ভানুদা বললেন, 'বেঁচে আছেন মুন্নী?' আমি আস্তে করে বললাম, 'হ্যাঁ'

মুন্নী সাহা
২৫ ফেব্রুয়ারি। সকাল সাড়ে ৯টা হবে। হঠাৎ আমার মোবাইল ফোনে এসএমএস। যাতে লেখা_’মুন্নী, তুমি কি জানো, বিডিআর হেড কোয়ার্টারে কী যেন হচ্ছে…’। লিখেছে আমার বন্ধু এ্যানি আপা। নানা কারণে সেনাবাহিনী, বিডিআরের সঙ্গে ওর সম্পর্ক খুব ভালো। আমি মেসেজটি পেয়ে টিভি অন করলাম। কিছু নেই। অফিসে ফোন করে জানতে চাইলাম কিছু জানে কি না। ডিউটি নিউজ এডিটর ভানুদা বললেন, ‘আমরা শুনেছি। ভেতরে গোলাগুলি, নাকি বিডিআর নাইটের জন্যে আতশবাজি প্র্যাকটিস_বোঝা যাচ্ছে না। দিপু গেছে…’

ভানুদার কথার ভঙ্গিতে বোঝা গেল, তেমন কিছু হয়তো না, আর দীপু… মানে আমাদের টিমের সবচেয়ে জুনিয়র রিপোর্টারকে যখন পাঠানো হয়েছে, তখন তেমন বড় কিছু হয়তো নয়। এই স্বস্তি নিয়ে ফোন রাখতে না রাখতে আমার সেই বান্ধবীর ফোন। উৎকণ্ঠা নিয়ে, কিছুটা নিশ্চিত হয়েই ও জানাল যে বিডিআর সদর দপ্তরে ভয়ঙ্কর কিছু ঘটে গেছে বা ঘটতে যাচ্ছে। এবার আমি ফোন করলাম বুলবুল ভাইকে। তিনি সে সময় আমাদের বার্তা বিভাগের প্রধান ছিলেন। বুলবুল ভাই বললেন, তিনিও কিছু একটা ঘটছে শুনেছেন এবং খবর নিচ্ছেন আসলে কী…।

বুলবুল ভাই বললেন, আপনি আসতে পারবেন অফিসে,… যাই হোক না কেন, ভানুদা একটু কনফিউসড থাকেন… আপনি আসেন, আমিও চলে আসছি। আমি তাড়াহুড়ো করে বের হলাম, ধরেই নিয়েছিলাম যে আমার নিউজ রুমে ভানুদাকে সহযোগিতা করতে হবে, বাইরে রিপোর্টিংয়ের কোনো কাজ নেই, ফলে রাতে যে ‘জামা-পায়জামা’ পরে ঘুমিয়েছি, তা আর চেঞ্জ করিনি। গাড়ি আসতে আসতে ফোনের পর ফোন_ততক্ষণে সব টেলিভিশনে ব্রেকিং নিউজ। কোথাও কোথাও ফুটেজও দেখিয়েছে। রাস্তা থেকেই আবারো বুলবুল ভাইয়ের পার্মিশন নেওয়ার চেষ্টা করলাম যে আমি স্পটে যাব কি না। তিনি বললেন, নিউজ রুমে যান, আমি আসি, তারপর দেখা যাবে।

