বাংলাদেশে ঐক্যের বড়ই অভাব

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
বাংলাদেশে সমস্যাসহ অনেক কিছুরই প্রাচুর্য দেখা যাবে, তালিকা দিতে গেলে দীর্ঘ হবে; কিন্তু বড় রকমের অভাব রয়েছে সৃষ্টিশীলতার। ঠাট্টা করে বলা হয়, সৃষ্টিশীলতার প্রয়াসটুকুই আত্দসাৎ করে নিয়েছে জনসংখ্যার বৃদ্ধি, যে বৃদ্ধির চাপে বাংলাদেশের এখন তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম। সৃষ্টিশীলতার এই অসদ্ভাবের নিশ্চয়ই একাধিক কারণ রয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় কারণটা হচ্ছে বিচ্ছিন্নতা।

সৃষ্টির জন্য প্রয়োজন হয় ঐক্যের। একা একা কেউই কোনো কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না, প্রয়োজন হয় সমর্থন ও সহযোগিতার; সে জন্যই ঐক্য দরকার হয়। কিন্তু বাংলাদেশে ঐক্যের বড়ই অভাব, যার বিপরীতে বিচ্ছিন্নতার খুব বেশি তৎপরতা। বিচ্ছিন্নতার ইতিহাসটা বেশ পুরনো। আমাদের দেশ দীর্ঘদিন পরাধীন ছিল। পরাধীন থাকলে দেশকে নিজের বলে মনে হয় না। এ দেশের মানুষের ক্ষেত্রেও সেটাই ঘটেছে। কিন্তু বাংলাদেশ কি এখন স্বাধীন? না, এখনো সে পরাধীন বটে। রাষ্ট্র চলে বিদেশিদের নির্দেশে; রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে নাগরিকদের অধিকাংশই মনে করেন না যে এ রাষ্ট্র তাদের। কারণ হলো এই যে তাদের জীবনের অধিকারগুলোর বাস্তব স্বীকৃতি নেই। ওদিকে যে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা এখানে বিদ্যমান তার অধীনে লোকে কাজ করে; কিন্তু বোধ করে না যে কাজটা তার নিজের। এমনকি পেশাজীবী যারা তারাও ভাবে কাজ করছে অর্থোপার্জনের প্রয়োজনে এবং যাদের তারা সেবা করছে তাদের সঙ্গে সম্পর্কটা টাকা-পয়সা লেনদেনের বাইরে অন্য কিছুর নয়। ব্যবসায়ীরাও শুধু ব্যবসাই করেন, উৎপাদন করেন না, যে জন্য যে পণ্য নিয়ে তাঁদের কারবার তার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক গড়ে ওঠে না, ক্রেতাদের সঙ্গে তো নয়ই।

এখানে যৌথ কাজ এগোয় না। সমষ্টিগত কর্মকাণ্ড সবচেয়ে বেশি যেখানে জরুরি, সেটা হলো রাজনৈতিক দল। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো অতিসহজেই ভেঙে যায়, দু’টুকরো হয়, টুকরো টুকরো যে হয় না তাও নয়।
বিচ্ছিন্নতা ঘটেছে একটা মূল বাস্তবতার দরুন। সেটা হলো নিম্নমধ্যবিত্তের কর্তৃত্ব। মধ্যবিত্তের নয়, নিম্নমধ্যবিত্তেরই। আমাদের রাজনীতি, সমাজ-সংস্কৃতি সর্বত্রই কর্র্তৃত্ব করে নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণী। ইতিমধ্যে যাঁরা উচ্চমধ্যবিত্ত থেকে বিত্তবানে পরিণত হয়েছেন তাঁরাও দেখা যাবে দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তাচেতনায় নিম্নমধ্যবিত্তই রয়ে গেছেন। বুর্জোয়া রাজনৈতিক দলের লোকেরাও মনের দিক থেকে নিম্নমধ্যবিত্তই।

