বাঁধন ছাড়া

ডাক্তারি পাস করার পর থেকেই অনেকটা কোমর বেঁধে কাজে নেমে পড়েছেন বাঁধন। পাশাপাশি বাংলাদেশ মেডিকেলে ইন্টার্নিও করছেন। বাঁধনের হাতে রয়েছে এখন প্রায় একডজন নাটকের কাজ। তিব্বত বিউটি সোপের বিজ্ঞাপন করে সম্প্রতি প্রশংসিত ও আলোচিত হওয়ার পর বাঁধন এখন কাজ করছেন ছয়টি ধারাবাহিক নাটকে। মাহফুজ আহমেদের চৈতা পাগল, আলভী আহমেদের এয়ারকম, আশুতোষ সুজনের ইউটার্ন ট্যাক্সিক্যাব, রাজিবুল ইসলাম রাজিবের অগ্নিরথ, কাফি বীরের বিজি ফর নাথিং এবং নায়িকা রোজিনার মেয়েটি ঢাকা যাচ্ছে। শেষের নাটকটি এরই মাঝে চ্যানেল আইতে প্রচার শুরু হয়েছে।

নাটকগুলোতে নিজের চরিত্র নিয়ে বাঁধন বলেন, একেকটি নাটকে একেক ধরনের চরিত্রে কাজ করছি আমি। চৈতা পাগল নাটকে আমি চেয়ারম্যানের চঞ্চল একটি মেয়ে, এয়ারকম নাটকে আমি একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির মার্কেটিং হেড, বিজি ফর নাথিং নাটকে আমি অভিনয় করেছি ঢাকাইয়া কুট্টির চরিত্রে, যে কিনা সিনেমার নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন দেখে। আবার অগ্নিরথ নাটকে আমি সাধারণ ঘরের সাদাসিধে মেয়ে এবং ইউটার্ন ট্যাক্সিক্যাব নাটকে আমাকে দেখা যাবে উচ্চবিত্ত শ্রেণীর মানুষদের মনোরঞ্জন করতে। সব মিলিয়ে বৈচিত্র্যময় সব চরিত্রে কাজ করছি। ধারাবাহিক নাটকের বাইরে বাঁধন অভিনীত প্রায় অর্ধ ডজন এক ঘণ্টার নাটক রয়েছে প্রচারের অপেক্ষায়। সম্প্রতি সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছে তার অভিনীত প্রথম ছবি নিঝুম অরণ্য। মুক্ত বাঁধন সরাসরি বলেন, আসলে এখনও যে কোনো পরিচালক বা পরিচিতজন ফোন করলে প্রথমে বলেন, পরীক্ষার খবর কী? এখনও সবাই মনে করছেন আমি বোধহয় পরীক্ষা নিয়েই ব্যস্ত। এটা গত তিন বছর ধরে আমি এতবার বলেছি যে এখন অভ্যেস হয়ে গেছে। এখন আমি বলতে চাই, পড়ালেখার বেড়াজাল থেকে মুক্ত। বাঁধন ছাড়া হয়েছি এবং নিয়মিত কাজ করতে চাই। সেটা সিনেমা, নাটক কিংবা বিজ্ঞাপন—যাই হোক না কেন। তবে অতি অবশ্যই মানসম্পন্ন কাজ হতে হবে।