ততক্ষণে গোটা জাতি আতঙ্কে। বিডিআর সদর দপ্তরের ভেতর থেকে গোলাগুলি শোনা যাচ্ছে, দুই-একবার হেলিকপ্টারও খুব কাছ থেকে উড়ে গেছে। আমাদের মানস ঘোষ ফোনে লাইভ খবরে বলছেন, ‘হেলিকপ্টার থেকে গুলি ছোড়া হয়েছে, সদর দপ্তরের ভেতর থেকে লিফলেট বা কাগজ-জাতীয় কিছু ছড়ানোও হচ্ছে।’ বার্তাকক্ষে এমনই টানটান উত্তেজনায় রিপোর্টার মনিউর রহমান একটা কাগজ এনে হাজির করলেন। যাতে বিডিআর সদস্যদের ৫২ দফা দাবি। যেটা আগের দিন, প্রধানমন্ত্রী যখন প্যারেড উদ্বোধন করেছেন, এর আগে তারা রিপোর্টারদের কাছে বিলি করেছিল। সেখানে যা যা লেখা ছিল, সেসব দাবিদাওয়ার কারণেই গোলমাল কি না তাও বলা ঠিক নয়, অন্তত নিশ্চিত না হয়ে খবরে তো কিছু দেওয়াই যায় না। এরই মধ্যে আইএসপিআর থেকে ফ্যাক্স বার্তা। বিডিআর সদস্যদের অস্ত্র সমর্পণ ও শান্ত থাকার জন্য অনুরোধ। প্রধানমন্ত্রী বিডিআর সদস্যদের সব কথা শুনবেন বলেও ওই ফ্যাক্স বার্তায় উল্লেখ ছিল। আমরা মানে এটিএন বাংলাসহ সব নিউজ চ্যানেলই ওই বার্তাটি বারবার প্রচার করছিলাম। আইএসপিআর থেকে ফোন আসে, যেন আমরা প্রথমে বলি যে ‘বিডিআর ভাইদের
স-ব কথা প্রধানমন্ত্রী শুনবেন, তাদের যৌক্তিক দাবিও মানা হবে।’ অর্থাৎ ফোনের ও প্রান্ত থেকে যিনি অনুরোধটি করলেন, তিনি বুঝিয়ে দিলেন যে প্রেস রিলিজটি যেমন করেই লেখা হোক না কেন, বিডিআরের উদ্দেশে এমনভাবে খবরটি উপস্থাপন করতে হবে, যেন তারা সেটা দেখে অস্ত্র সমর্পণ করে এবং বিশ্বাস করে যে তাদের প্রতি সবাই সহানুভূতিশীল।

এরই মধ্যে বেলা গড়িয়ে ১টা। সব চ্যানেলে ভালো ছবি দেখাতে পারলেও আমরা একটু পিছিয়ে ছিলাম। অর্থাৎ গোলাগুলি বা পথচারী নিহত হওয়া_কিংবা সেনাবাহিনীর চারদিকে ঘিরে ফেলার ছবিও দেখাতে পারিনি। হঠাৎ রিপোর্টার এস এম বাবু মোবাইল ফোনে একজনের সঙ্গে কথা বলল। সে বিডিআর সদর দপ্তরের ভেতরে। সে রাজিও হলো, তার কথা রেকর্ড করার। আমরা প্রস্তুত। বাবু ফোন করল। সব প্রশ্নেরই উত্তর দিল সেই বিডিআর সদস্য। বারবারই আমরা জিজ্ঞেস করছি_কেউ কি মারা গেছে? আপনারা কতজন… কতজনের হাতে অস্ত্র, কতক্ষণ এভাবে অবরুদ্ধ রাখতে পারবেন? ওপাশ থেকে ওই বিডিআর সদস্যের সদম্ভ উচ্চারণ_’দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা অস্ত্র ছাড়ব না।’

বাংলাদেশের মানুষ প্রায় সবাই তখন উৎকণ্ঠায় বাকরুদ্ধ। কী হচ্ছে, কেন হচ্ছে… এই প্রশ্নের উত্তর নেই কোথাও। সবই গুজব। নানা ধরনের এসএমএস। নানান খবর। আর এমনই ঘোলাটে অবস্থায় প্রায় পাঁচ-ছয় ঘণ্টা কেটে গেছে। বার্তাকক্ষে বুলবুল ভাই বললেন, আমি যেন সন্ধ্যা ৭টার খবরের জন্য মূল প্রতিবেদনটি তৈরি করি। সারা দিন ধরে রিপোর্টাররা যেসব ছবি পাঠিয়েছে, আইএসপিআরের প্রেস রিলিজ, ফোনে বাবুর নেওয়া ইন্টারভিউ সব মিলিয়ে।

দায়িত্ব পেয়ে আমি একটু অবস্থাটা স্বচক্ষে দেখতে চাইলাম। যেন লেখাটা প্রাঞ্জল হয়। একটু ঘুরে আসি বলে যেই বেরুচ্ছি… কেন যেন মনে হলো একজন ক্যামেরাম্যান নিয়ে যাই। চিফ রিপোর্টার অশোক চৌধুরীকে অনুরোধ করি। তিনি জানান, ১৪ জন রিপোর্টার এবং ক্যামেরাম্যান এখন সেই স্পটে, ফলে আমি আর ক্যামেরাম্যান নিয়ে বিশেষ কী করতে পারব? যাই হোক, ধরে-বেঁধে সবচেয়ে ভীতু ক্যামেরাম্যানকে নিয়ে স্পটে যাই।

