যাত্রাবাড়ীতে আইনজীবী খুন

সোমবার রাতে যাত্রাবাড়ীর দয়াগঞ্জ রেলসেতুর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া লাশের পরিচয় মিলেছে। সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত ওই ব্যক্তির নাম আবদুল্লাহ আল ফারুক (৩৭)। তিনি আইনজীবী ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে নিহতের স্বজনরা তার লাশ শনাক্ত করেন। নিহতের শ্যালক সিয়াম জানিয়েছেন, ফারুক মুন্সীগঞ্জ জজকোর্টের আইনজীবী ছিলেন।

সোমবার সকালে শ্যামপুরের ১৬৯/৮ নাম্বার পান্থনিবাস আবাসিক এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে আদালতে যান। বিকাল সাড়ে ৫টায় মুন্সীগঞ্জ থেকে ঢাকায় ফিরে মতিঝিলে অ্যাডভোকেট খোকনের চেম্বারে যান। সেখান থেকে বেরিয়ে তার নিজের চেম্বারে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি যাননি। সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় তার স্ত্রী তাহরিমা খাতুন আরিনার মোবাইল ফোনে অজ্ঞাত ব্যক্তির ফোন আসে। আরিনা ফোন ধরলেও অপরপ্রান্ত থেকে কেউ কথা বলেনি। একটু পর ফারুককে ফোন করেন আরিনা। কিন্তু ফারুক ফোন রিসিভ করেননি। এর কিছুক্ষণ পর থেকে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। বাসার লোকজন ফারুককে খুঁজতে শুরু করে। জানানো হয় পুলিশকে। রাত সোয়া ১০টার দিকে পুলিশ তার লাশের সন্ধান পায়।

পুলিশ জানায়, ফারুকের বাম পায়ে ধারালো অস্ত্রের রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে তিনি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে জানান, ছুরিকাঘাতে আহত অবস্থায় রিকশাভ্যানে চড়ে দয়াগঞ্জ এলাকার একটি ওষুধের দোকানে যান ফারুক। দোকানের লোকেরা তার পায়ে ব্যান্ডেজ করে দিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন। ওই ভ্যানচালক ওষুধের দোকানে জানিয়েছিল, ফারুক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে রাস্তায় পড়েছিল।

পুলিশের ধারণা, মেডিকেলে নেয়ার আগেই ফারুকের মৃত্যু হলে ভ্যানচালক রাস্তার পাশে লাশ ফেলে পালিয়ে যায়। সম্ভবত দুর্বৃত্তরা তার কাছে থাকা মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিয়েছে। নিহত ফারুকের বাবার নাম কাশেম আলী। গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপায়।

[ad#co-1]