সিনেমাভিনয় নিয়ে বাঁধন বেশ আলোচিত হয়েছিলেন। তবে পরীক্ষার কারণে তিনি সিনেমা থেকে অনেক পিছিয়ে গেছেন। বাঁধনের ভাষায় এখন আমি শতভাগ বাণিজ্যিক ছবিতে কাজ করবো। তবে শুরুটা আমি ভালোভাবে করতে চাই। যে কারণে একটু ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেব। শুরুটাতো হয়েই গেছে নিঝুম অরণ্য দিয়ে? হ্যাঁ। তা ঠিক, তবে সেই অর্থে শতভাগ বাণিজ্যিক ছবি নয়। আমার বিশ্বাস, নান্দনিকতার দিক দিয়ে ছবিটি প্রশংসিত হবে। কিন্তু এ ধারার ছবিতে কাজ করে মূল ধারার ব্যস্ত নায়িকা হওয়া সম্ভব নয় বলে আমার ধারণা। যে কারণে ভালো একটি ছবির জন্য অপেক্ষা করছি। তবে এ কথা সত্যি যে, আমি যখন সমস্যায় ছিলাম ক্যারিয়ার আর পড়ালেখা নিয়ে তখন এ ছবিটি আমাকে সাপোর্ট করেছে। অনেকেই আমাকে নিয়ে অনেক নেতিবাচক খবর ছড়িয়েছে। অনেকেই ভেবেছে আমি আর কাজ করব না। সেই সময় ইমপ্রেস টেলিফিল্মের এ ছবিটি আমার ক্যারিয়ার বাঁচিয়ে দিয়েছে। আমি ইমপ্রেসের কাছে কৃতজ্ঞ। তাদের সহযোগিতায় আমি বাঁধন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছি।

২০০৬ সালে বাঁধন লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানারআপ নির্বাচিত হন। মম, বিন্দু আর বাঁধন এ তিনজনই প্রতিযোগিতা থেকে আলোচিত হয়ে ওঠেন। সন্দেহ নেই এ তিনজনের মধ্যে সেরার মুকুটটি বাঁধনের মাথায় না উঠলেও তিনিই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত ও তারকাখ্যাতি অর্জন করতে পেরেছেন। মজার বিষয় হলো বাকিদের চেয়ে বাঁধন কাজও কম করেছেন ওই পরীক্ষার বেড়াজালে আটকে। সুন্দরী নির্বাচিত হওয়ার পর বাঁধন প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান হুমায়ূন আহমেদের বুয়া বিলাস নাটকের মাধ্যমে। এরপর তিনি একই পরিচালকের চারটি নাটকে কাজ করছেন। এর মধ্যে ধারবাহিক নাটক চন্দ্র কারিগর তাকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। কাজ করেন আফজাল হোসেনের সঙ্গে উত্তরসূরি নামের ভিন্নধর্মী একটি অনুষ্ঠানে। এর মাঝে করেছেন বেশ কিছু বিজ্ঞাপন। ব্যাস! বাঁধন হয়ে যান মিডিয়ার চাহিদাসম্পন্ন তারকা। সেই ২০০৬ থেকে আজ অব্দি প্রায় অর্ধশত নাটক টেলিফিল্মে কাজ করেছেন তিনি। বাঁধনের ভাষায়, আসলে আমাদের পরিচিতিটা প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই তৈরি হয়েছিল। কেননা দারুচিনি দ্বীপের নায়িকা খোঁজার যে ক্যাম্পেইন লাক্স সে দফায় করেছিল তা ছিল ব্যাপক আলোচিত। এমন ক্যাম্পেইন এরপর থেকে আর হয়নি বলে আমার ধারণা। সিনেমার নায়িকা হতেই প্রতিযোগিতায় এসেছিলাম। হয়ে গেলাম টিভি নায়িকা। তবে এখনও আমি স্বপ্ন দেখি সিনেমার নায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার। এখন আমি মুক্ত বলেই নতুন করে ভাবছি। কী ভাবছেন? আগামী দুই বছর আমি একটানা কাজ করব। অবশ্যই সিনেমাকে গুরুত্ব দিয়ে। এরপর পরিবেশ পরিস্থিতি আর আমার ভাগ্যকে দেখে সিদ্ধান্ত নেব যে পড়ালেখার জন্য বিদেশে চলে যাব কি না। বাঁধন দেশেই থাকুক। আমাদের সিনেমাকে আরও সমৃদ্ধ করুক। আমাদের সিনেমা মাঝে মধ্যে যে অসুখ-বিসুখে জর্জরিত হয় তাতে একজন ডাক্তার নায়িকা আমাদের শিল্পের জন্য জরুরি।

[ad#co-1]