নিম্নমধ্যবিত্তের শ্রেণীচরিত্রের মধ্যেই বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। এই শ্রেণীর প্রধান কাজই হচ্ছে ঈর্ষা করা। ঈর্ষা করে, কিন্তু ঘৃণা করে না। ঈর্ষা করে কাকে? বাইরের কাউকে নয়, করে নিকট প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ আত্দীয়দের। এমনই সংকীর্ণ যে, যে-এর বাইরে যায় না। ওপরে যারা আছে তাদের দেখে, তাদের টেনে নামানো যাবে এমনটা ভাবে না, নিচে যারা রয়েছে তাদের উপেক্ষা করে। নিম্নমধ্যবিত্তের ঈর্ষার পাত্র হচ্ছে তারা, যারা কাছে রয়েছে অথচ ওপরে উঠে যাচ্ছে বলে মনে হয়। তাদের নিয়েই নিম্নমধ্যবিত্তের জগৎ। পরশ্রীকাতরতা কাছের মানুষদের জন্যই। টেনে নামানোর কাজটা নানাভাবে করে থাকে। ছেলেবেলায় গল্প শুনেছিল_এক কৃষক জোতদারের কাছে গিয়ে পরামর্শ চায় প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করা তার ছেলেটিকে সে এর পরে কোথায় পাঠাবে। জোতদার বলেছে, ছেলেটাকে বিয়ে দিয়ে দাও। কৃষক তাই করেছে। ফলে ছেলেটির সর্বনাশ হয়েছে।

তার পরিবার বড় হয়েছে এবং পরিবার বৃদ্ধির চাপে সে তলিয়ে গেছে। মনের দিক থেকে এই জোতদার একজন জোতদার ছিল না, ছিল নিম্নমধ্যবিত্ত।
অথচ নিম্নমধ্যবিত্তের ভেতর থেকেই লোকে ওপরে ওঠে, বিত্তবান হয়, মধ্যবিত্ত হয়। তবে যাই হোক না কেন, নিম্নমধ্যবিত্তের চরিত্রটি ঠেলে ফেলে দিতে পারে না। তার আগ্রহ থাকে অন্যদের উঠতে না দেয়ায়। আর নিম্নমধ্যবিত্ত যে ওঠে সেটা তো কোনো সৃষ্টিশীল উপায়ে নয়। দেশে যে এত দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের কথা শুনি এবং দেখি, তার পেছনে যে মানসিকতাটা কাজ করে তা হলো শ্রম ও সৃষ্টি না করে সহজে ওপরে উঠে যাওয়া। ঘুষ দেয়, কেননা ঘুষ দিলে আর কোনো অসুবিধা থাকে না, কাজটি দ্রুত সম্পন্ন হয়। ঘুষ যে দেয় সে আবার নেয়ও, অন্তত নিতে চায়। এই ঘুষেরই তো আরেক রকম প্রকাশ হচ্ছে সন্ত্রাস। পরিশ্রম না করে উন্নতি করা_অর্থাৎ বড়লোক হওয়ার পথ এখন সৃষ্টিশীলতার পথে মস্ত এক প্রতিবন্ধকের সৃষ্টি করছে। কৃষক অবশ্য জানে না কিভাবে ঘুষ দিতে হয়। ঘুষ দেওয়ার সামর্থ্যও তার নেই; কৃষক শ্রম করে, উৎপাদনের কাজে প্রাণপণে ব্যস্ত থাকে। কৃষকের সংস্কৃতি একেবারেই ভিন্ন ধরনের, সেটি পুরোপুরি সৃষ্টিশীল; কিন্তু কৃষক তো দৃষ্টান্ত নয়। সে বেচারা চিরকালই উপেক্ষার, বড়জোর করুণার পাত্র; অনুৎপাদনের সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করে এমন ক্ষমতা কোনোকালেই কৃষকের করায়ত্ত ছিল না, এখনো নেই।
শ্রমিকও পরিশ্রম করে, গার্মেন্টের মেয়েদের শ্রম দেখে বোঝা যায় মানুষ কতটা পরিশ্রমী হতে পারে। কিন্তু এদের শ্রমও দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে না। দৃষ্টান্ত হচ্ছেন রাষ্ট্রের শাসকশ্রেণীর লোকেরা। তাঁরা পরিশ্রম করেন না, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস করেন; তাঁদের মূল প্রবণতাটা হচ্ছে লুণ্ঠনের।

