া করি, তাড়াতাড়ি যেন আল্লাহ ওনাকে সুবুদ্ধি দিক। আমিন।