আলু সংরক্ষণে কৃষকদের জিম্মি করার চেষ্টা

মুন্সীগঞ্জে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত
রেকর্ড পরিমাণ আলু চাষকে পুঁজি করে কোল্ডস্টোরেজ এ্যাসোসিয়েশন কৃষকদের জিম্মি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ৮০ কেজি ওজনের বস্তা প্রতি ২শ’ ৬০ টাকা হিমাগারের ভাড়া নির্ধারণ করে নিয়ে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। এই নিয়ে আলু উৎপাদনের সর্ববৃহৎ জেলা মুন্সীগঞ্জের সাধারণ কৃষকরা চরম ুব্ধ। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ নিয়ে জরুরী সভা বসে। সভায় বাজারকে অস্থিতিশীল করার জন্য কোল্ডস্টোরেজ এ্যাসোসিয়েশনকে দায়ী করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। এটি সরকারের বিরম্নদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র বলেও সভায় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক প্রতিনিধি ও কৃষক প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন।

সভায় গেল বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া নির্ধারণ করায় বাংলাদেশ কোল্ডস্টোরেজ এ্যাসোসিয়েশনের বিরম্নদ্ধে তীব্র নিন্দা প্রসত্মাব গ্রহণ করা হয়। এদিকে হিমাগারের ভাড়া নির্ধারণ সংক্রানত্ম বিষয়ে গত ২০ ও ২৫ ফেব্রম্নয়ারি জেলা প্রশাসকের সভা ক ে সভা বসে। মঙ্গলবার ভাড়া নির্ধারণের চূড়ানত্ম সভা ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার আলু সংরণে হিমাগারের ভাড়া নির্ধারণ সংক্রানত্ম এই সভায় হিমাগার মালিক বা কোল্ডস্টোরেজ এ্যাসোসিয়েশনের নেতারা অনুপস্থিত থাকেন। সভা শেষে সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক জানান, কৃষক ও জাতীয় স্বার্থে একতরফাভাবে এমন ভাড়া নির্ধারণকারীদের বিরম্নদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের সর্বসম্মত সিদ্ধানত্ম হয়েছে।

এ ব্যাপারে কোল্ডস্টোরেজ এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেজর (অব) মো. জসীম উদ্দীন রাতে গেল বছর কিছু হিমাগারে বসত্মাপ্রতি ১২০ টাকা আদায়ের কথা স্বীকার করে জানান, বসত্মাপ্রতি ২৬০ টাকা নির্ধারণ ঠিকই রয়েছে। কোল্ডস্টোরেজ এ্যাসোসিয়েশন এভাবে একতরফা ভাড়া নির্ধারণ করতে পারে কিনা এই প্রশ্নের তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি।

এদিকে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির আহ্বায়ক ড. ফেরদৌসী বেগম জানান, শুধু অতিরিক্ত ভাড়াই আদায় নয়, হিমাগারে আলু সংরণ করে সাধারণ কৃষকরা জিম্মি হয়ে পড়ে। হিমাগার মালিকদের ব্যাংক ঋণের কারণে সাফার হয় অনেক েেত্র সংরণকারীরা। সংরণের চুক্তিনামায়ও অনেক সমস্যা রয়েছে। সদস্য সচিব মহসীন মাখন বলেন, হিমাগারে যথাযথ তাপমাত্রা ও আলুর সঠিক মান নিয়ন্ত্রণেও মনিটরিং ব্যবস্থা থাকা উচিত।

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় কোল্ডস্টোরেজ এ্যাসোসিয়েশনের অতিরিক্ত ভাড়া নির্ধারণের কড়া সমালোচনা এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান আনিস, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ লুৎফর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল হোসেন, জেলার পিপি এ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন প্রমুখ। জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক একেএম আমিনুর রহমান এই সভা আহ্বান করেন। তিনি বলেন, এবার জেলায় ৩৬ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়। গত মৌসুমের চেয়ে এবার ১ হাজার মেট্রিক টন আলু বেশি আবাদ হবে বলে তিনি জানান। জেলার সাড়ে ৪ লাখ ধারণ মতার ৭১ হিমাগার রয়েছে। এর মধ্যে ৫৯টি হিমাগার চালু রয়েছে। বাকি হিমাগারগুলো সচলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এবার উৎপাদিত ১১ লাখ টন আলু নিয়ে যাতে কৃষক বিপাকে না পড়ে সে ল্যে আলু রফতানির ব্যবস্থা এবং স্থানীয়ভাবে আলু সংরণে কৃষকদের নিয়ে কর্মশালার নানা ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে। আলুর সঙ্গে অন্য কিছু সংরণ করা যাবে না।

[ad#co-1]