এঁদের আদর্শই সমাজের জন্য আদর্শ হয়ে ওঠে এবং হয়ে রয়েছে। আমলারা সর্বদা দৃশ্যমান নন, অনেক সময়ই অদৃশ্য থেকে কাজ করেন; কিন্তু তাঁদের কাজ যে সৃষ্টিশীল নয় এটা বোধ করি তাঁরা নিজেরাও স্বীকার করবেন। এনজিও সেক্টরে অনেক রকমের কাজ হচ্ছে; কিন্তু এসব কাজও অত্যন্ত সীমিত। সর্বোপরি এনজিওদের কাজের লক্ষ্য হচ্ছে বিদ্যমান সমাজকাঠামোকে অক্ষুণ্ন রেখে অর্থনীতির পুঁজিবাদী বিকাশের ধারাটিকে সাহায্য করা এবং পুঁজিবাদের যে অন্তর্নিহিত আদর্শ, ব্যক্তিকে বড় করা, সমষ্টি থেকে ব্যক্তিকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা, সেটাতে মহোৎসাহে হাওয়া দেওয়া। অথচ সৃষ্টিশীলতার পথে প্রধান অন্তরায়টিই হচ্ছে প্রতিষ্ঠিত সমাজকাঠামো এবং উন্নয়নের পুঁজিবাদী পথ ও আদর্শ। ক্ষুদ্রঋণ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পুঁজিবাদীর জন্ম দেয়, যারা এই ঋণের বন্ধনে জর্জর থাকে, তার বাইরে যেতে পারে না। আর বড় ঋণ যারা নেয় তারাও বিনিয়োগ না করে তালে থাকে টাকাটা মেরে দেওয়ার।

নিম্নমধ্যবিত্তের কথা বলছিলাম। এই শ্রেণী তো আকাশ থেকে নেমে আসেনি। ভূমিতেই গড়ে উঠেছে। গড়ে উঠল শাসনব্যবস্থার প্রয়োজনে এবং আয়োজনে শাসনব্যবস্থার জন্য এরা অপরিহার্য। ছোট কাজগুলো এদের দিয়েই করিয়ে নেওয়া হয়, বড় ব্যবস্থাটির স্বার্থে। রাষ্ট্র বদলেছে, কিন্তু আসলে বদলায়নি। তার কাঠামোটি আগের মতোই আমলাতান্ত্রিক। এর সব সদস্য, চাই তিনি সচিব হোন কি পিয়ন হোন, সবাই বিচ্ছিন্নতাকে নিজের জন্য অহঙ্কারের ব্যাপারে বলে মনে করে পুরনো রাষ্ট্র ভেঙেছে, আবার নতুন গড়ে উঠেছে; কিন্তু তার আমলাতান্ত্রিক কাঠামোটা বদলায়নি।
যে সমাজ কাঠামো এখানে বিদ্যমান, সেটি ইংরেজ একদিন নিজের প্রয়োজনে তৈরি করেছিল। এটি শোষণমূলক। এতে অল্প মানুষের সুযোগ রয়েছে বেশি মানুষকে শোষণ করার; শোষণ করে ধনী হওয়ার। এই ব্যবস্থা উৎপাদনে উৎসাহী নয়, উৎসাহী লুণ্ঠনে। সমাজের এই গঠন এবং পুঁজিবাদের ওই আদর্শ এদের বদলাতে না পারলে সৃষ্টিশীলতা বাড়বে না, কেননা এরা উভয়েই হচ্ছে মস্ত বড় প্রতিবন্ধক। এনজিওদের কাজ এদের ভাঙা নয়, বরঞ্চ শক্তিশালী করা।

