তাসিন ও লামিসাকে কী সান্তনা দেবেন তাদের মা!

বিডিআর ট্র্যাজেডি
মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল, মুন্সীগঞ্জ ॥ এখনও আব্বু আব্বু বলে প্রায়ই কেঁদে ওঠে নয় বছরের তাসিন। তার বড় বোন এগারো বছরের লামিসা ভাইয়ের কান্না সহ্য করতে পারে না….। কি সানত্ম্বনা দেবে সে ভাষা তার জানা নেই। সান্তনা দিতে না পেরে সেও ভাইয়ের গলা জড়িয়ে ধরে কাঁদছে। তাদের এ কান্না দেখে কারোরই চোখের জল সংবরণ করা সম্ভব নয়। তাদের বাবা যে আর বেঁচে নেই_ এখনও এ বাস্তবতা বিশ্বাস করতে চায় না তারা।

পিলখানা বিডিআর সদর দফতর ট্র্যাজেডির শিকার মুন্সীগঞ্জের এ শিশু ভাইবোন। তাদের বাবা শহরের কোর্টগাঁওয়ের সনত্মান মেজর মাহমুদুল হাসান স্বপন (বিএ ৩৩৯৬)। তাদের এখনও বিডিআর সদর দফতরের জিম্মি অবস্থা এবং পরে মুক্তির কথা মনে পরে। বাবাকে ছাড়া পিলখানা থেকে বেরিয়ে আসার কষ্টের স্মৃতি আজও তাদের তাড়িয়ে বেড়ায়। তাদের মা আইরিন সুলতানা পিয়াও এ পুত্র-কন্যাকে নিয়ে স্বামীর স্মৃতি খুঁজে ফেরেন। তাসিন আদমজী ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র। শহীদ আনোয়ারা গালর্স স্কুল এ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী লামিসা। ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের মইনুল রোডে সরকারী বাসায় থাকে মায়ের সঙ্গে।

মেজর মাহমুদের মা প্রবীণ শিকিা আলহাজ মমতাজ বেগম এমপি পুত্র হারানোর কষ্টে এখনও কাঁদেন। আর ছোট ভাই তপন ভাইয়ের কষ্ট ভুলতে পারে না কোনভাবেই। এখনও শোকের কষ্টে নির্বাক থাকেন। মাহমুদুল হাসান স্বপনের মিলাদে অংশ নিতে সবাই শুক্রবার আসেন মুন্সীগঞ্জ শহরের কোর্টগাঁওয়ের বাসায়। আজ শনিবার বিকেলে জেলা শিল্পকলা মিলনায়তনে মাহমুদুল হাসান স্বপনসহ বিডিআর ট্র্যাজেডিতে সকল শহীদের স্মরণে আলোচনাসভার আয়োজন করেছেন মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোশারফ হোসেন। এতে মুন্সীগঞ্জের চার সংসদ সদস্য এবং সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেবেন।

আইরিন সুলতানা পিয়া সেই ট্র্যাজেডির ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, সর্বশেষ স্বামীর সঙ্গে মোবাইলে কথা হয় তাঁর ঘটনার দিন বুধবার বেলা পৌনে ১২টায়। তখন তিনি জানাতে চেয়েছিলেন, জওয়ানরা কোয়ার্টারের সামনে ঘোরাঘুরি করছে কিনা? কিন্তু এর উত্তর আর জানানো সম্ভব হয়নি। জানানোর আগেই দরজা ভেঙ্গে তাদের কোয়ার্টার গার্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় মেজর মাহমুদুল হাসান ফোন করে জানান, দরবার হলে তাঁদের আটকে রাখা হয়েছে, বাসার দরজা-জানালা বন্ধ করে সাবধানে থাকার জন্য বলেন। সেই শেষ কথাগুলো মনে করতেই স্বজনরা কাঁদেন…. । মেজর মাহামুদুল হাসান স্বপন চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন বনানী কবরস্থানে।

এ ট্র্যাজেডিতে মুন্সীগঞ্জ জেলার তিন সেনা কর্মকর্তা শহীদ হন। বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন আরেক শহীদ মেজর মোশারফ হোসেন দেওয়ান। গজারিয়া উপজেলার মিরেরগাঁও এ পারিবারিক কবরস্থানে কয়েক বছর আগে তাঁর পিতা আ. মতিন দেওয়ানকে তিনিই দাফন করেছিলেন। তাঁর ছোট ভাই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন ভাইয়ের এমন মৃতু্যর পর এখনও কাঁদেন। স্ত্রী লিপি আক্তারের কান্না আজও থামেনি। আপন মামাত বোন স্ত্রী লিপিও বিডিআর সদর দফতরে জিম্মি ছিলেন। ছেলে আকিব হোসেন বাবাকে এখনও খুঁজে ফেরে। স্থানীয় ভাটেরচর দেওয়ান আ. মান্নান পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র ছিলেন মোশারফ। এ এলাকার মানুষের কাছে অতি প্রিয় ব্যক্তি তিনি।

[ad#co-1]