নিউমার্কেটের গেটে। সবাই নীলক্ষেত মোড়ে দাঁড়িয়ে। ঠাস্ঠুস্ আওয়াজ ভেতর থেকে আসছে। একটু সাহস করে নিউমার্কেটের গেটের কাছে যাই। সেনাবাহিনী অস্ত্র তাক করে আছে বিডিআর গেটের দিকে। পত্রিকার ফটোগ্রাফাররা তাদের এই ‘তাক’ করে থাকার ছবি তুলছেন। আমি পেছনে একটা মোটরসাইকেলের ওপর বসেছি, আর এক সেনা অফিসার ধমক দিয়ে বললেন, ‘যান, এখান থেকে… আমরা নিচু হয়ে আছি দেখেন না… আর আপনি আমাদের পেছনে বসে এমন নড়াচড়া করছেন। ওখান থেকে গুলি করলে…।’ তাদের ধমক খেয়ে, আবারো নিউমার্কেটের দেয়াল ঘেঁষে ঘেঁষে চলে আসি সাংবাদিকদের ভিড়ে। হঠাৎ এক লোক এসে বলল, ‘আপা,.. .কবরস্থানের পেছন দিক দিয়া গেলে ছবি পাইবেন_আমাদের ঘর থেকেই সব দেখা যায়। বিডিআররা মুখ বাঁধা… ছাদে, গেটের সামনে। ভালো শট নিতে পারবেন।’ ভদ্রলোকের কথায় কৌতূহলী হয়ে বললাম, ‘চলেন, যাই।’ অন্য সাংবাদিকদেরও বললাম। সবাই ওখানেই থাকবে। আমার পিছু নিল প্রথম আলোর এক রিপোর্টার।

কবরস্থানের পেছনের রাস্তায় যেই ঢুকেছি_বৃষ্টির মতো গুলি, আমি আমার ক্যামেরাম্যান মাটিতে বসে পড়ি। পেছনে পত্রিকার সাংবাদিকরাও। হঠাৎ হ্যান্ডমাইকে বিডিআর সদস্যরা বলছেন, ‘আপনারা গুলি থামান… আমরা মিডিয়ার সাথে কথা বলব…।’ আমরা রাস্তায় হামাগুড়ি স্টাইলে বসা। কিছুক্ষণ বাদে গুলি থামল, আমরা একটু করে আগাই। এভাবে একেবারে গেটের কাছে চলে গেছি। একজন বিডিআর সদস্য চিৎকার করে বলল, ‘আপা, আমরা কথা বলতে চাই_আমাদের কথা আপনারা তুলে ধরুন…’ তার কথা শুনে ক্যামেরাম্যানকে ইশারা দিয়ে সামনে যাই, মাইক্রোফোন ধরি ওদের মুখের সামনে। কেউ আমার গলার মধ্যে বন্দুকের নল ঠেকিয়েই কথা বলছে, কারো হাতে চারটা আর্জেস গ্রেনেড, কেউ খুব ঔদ্ধত্য নিয়ে কথা বলছে, কেউ কাঁদছে।

আমার মাথায় কিছু নেই। কেবল চিৎকার করে জিজ্ঞেস করছি_’কি হয়েছে ভেতরে? ডিজি সাহেব কই? কেউ মারা গেছে কি না…’ তখনো পর্যন্ত এসব প্রশ্নই ভয়ার্ত-শঙ্কিত সব বাঙালির মনে। এসব জিজ্ঞেস করতে করতে আড় চোখে আমি দেখে নিলাম যে গেটের ভেতরে একটা ওয়েটিং রুমে তিন-চারটি টিভি চলছে। অস্ত্র হাতে, মুখ কাপড়ে বেঁধে সবাই টিভির দিকে। আমার ক্যামেরার সামনে যারা কথা বলেছে, তাদের একটাই দাবি_বিডিআর থেকে সেনা কর্তৃত্ব সরাতে হবে, বাইরে (অর্থাৎ চারদিকে তখন ঘিরে থাকা) থেকে সেনাসদস্যরা সরে গেলে তারা অস্ত্র সমর্পণ করবে। আমি ধমক দিয়ে জিজ্ঞেস করেছি, ‘আপনাদের লিডার কে, কার সাথে সরকার যোগাযোগ করবে?’ কেউ একজন বলেছিল_’নায়েক শহীদ’। আমি ফোন নম্বরও চেয়েছিলাম। প্রায় ১০ মিনিট ওদের কথা রেকর্ড করা হয়ে গেছে, হঠাৎ কোথা থেকে গুলি…। গেটের ভেতর থেকে একটা হাত আমার মাথাটা চেপে দিয়ে মাটিতে ফেলে দিল… মাথার ওপর ঝনঝন করে কাচ ভেঙে পড়ল_ক্যামেরাম্যান ততক্ষণে দৌড়ে পালিয়েছে। আমি মোটামুটি গড়াতে গড়াতে একটু আড়ালে গিয়ে উঠে দাঁড়ালাম।