সৃষ্টির জন্য একতা চাই। ঐক্য অত্যাবশ্যক। আমরা বারবার ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। যোগ দিয়েছি বিভিন্ন আন্দোলনে। কিন্তু ঐক্য টেকেনি। সবচেয়ে বড় ঐক্য দেখা গেছে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে। এর তো কোনো তুলনা হয় না। শ্রেণী, পেশা, সম্প্রদায়, অঞ্চল, সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে মানুষ এক হয়েছিল একটি স্বপ্নের দ্বারা তাড়িত হয়ে। দুঃস্বপ্নের মধ্যে ছিল আমাদের প্রতিদিনের বসবাস; কিন্তু আমরা অসম্ভব রকমের সৃষ্টিশীল হয়ে উঠেছিলাম। যুদ্ধের ব্যাপারে আমাদের কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না, গেরিলা যুদ্ধের তো নয়ই, অথচ গেরিলা যুদ্ধে কী অসাধারণ উদ্ভাবন শক্তি তখন দেখা গেছে। সুশিক্ষিত ও সুসজ্জিত ৯০ হাজার পাকিস্তানি সৈন্য যে আত্দসমর্পণ করেছে সেটা তো এমনি এমনি ঘটেনি। এটা ছিল বাঙালি মুক্তিযোদ্ধাদের সৃষ্টিশীলতার কাছে পাকিস্তানি হানাদারদের ধ্বংসাত্দক শক্তির পরাজয়। যুদ্ধ শেষে তো কথাই নেই, এখন তো আত্দস্বার্থকেন্দ্রিকতার জয়জয়কার। যার দরুন বিজয়ের পর যুদ্ধকালীন সৃষ্টিশীলতাকে আমরা ধরে রাখতে পারলাম না, হানাদারদের হারিয়ে দিয়ে আমরা হেরে গেলাম_হানাদারদের পেছনে ছিল যে আদর্শিক দৈত্যের প্ররোচনা, সেই পুঁজিবাদের কাছে। সমাজতান্ত্রিক ঐক্যের যে আলো জ্বলে উঠেছিল, তা নিভে গেল, পথ হারিয়ে আমরা লিপ্ত হলাম পারস্পরিক সংঘর্ষে। এই পরাজয়ও ঐতিহাসিক বটে। সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্রের লজ্জাজনক বিদায় গ্রহণ ওই পরাজয়ের স্মারকচিহ্ন।

শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে আমরা অবশ্যই এগিয়েছি। কিন্তু সৃষ্টিশীলতার জন্য সর্বাধিক প্রয়োজন ছিল সর্বস্তরে মাতৃভাষাকে মাধ্যম হিসেবে চালু করা। সেটাই ছিল শিক্ষাক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ওইখানে সফল হলে সৃষ্টিশীলতার দ্বার আমাদের জন্য অবারিত হয়ে যেত। কিন্তু সেটা ঘটেনি। আমরা কিছু কিছু বই অনুবাদ করেছি, কিন্তু মৌলিক পাঠ্যবই তেমন একটা লিখতে পারিনি। উচ্চ আদালতেও বাংলা ভাষা চালু হয়নি। মেয়েরা শিক্ষাক্ষেত্রে এগিয়েছে। কিন্তু মেয়েদের নিরাপত্তা মোটেই বৃদ্ধি পায়নি_না কর্মক্ষেত্রে, না গৃহে।
ইতিহাসের চর্চা চলে; বইপত্র লেখা হচ্ছে, কিন্তু তাতে বর্ণনা যত পাওয়া যায় বিশ্লেষণ তত মেলে না। মতাদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাবে ইতিহাস গভীরতা পায় না। দর্শন-বিষয়ক রচনাতেও দার্শনিক অবস্থানের ঘাটতি চোখে পড়ে। উপন্যাসে ছোট ছোট কাহিনী পাওয়া যায়, সমাজকে পাওয়াটা কষ্ট হয়; অনেক সময়ই মনে হয় যেন রূপকথা বলা হচ্ছে। বিজ্ঞানের ওপর বই লেখা হয় কম। স্কুল-কলেজে বিজ্ঞান শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে।

