মুন্সীগঞ্জে আলুর বাম্পার ফলন হলেও দরপতনের কারণে বিপাকে কৃষক

চলতি মৌসুমে মুন্সীগঞ্জে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু আলুর দরপতন হওয়ায় কৃষকের মুখের হাসি ম্লান হয়ে পড়েছে। কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে সার-কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের দাম গত বছরের তুলনায় কম থাকলেও চড়া দামে ক্রয় করতে হয়েছে বীজ। তাছাড়া বেশি মূল্যে জমি লিজ নিয়ে আলু চাষ করেছেন তারা। নতুন আলুর ভরা মৌসুমে এখন বাজারে আলুর দাম ক্রমেই কমতে থাকায় তারা পড়েছেন বিপাকে।

জমির ভাড়া, সেচ, বীজ, সার কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরিসহ মণপ্রতি আলুর খরচ পড়েছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। দরপতনের কারণে জমিতে বর্তমানে আলুর সবোর্চ মূল্য মণপ্রতি (৪০ কেজি) ৪২০ থেকে ৪৩০ টাকা। অপরদিকে পাইকারও নেই, বড় ব্যবসায়ীরা হাত গুটিয়ে বসে আছেন। তাছাড়া কোল্ড স্টোরেজের ভাড়া দ্বিগুণ হওয়ায় আলুর বাম্পার ফলনের পরেও কৃষকের মুখের হাসি ম্লান হয়ে গেছে।

কৃষকরা জানান, গত বছর চাষিরা আলুর দাম ভালো পাওয়ার কারণে এবার তারা আরো বেশি আলুর চাষ করেছেন। চাষে আগ্রহ বেশি থাকায় এ অঞ্চলে এ বছর জমির ভাড়া হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। তা সত্ত্বেও মুনাফালাভের আশায় চাষিরা চড়া দামে জমি লিজ নিয়ে আলু আবাদ করেছেন। গত বছর যেখানে প্রতি গণ্ডা (সাড়ে সাত শতাংশ) জমির ভাড়া ছিল দুই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা। এবার সেখানে জমির মালিককে গণ্ডাপ্রতি ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হয়েছে। জমি ছাড়াও এবার বীজের দাম ছিল অনেক বেশি। এবার বিএডিসিতে বীজ বিক্রি হয়েছে মণপ্রতি (৪০ কেজি) ১৬০০ টাকা থেকে ১৭০০ টাকায়। ব্র্যাকের ৫০ কেজির বস্তা বিক্রি হয়েছে ৬ হাজার টাকা দরে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আমিনুর রহমান জানান, জাতীয়ভাবে এবার মুন্সীগঞ্জে ২৯ হাজার হেক্টর জমি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। তিনি আরো জানান, গত বছর এ জেলায় হেক্টর প্রতি আলুর ফলন পাওয়া গেছে ৩০ টন। এবার আবহাওয়া আলু চাষের অনুকূলে থাকায় হেক্টর প্রতি ফলন পাওয়া যাচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টন। সব মিলিয়ে এ বছর জেলায় সাড়ে ১১ লাখ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত মৌসুমে ১০ লাখ ৬৭ হাজার ৬৭০ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়েছিল।