'কথা আগে না সুর আগে?'

চলচ্চিত্র, গান কিংবা নাটক তৈরির অন্তরালেও তৈরি হয় আরো এক নাটক, নতুন কোনো গল্প। না-বলা সেই সব ঘটনা কিংবা গল্প নিয়ে এ আয়োজনগতকাল প্রকাশ হয়েছে বালামের একক গানের নতুন অ্যালবাম ‘বালাম-থ্রি’। অ্যালবামটি প্রকাশ করেছে সংগীতা। অ্যালবামটি তৈরির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অন্তরালের গল্প বলছেন বালাম

গানের কথা আগে না সুর আগে? আমি বলব, সুর আগে। তবে কখনো কখনো ডিম আগে না মুরগি আগে তর্কের মতো অবস্থা হয়। আমি সবসময় গানের সুর আগে তৈরি করি তারপরে তৈরি হয় গানের কথা। পরে কথা লেখার একটি কারণ রয়েছে। আমি গান লিখতে পারি না। আমি সুরের মানুষ তাই সুর তৈরি করে ফেলি। স্টুডিওর আলো-আঁধারি পরিবেশে। বসে কাজ করি সারা রাত। কাজ শেষ করে বের হই ভোরে। কখনো কখনো সকাল ১০টাও বেজে যায়। এমনও হয়েছে সারা রাত গিটার আর কিবোর্ড নিয়ে বসে বসে আঙ্গুল দিয়ে টুনটুন শব্দ করে যাচ্ছি। মনের মতো সুর হচ্ছে না। তবু, আঙ্গুলের ছোঁয়ায় একটু একটু করে গেঁথে চলি মনের সুর! যখন পুরো সুরটা মনে ধরে, সেই সুরই হয়ে ওঠে গান। অ্যালবামটি করতে গিয়ে তিন মাস আমি অন্য কাজ করতে পারিনি। খাওয়া-দাওয়া, ঘুম আর কাজ_এর বাইরে আমার অন্য কোনো জগৎ ছিল না। মজার ব্যাপার হলো, এভাবে কাজ করতে গিয়ে আমি বেশ মুটিয়ে গেছি। এখন ভাবছি, কীভাবে ওজন কমাব।

অ্যালবামের জন্য আমি প্রথম সুর করি ‘একটু দাঁড়াও’ গানটি। প্রথম কণ্ঠও দিয়েছি এই গানে। আমি আবার আড্ডাবাজ টাইপের। কাজের ফাঁকে আড্ডা মারতে পছন্দ করি। মিলন মাহমুদ গান যেমন ভালো লেখেন তেমনি ভালো আড্ডাও মারতে পারেন। তিনি থাকলে সারা রাত খুব মজা করে কাটানো যায়। এই অ্যালবামে আমি আগের অ্যালবামগুলো থেকে কিছুটা ভিন্নতা এনেছি। প্রথমত সুরে, পরে সাউন্ড কোয়ালিটি ও যন্ত্রের ব্যবহারে। এবারের অ্যালবামে প্রেম-ভালোবাসা, চাওয়া-পাওয়া, চাওয়া না পাওয়া আবেগকে প্রাধান্য দিয়েছি।