সব কিছু মিলিয়ে ছবিটা বন্ধ্যত্বের। সেটা তো বুঝলাম। কিন্তু এর থেকে অব্যাহতি পাওয়ার উপায়টা কী? উপায় হচ্ছে বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে ঐক্য গড়া। সাময়িক ঐক্য নয়, স্থায়ী ঐক্য চাই। সে ঐক্য গড়ার জন্য প্রয়োজন দেশপ্রেমের; যার নিদর্শন বিভিন্ন আন্দোলনে দেখা গিয়েছে, সর্বোচ্চ মাত্রায় পেয়েছি আমরা একাত্তরে। দেশপ্রেম বলতে মাতৃভূমির প্রতি তো অবশ্যই, তার চেয়েও অধিক মাত্রায় দরকার দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা। আর এই ভালোবাসার অর্থ মানুষ যেভাবে আছে তাকে সেই দুর্দশার ভেতর থাকতে দেওয়া নয়, তাকে যথার্থ অর্থেই মুক্ত করা। মুক্তিই কেবল পারে উন্নতি আনতে; তার বাইরে উন্নতির সব কথাই বাগাড়ম্বর মাত্র। দেশপ্রেম সম্ভব করে তোলে সর্বোত্তম বিনিয়োগ, যে বিনিয়োগে মানুষ আপন প্রাণ পর্যন্ত অর্পণ করতে প্রস্তুত থাকে। যে মুক্তির কথা বলছি তার নাম হচ্ছে সামাজিক বিপ্লব। এই বিপ্লবই কেবল পারবে_সৃষ্টিশীলতার প্রতিবন্ধক যে সমাজকাঠামো এবং পুঁজিবাদী অর্থনীতি ও তার মতাদর্শ_তাদের ভেঙে ফেলে মানুষের মধ্যে ঐক্য আনতে এবং সৃষ্টিশীলতাকে উন্মুক্ত করে দিতে। বলাই বাহুল্য, এ কাজ তথাকথিত সিভিল সোসাইটি করবে না। কেননা সিভিল সোসাইটি আর যাই করুক সামাজিক বিপ্লবে বিশ্বাস করে না। ওই বিপ্লবের প্রয়োজনে সমাজের কাঠামো এবং রাষ্ট্রের চরিত্র বদলে দেবে এমন কল্পনাতেও সে আতঙ্কিত হবে; এবং তার পৃষ্ঠপোষকরা তাকে দেওয়া সমর্থন প্রত্যাহার করে নেবে। সিভিল সোসাইটি যে পরিমাণে অরাজনৈতিক ঠিক সেই পরিমাণেই প্রতিবিপ্লবী। সেভাবেই আছে, থাকবে এবং কাজ করবে। গোলটেবিল করবে, তার বাইরে যাবে না। সমাজ বদলের কাজটা করবেন হৃদয়বান ও বিচক্ষণ মানুষরা। তাঁদের যুক্ত হতে হবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে, কেননা সাধারণ মানুষ যোগ না দিলে সমাজবিপ্লবের কাজ কিছুতেই সম্পন্ন হবে না। একাত্তরের যুদ্ধের মূল নায়ক কিন্তু সাধারণ মানুষই, তাঁরা সামাজিক পরিবর্তন চেয়েছিলেন, কিন্তু সব ধরনের আত্দত্যাগ করেও ওই লক্ষ্য অর্জন করতে পারেননি। কারণ তাঁদের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি ও সংগঠন ছিল না। সেই শক্তি ও সংগঠন গড়ে তোলা চাই।

লেখক : শিক্ষাবিদ ও সমাজ বিশ্লেষক

[ad#co-1]