নিউজ রুম থেকে ভানুদার ফোন_’হ্যালো, মুন্নী… হ্যালো…’ আর মাথার ওপর ঠ্যা ঠ্যা… শব্দে প্রচণ্ড গুলি চলছে। ভানুদা বললেন, ‘বেঁচে আছেন মুন্নী?’ আমি আস্তে করে বললাম, ‘হ্যাঁ’। তখন বেলা ৩টার নিউজ চলছে। ভানুদা বললেন, ‘ফোনো দিতে পারবেন?’ আমি দৌড়াচ্ছি, হাঁপাচ্ছি…গাড়ি খুঁজছি, কানে ফোন… বললাম, ‘না, চলে আসছি।’ আসতে আসতে আরো ২০ মিনিট। ক্যাসেটটা প্রোডিওসারের হাতে দিয়ে আমি সোজা স্টুডিওতে। খবর পাঠক আমাকে নানান কিছু জিজ্ঞেস করছেন, আমি কিছুই বলতে পারছিলাম না।

ওদিকে আমার নেওয়া ইন্টারভিউ পুরোটাই প্রচার হলো। সকাল সাড়ে ৯টার পর থেকে গুজব-উৎকণ্ঠায় সারা দেশ প্রথম দেখতে পেল বিডিআর বিদ্রোহীদের। যারা মুখ বেঁধে নানান ক্ষোভের কথা জানিয়েছে মিডিয়ায়। প্রথম এমন দুঃসাহসিক ইন্টারভিউ আনতে পারায় বার্তাকক্ষের সবাই, বিশেষ করে এটিএন বাংলার প্রধান উপদেষ্টা আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। বললেন, ‘ইউ আর গ্রেট, মাই চাইল্ড’। বারি ভাইয়ের সঙ্গে খুনসুটি করি সব সময়। তাঁর এই অ্যাপ্রিসিয়েশনের জবাব দিলাম_’হ্যাঁ, এখন গ্রেট বলছেন… পরে না আবার কি সমালোচনা করেন…?’ তারপরের ঘটনাবলি সবাই জানেন। সব চ্যানেলের রিপোর্টাররাই ওই নির্দিষ্ট গেটে গিয়ে বিদ্রোহীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সারা রাত আমরা ধানমন্ডি ২ নম্বর রোডের ওপর দাঁড়িয়ে থেকে লাইভ সম্প্রচার করেছি। সাদা পতাকা নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-আইন প্রতিমন্ত্রীর ভেতরে ঢোকা। সব সব খবরই তৎক্ষণাৎ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। দফায় দফায় বৈঠক চলছিল সরকারের প্রতিনিধি এবং বিডিআর প্রতিনিধির সঙ্গে। দুয়েকবার তাঁরা বসেছেন আম্বালা হোটেলে। সরকারি দলে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের কেউ (নাম না-ই বললাম) এসে অনুরোধ করেছেন, যেন বারবার প্রচার করি যে সেনাবাহিনী ঘেরাও করে নেই, তারা সরে গেছে। তা না হলে অস্ত্র সমর্পণে রাজি হচ্ছে না বলে জানান সরকারি সমঝোতাকারী দলের প্রতিনিধিরা। এদিকে আমার মোবাইল ফোনে শত শত এসএমএস। সবই নিজেদের সেনাসদস্য পরিচয় দিয়ে এবং প্রায় সবগুলোরই অনেকটা একই রকম ভাষা। সেই ভাষার হুবহু উদ্ধৃতি না করাই ভালো। তবে মূল সুর হলো, কেন খরাব-এ বলছি না যে কতজন মারা গেছে। শুধু আমি কেন_বিডিআর গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা শত শত সাংবাদিক, উৎসুক জনতা, আমরা কেউই জানি না কত নৃশংস হত্যাযজ্ঞ হয়েছে সেখানে। ফলে সাংবাদিক হিসেবে কখনোই অজ্ঞাত সোর্সের খবর প্রচার করা উচিত নয়। লাইভের ফাঁকে ফাঁকে বুলবুল ভাইকে সব জানাচ্ছি। বুলবুল ভাইয়ের এককথা_’যেটা নিজে নিশ্চিত জানবেন না, সেটা বলবেন না। আর মনে রাখবেন_এখন বড় কাজ বিডিআর সদস্যদের অস্ত্র সমর্পণ। ওরা যতক্ষণ পর্যন্ত না আস্থা পাবে, ততক্ষণ অস্ত্র ছাড়বে না।’

