পদ্মা সেতুর দরপত্র নিয়ে বিতণ্ডা

* আ’লীগের তিন এমপির সংসদীয় কমিটির সভা বয়কট
* প্রধানমন্ত্রীর ভয় দেখালেন যোগাযোগমন্ত্রী
শামছুদ্দীন আহমেদ: পদ্মা সেতুর অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে গতকাল বাকবিতণ্ডা হয়েছে। কমিটির একাধিক সদস্য পদ্মা সেতুর নকশা ও দরপত্রের সকল কাজগপত্র সরবরাহ করার কথা বললে যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন সাফ জানিয়ে দেন ‘এটি একমাত্র প্রধানমন্ত্রী দেখতে পারেন। অন্য কারো দেখার এখ্তিয়ার নেই। কেউ বাড়াবাড়ি করলে প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হবে’। মন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তার সঙ্গে বাহাসে জড়ান কমিটির তিন সদস্য ও আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি (পটুয়াখালী-৩), ওমর ফারুক চৌধুরী (রাজশাহী-১) ও একরামুল করিম চৌধুরী (নোয়াখালী-৪)। এক পর্যায়ে মন্ত্রীর সঙ্গে রাগারাগি করে বৈঠক থেকে চলে যান এই তিন সংসদ সদস্য।

গোলাম মাওলা রনি আমাদের সময়-কে বলেন, সংসদে কার্যপ্রণালী বিধিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের যে কোনো দরপত্রের কাগজপত্র কমিটি চাইতে পারে। কিন্তু যোগাযোগ মন্ত্রী তা উপেক্ষা করায় এবং ‘কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী দরপত্রের কাগজপত্র সংসদীয় কমিটিকে দেয়ার বিধান নেই’ বলায় তারা বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করতে বাধ্য হন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ওই তিন সংসদ সদস্য যোগাযোগমন্ত্রীকে সরাসরি অভিযুক্ত করে বলেছেন, পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয় যেটি ধরা হয়েছে তা অস্বাভাবিক। এখানে যথেষ্ট অনিয়ম-দুর্নীতির সুযোগ রাখা হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন। উল্লেখ্য, কমিটির এর পূর্ববর্তী বৈঠক শেষেও গোলাম মাওলা রনি আমাদের সময়-কে বলেছিলেন ‘পদ্মা সেতুর সমান দৈর্ঘ্যরে ও মানের সেতু নির্মাণে বিশ্বের কোথাও আজ পর্যন্ত এত অর্থ লাগেনি।’

এদিকে, সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে কমিটিা সভাপতি প্রকৌশলী শেখ মুজিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয় ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। প্রকৃত নির্মাণ ব্যয় জানার জন্যই কমিটি নকশার ক্যাটাগরি ও দরপত্রের শর্তাবলি সম্বলিত সকল কাগজপত্র চেয়েছে। কেউ যদি বলে থাকেন কমিটির এই এখ্তিয়ার নেই তা সত্য নয়। কার্যপ্রণালী বিধি ও ২০০৩ সালে প্রণীত পিপিআর দেখিয়ে তিনি বলেন, বিধিতে স্পষ্ট বলা আছে কমিটি এই ধরনের কাগজপত্র চাইতে পারবে। এসময় উপস্থিত কমিটির অপর দুই সদস্য এইচএম গোলাম রেজা ও অপু উকিলও একই মত ব্যক্ত করেন।

অন্যদিকে, বঙ্গবন্ধু সেতুর ফাটল নিয়েও আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে সংসদীয় কমিটি। শেখ মুজিব বলেন, নকশায় ত্র“টি-বিচ্যুতি থাকার কারণেই এই ফাটল দেখা দিয়েছে। কমিটি সভাপতির মতে একই প্রতিষ্ঠান বঙ্গবন্ধু সেতুর ডিজাইন ও নির্মাণ কাজ করে। সেতুর ফাটলের জন্য তারাই দায়ী। ওই প্রতিষ্ঠান এখন ফাটলের জন্য ট্রেনের ওভারলোডকে দায়ী করলেও তা ঠিক নয়। তাদের সঙ্গে চুক্তিপত্রে কী ছিল, কারা কারা এরসঙ্গে সম্পৃক্ত সে ব্যাপারে কমিটির পরবর্তী বৈঠকে জানানোর জন্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ফাটল রোধে নদী ড্রেজিং ও নদীর ভাঙন রোধের পরামর্শ দেয় কমিটি। কমিটির মতে, জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করলে ওই চুক্তিপত্র গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

কমিটি সভাপতি বলেন, বৈঠকে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ২৪ জন কর্মকর্তার বিষয়েও আলোচনা হয়। এই ২৪ জন বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ট্র-থ কমিশনে গিয়ে দুর্নীতির কথা স্বীকার করেছিলেন। সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছে কমিটি।

[ad#co-1]