আমি বললাম, ‘বুলবুল ভাই, আপনি বলছেন দায়িত্বশীলতার কথা, কিন্তু দেখেন অন্য চ্যানেলগুলো… ভেতর থেকে বিডিআর সদস্যরা ঢিল মেরে চিঠি লিখছে, যে বাংলাভিশনে দেখেছে তারা ল্যাবএইডের সামনে সেনাবাহিনীর ট্যাঙ্ক…, আর আমাদেরটা দেখলে কি বিশ্বাস করবে… ছাড়বে ওরা অস্ত্র?’
বুলবুল ভাই বললেন, ‘আচ্ছা আমি তথ্যমন্ত্রীর সাথে কথা বলি…’।

দেশে এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুঃখজনক বীভৎস ঘটনার কিছুটা নিশ্চিত খবর পাওয়া যায়, ২৫ পেরিয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারির ভোর রাতে। তখনো প্রতীকী অস্ত্র সমর্পণ হয়েছে মাত্র। তবে বিডিআর সদর দপ্তরের ভেতরে অস্ত্র-গোলাবারুদসহ বিডিআর বাহিনী, বাইরে থেকে তাদের ঘিরে রাখা সশস্ত্র সেনাবাহিনী এবং সব সীমান্ত থেকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়া উন্মত্ত বিডিআর বাহিনী। এমনি যুদ্ধংদেহী অবস্থায় সরকার, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী যখন সমঝোতার পথে তখন সাংবাদিকতার চেয়ে দেশের কথাটাই মাথায় রেখেছি সবার আগে। ভাবা যায়, কী হতো যদি আমি বেনামি এসএমএসকারীদের উদ্ধৃতি দিয়ে খুনের কথা বা ধর্ষণ হওয়ার কথা সেই রাতে বলতাম, যে রাতে বিডিআরের হাতেও অস্ত্র, সেনাবাহিনীও প্রস্তুত। যেকোনো সুস্থ জ্ঞানসম্পন্ন মানুষ সেই ভয়াবহতা আঁচ করতে পারবেন। তবে সাংবাদিক হিসেবে আমি এখনো একটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজি_২৫ ফেব্রুয়ারি এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে দিন-তিনটা নির্দিষ্ট চ্যানেলের ফরমায়েশি একটি টক শোর আলোচ্য বিষয় নিয়ে, যেখানে তাঁরা মিডিআর দায়িত্বশীলতা নিয়ে মুণ্ডপাত করেছেন।

জানতে ইচ্ছে হয়, তড়িঘড়ি করে নির্ধারিত ওই বক্তারা দুই-তিনটা চ্যানেলে দায়িত্বশীলতা নিয়ে কেন উদোরপিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপাতে চেষ্টা করলেন? হয়তো বিডিআর হত্যাযজ্ঞের ঘটনার সঠিক তদন্তের সঙ্গে সঙ্গে এ প্রশ্নের জবাবও পাব।

মুন্নী সাহা : সাংবাদিক

published on kaler kantho on 25 feb 2010

[ad#co-1]

One Response

Write a Comment»
  1. Dear Munni
    Tomar sahosikotar jonnyo dhonnyobad / tumi amader gorvo /Munshigonj srijoni kachikachar melar ekjon sodossa emon namkora sangbadik vabtei DADA BHAI er proti shroddhay matha obonoto hoye ase /sei sathe Safi vaier proti o //valo theko –tomar Anju da /tokyo / japan